করোনা কে হারিয়ে যুদ্ধ জয় করে ঘরে ফিরল ছয় ও দশ মাসের শিশু

0

অগ্নিভ ভৌমিক, বিশেষ সংবাদদাতাঃ- যত বড়ো হও/ তুমি তো মৃত্যুর চেয়ে বড়ো নও/ আমি মৃত্যু-চেয়ে বড়ো, রবি ঠাকুরের এই লাইনটা খুব মনে পড়ছে। কে বলে এই যুদ্ধে শুধু মানুষ মরে। করোনার চোখে আঙুল রেখে তাকে যুদ্ধে পরাজিত করে বাড়ি ফিরল মুম্বাইয়ের ৬ মাসের শিশুটি। এ যেন শুকনো কাঠফাটা রোদ্দুরে এক ফোঁটা বৃষ্টির মতো যা চাষীর চোখে আশার আলো দেখায়। কিংবা কোনো ম্যাচের সেই মুহূর্ত যা হেরে যাওয়া দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। বাঁচার লড়াইয়ে ইচ্ছার আগুনে ঘি ঢালে।

ঠিক যেন সেই চরিত্রই পালান করলো মাস ছয়ের দুধের শিশুটি। সাম্প্রতি সে করোনায় আক্রান্ত হয়। করোনার কুনজর এড়াতে পারেনি সেও। হাসপাতালে ভর্তির সময় সে জানতও না তার ছোট্ট শরীরে বাসা বেঁধেছে সেই ভয়ঙ্কর জীবাণু। যার করাল গ্রাস থেকে রেহাই পায়নি তাবড় তাবড় দেশও। সমগ্র বিশ্বকে মৃত্যু মিছিল দাঁড় করিয়ে দিয়ে আজও সে ক্ষান্ত হয়নি। কিন্তু এইসবকে তোয়াক্কা না করে দিব্যি হাত পা নেড়ে খেলে বেড়াচ্ছিল সেই ছোট্ট কমরেড। কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। চোখে ভয়ের লেশ মাত্র নেই। ঠিক যেন ছোট্ট নেপোলিয়ান। যার হাতে তখনও ভবিষ্যতের রেখা নেই।

অন্যদিকে পরিবার-পরিজন, এমনকী চিকিৎসকরাও তাঁকে নিয়ে বেজায় চিন্তায় ছিল। কারণ এই বিভীষিকার বিরুদ্ধে লড়াই করা ক্রমশ দুষ্কর হয়ে পড়ছিল এই মনুষ্য প্রজাতির পক্ষে।
অবশেষে শনিবার, যুদ্ধে বিপক্ষকে সম্পূর্ণ পরাজিত করছ বাড়ি ফিরে সে। ওই শিশুর বাড়ি মুম্বইয়ের কল্যাণ এলাকায়।
শনিবার আবাসনে পৌছাতেই প্রতিবেশীর ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানায় তাঁদের।

সাম্প্রতি সমগ্র দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত মহারাষ্ট্র। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রে নতুন করে ১৩৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু পাওয়া গিয়েছে। আক্রান্ত ছাড়িয়েছে হাজারের গন্ডি, প্রায় পনেরোশো ছুঁই ছুঁই। মৃত্যুও নেহাত কম নয়।

কিন্তু এইরকম দুর্দিনেও, বাঁচার লড়াইয়ে কিভাবে বাজী মারতে হয় তা দেখিয়ে দিয়ে গেল এই সদ্যোজাত শিশুটি। সমান দাড়িপাল্লায় চিকিৎসাকরাও। হার না মানা সৈন্যের মতো লড়ছে তাড়াও, যুদ্ধ জয়ের অঙ্গীকারে। সারা দেশে সারিয়ে তুলেছে সাতশোর বেশি করোনা আক্রান্ত রোগীকে।

তবে, শুধু এই শিশুটিই নয়, কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছে দক্ষিণ কন্নড়ের মাত্র ১০ মাস বয়সি এক শিশুও। শনিবার (১১ এপ্রিল) হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কর্নাটকে ওই একরত্তিই রাজ্যে সবথেকে কনিষ্ঠ করোনা আক্রান্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

8 − 3 =