২০১৮-১৯ অর্থবর্ষের আর্থিক ফলাফল নিয়ে কলকাতা ইউকো ব্যাংকের সদর দফতরে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলন

0

সমীর দাস, কলকাতাঃ- ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষের ত্রৈমাসিকে ইউকো ব্যাংকের ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৯৯৮.৭৪ কোটি টাকা। যদিও গত আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের তুলনায় ক্ষতি বেড়েছে। কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ গত আর্থিক বছরের শেষ ত্রৈমাসিকে কমেছে ৯৬০.১৭ টাকা। বৃহস্পতিবার কলকাতার ইউকো ব্যাংকের সদর দফতরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে একথাই জানালেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও অতুল কুমার গোয়েল। তিনি বলেন, চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ইউকো ব্যাংকের নিট অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ প্রদত্ত ঋণের অনুপাত ৬ শতাংশ বা ২০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াবে বলে তাঁর ধারণা। পি সি এ থেকে মুক্ত হওয়ার এটাই পথ। অনাদায়ী আদায়ের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত নিয়ামকের ওপর নির্ভর করছে। পরিচালন ব্যবস্থার নৈপুণ্যে ব্যাংকের মুনাফা গত অর্থবর্ষের একই পর্বের তুলনায় তিনগুণ বেড়ে ১,২১১ কোটি টাকা হয়েছে।

গত আর্থিক বছরের শেষ তিন মাসে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ৩৮১ কোটি টাকা। অতুল গোয়েল বলেন, এসার স্টিল, প্রয়াগ রাজ, রতন পাওয়ার এবং রুচি সোয়া এই চার সংস্থার কাছে মোট পাওনা ছিল ১,৪৬৭ টাকা। এর মধ্যে আদায় করা গেছে ৯৫৬ কোটি টাকা। মুনাফা থেকে ৯৩১ কোটি টাকা সরিয়ে রাখতে হয়। যার ফলে মুনাফার ওপরে ৪২০ কোটি টাকার প্রভাব পড়েছে। এই মুহূর্তে ১৯৫ টি অনাদায়ী ঋণ একাউন্ট ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইব্যুনালের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৩ টি একাউন্ট গৃহীত হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে ব্যাংকের পাওনা ছিল ২৪,৩৬৮ কোটি টাকা। ঋণ আদায় ও মকুবের পর সেই অঙ্ক এখন ১৯,৯৭৩কোটি টাকা হয়েছে।

২০,৬৭৯ কোটি টাকা থেকে বকেয়া কমে হয়েছে ১৫,৮১১কোটি টাকা।
ব্যাংকের প্রধান আধিকারিক অতুল কুমার গোয়েল আরও বলেন, গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষিত করতে এবং অনাদায়ী ঋণ আদায় বাড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর তাও বাড়াতে হবে। বিষয়টি নিয়ে এক্সপেরিয়ান নামে এক রেটিং সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। গ্রাহকদের সব তথ্য এমনকি গ্রাহকরা কতবার মোবাইল নম্বর বদলেছেন সে তথ্যও ব্যাংক এর উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে পেয়ে যাবে।

এই মুহূর্তে ব্যাংক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৬০০ টি এ টি এম বসিয়েছে। এছাড়া এস এম এ র সুযোগ, কার্ডহীন এ টি এম পরিষেবা, অ্যাপ এর মাধ্যমে নমিনেশন ,মেয়াদি আমানত পুনর্নবীকরণ, চেক বইএর অনুরোধ পাঠানো, টি ডি এস সার্টিফিকেট প্রদানের মতো পরিষেবা দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। আন্ডার রাইটিং, রিকভারির মতো কাজে অনলাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ইউকো ব্যাংক আশা করে আগামী আর্থিক বছরে আর বি আই প্রম্পট কারেক্টিভ অ্যাকশান (পি সি এ) থেকে বেরিয়ে আসবে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nineteen + three =