অলোক আচার্য, কলকাতাঃ- প্রয়াত রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত শিল্পী পিলু ভট্টাচার্য। ফের নক্ষত্র পতন বাংলা সংগীত জগতে। প্রয়াত সংগীত শিল্পী পিলু ভট্টাচার্য। বেশ কিছুদিন ধরেই বুকে ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন খ্যাতনামা এই শিল্পী। দিন কয়েক আগে বাড়ি ফিরেছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতেই আচমকাই বুকে ব্যাথা শুরু হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যু কালে বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।

এদিন সংগীত শিল্পী পিলু ভট্টাচার্যের ছেলে ঋতর্ষি ভট্টাচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবার মৃত্যু সংবাদ দিয়ে বলেন অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমার বাবা পিলু ভট্টাচার্য আজ আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তার আত্মার শান্তি কামনা করুন। উল্লেখ্য ২০১৫ সালে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। প্রবাদ প্রতিম শিল্পীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইন্ডাস্ট্রিতে।

বর্ষীয়ান সংগীত শিল্পীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জোজো, রিঙ্গো বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একাধিক তারকা। বন্ধু সংগীত শিল্পীর মৃত্যুর খবর পেয়ে জোজো সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন পিলু এটা ঠিক হল না বন্ধু।

ছোট বেলায় কাটিয়েছেন উত্তর কলকাতায়। পড়াশোনার পাশাপাশি গানকে চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। প্রথম জীবনে কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে ধীরে ধীরে কিছুটা নাম যশ অর্জন করেন। কেরিয়ারের শুরুতে অনেকটা সংগ্রাম করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে ছবিতে একের পর এক হিট গান গেয়েছেন। বিশেষ করে প্যারোডি গান ও মজার গানের জন্য খ্যাত তিনি। এরপর নিজেই গান লিখতে শুরু করেন।

তাঁর মৌলিক গানের অ্যালবাম রাতারাতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ২০০৭ সালে তাঁর রাধামাধব অ্যালবাম প্রচুর সমাদার পেয়েছে দর্শকদের কাছে। জলছবি, কান্দিয়া আকুল, চল যাই এর মতো একাধিক হিট গান তৈরি করেছেন প্রবাদ প্রতিম এই সংগীত শিল্পী।

গানের পাশাপাশি খেলাধূলোর প্রতি একটা তীব্র আকর্ষন ছিল তার। ২০১৯ সালে ভারতীয় দলের জন্য ইন্ডিয়া জিতে গা গানটি গেয়েছিলেন। দিয়েগো মারাদোনার সামনে গান গেয়ে তাঁর প্রশংসা পেয়েছিলেন। তাঁর জীবনাবসানে শোকের ছায়া বাংলা সংস্কৃতিক মহলে।

ডিজিটাল মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত রায় জানিয়েছেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে সকল সদস্যদের উদ্দেশ্যে জানাচ্ছি ডিজিটাল মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট গায়ক পিলু ভট্টাচার্য পরলোকগমন করেছেন। তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা করি। প্রতিভাবান এই গায়কের অকাল প্রয়াণে অপূরণীয় ক্ষতি হলো সংগঠনের। যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। পিলু ভট্টাচার্যের শোকস্তব্ধ পরিবারকে জানাই সমবেদনা।