অলোক আচার্য, কলকাতাঃ- চলে গেলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ চন্দন মিত্র। বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। বুধবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চন্দন মিত্রের প্রয়াণের খবর দিয়েছেন তাঁর পুত্র কুশল মিত্র। বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং রাজ্যসভার সংসদ চন্দন মিত্রের প্রয়ানে শোক বার্তা মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রীরও |

বুধবার গভীর রাতে দিল্লিতে তাঁর মৃত্যু হয়। চন্দনবাবুর বয়স হয়েছিল ৬৫। বাবার মৃত্যুর খবর ছেলে কুশন মিত্র টুইট করে জানান। টুইটে তিনি লেখেন, ‘গত রাতে বাবার মৃত্যু হয়েছে।

‘পাইওনিয়র’ পত্রিকার এডিটর-ইন-চিফ চন্দনবাবু দ্য স্টেটসম্যান, দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, দ্য সানডে অবজারভার, হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকায়ও কাজ করেছেন। সাংবাদিক হিসেবে যথেষ্ট খ্যাতি ছিল তাঁর। ‘দ্য পায়োনিয়ার’ পত্রিকার ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সম্পাদক ছিলেন চন্দনবাবু। কলকাতায় স্টেটসম্যান হাউজের সাংবাদিক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন চন্দন মিত্র। কিছুদিনের জন্য হংসরাজ কলেজে অধ্যাপনাও করেছিলেন তিনি। টাইমস অফ ইন্ডিয়া, দ্য সানডে অবজারভারের মত সংবাদমাধ্যমে গুরুদায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তাঁর বাল্যবন্ধু, বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত।

তিনি লেখেন, “আমি আমার প্রিয়তম বন্ধু, পাওনিয়ার পত্রিকার সম্পাদক এবং প্রাক্তন সাংসদ চন্দন মিত্র-কে হারালাম।” দুবছরের বেশি সময় ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। শোকাতুর স্বপন দাশগুপ্ত আরও লিখেছেন, “আমরা সেই লা মার্টিনিয়ারের স্কুল জীবন থেকে বন্ধু। একসঙ্গে সেন্ট স্টিফেন্স (দিল্লি) এবং অক্সফোর্ডেও গিয়েছিলাম আমরা। এমনকী আমরা সাংবাদিকতাও শুরু করি একসঙ্গে। অযোধ্যায় গেরুয়া ঝড় নিয়ে আমরা বহু অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছিলাম।”

চন্দন মিত্র তাঁর বুদ্ধিমত্তা এবং দূরদর্শীতার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। সাংবাদিকতা এবং রাজনীতি- দুটি জগতেই তিনি মান্য ছিলেন। বিজেপির টিকিটে দু’বার সংসদ নির্বাচন হন তিনি। ২০০৩ সালের রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে মধ্যপ্রদেশ থেকে সাংসদ হন তিনি। ২০১৮ সালে চন্দন মিত্র মন বদলে তৃণমূলে যোগ দেন। ২০০৩-২০০৯ পর্যন্ত রাজ্যসভার মনোনীত সদস্য ছিলেন চন্দন। বিজেপির প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন রাজ্যসভার প্রাক্তন চন্দনবাবু। ২০১০-এর জুনে মধ্যপ্রদেশ থেকে নির্বাচিত করে চন্দনকে রাজ্যসভায় পাঠায় বিজেপি। ২০১৬-তে তাঁর সাংসদ পদের মেয়াদ শেষ হয়। তবে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের নেতৃত্বকে মন থেকে মেনে নিতে পারেননি চন্দনবাবু। সে কারণে বিজেপির সঙ্গত্যাগ করে ২০১৮-তে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বর্ষীয়ান সাংবাদিক চন্দন মিত্র প্রথম দফায় ২০০৩ থেকে ২০০৯ ও এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১০ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। প্রথমবার রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য হিসাবে এবং দ্বিতীয়বার বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হন তিনি। তবে, রাজ্যসভার সাংসদ হলেও সরাসরি নির্বাচন অংশ নিয়ে হারের মুখ দেখেন তিনি। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে হুগলি কেন্দ্র বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। পরে দলের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে যোগ দেন এরাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে। ২০১৮ সাল থেকে তৃণমূলের সদস্য ছিলেন বর্ষীয়ান এই সাংবাদিক।

তাঁর মৃত্যুতে এদিন সকালেই শোকবার্তা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরে জানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সাংবাদিক তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী টুইটে লেখেন, “প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের জন্য চন্দন মিত্রকে মনে থাকবে। সাংবাদিকতা এবং রাজনীতি, দু’ক্ষেত্রেই তিনি সম্মান অর্জন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর ভাবে শোকাহত। পরিবার ও অনুরাগীদের সমবেদনা জানাই। ও শান্তি।” ‘চন্দন মিত্রকে দেশ মনে রাখবে তাঁর জ্ঞান ও মেধার জন্য। চন্দন মিত্র সাংবাদিক ছাড়াও রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠি করেন। ওনার মৃত্যুতে আমি শোকাহত। পরিবারের প্রতি রইল আমার সমবেদনা।’ চন্দন মিত্রের প্রয়াণে শোকাহত বিজেপি নেতা তথা আরেক রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তও। টুইটে তাঁর বক্তব্য,”নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে হারালাম।”

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও শোকবার্তায় জানিয়েছেন, ‘বিশিষ্ট সাংবাদিক চন্দন মিত্রের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি গতরাতে দিল্লিতে প্রয়াত হন। ‘পাইওনিয়র’ পত্রিকার এডিটর-ইন-চিফ চন্দনবাবু দ্য স্টেটসম্যান, দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, দ্য সানডে অবজারভার, হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকায়ও কাজ করেছেন। তিনি দুবার রাজ্যসভার সাংসদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সমাজ- সংবাদের ভাষ্যকার চন্দনবাবুর প্রয়াণ সাংবাদিকতার জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি চন্দন মিত্রের আত্মীয় পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’