বিশেষ সংবাদদাতা :- সংবিধানের উপর সংগঠিত আঘাত, ৭ সেপ্টেম্বর দেশ জুড়ে বিক্ষোভের ডাক বামেদের। ভারতের ভূখণ্ডে থাকা কাশ্মীরকে এতদিন পাকিস্তান বলত, ভারত অধিকৃত কাশ্মীর। ৩৭০ ধারা বিলোপের পর সিপিএমের পলিটব্যুরোর মত, ভারত রাষ্ট্র এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করল, তাতে মনে হচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীরটা যেন একটা অধিকৃত অঞ্চল। সিপিএম –সহ একাধিক বাম দলের মতে, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা শুধু জাতীয় ঐক্যের উপর বিরাট আঘাত নয়, এটা ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর সংগঠিত আক্রমণ।

সিপিএম, সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক, সিপিআইএমএল লিবারেশনের মতো একাধিক বামদল সোমবার বিকেলে নয়াদিল্লির সংসদ মার্গে বিক্ষোভ মিছিল করে। সমস্ত বাম দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দেশ জুড়ে কাশ্মীর ইস্যুতে আন্দোলনে নামবে তারা।

সিপিএম পলিটব্যুরো একটি বিবৃতিতে বলেছে, “ভারতের বহুত্ববাদ সারা দুনিয়ায় স্বীকৃত। বিজেপি আর আরএসএস এই বহুত্ববাদকে সহ্য করতে পারছে না। সহ্য করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্রীয় ধারনাকেও। তারা জম্মু ও কাশ্মীরকে দখলিকৃত এলাকা বানাতে চাইছে। সংবিধানকে তছনছ করে তারা জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে।”

সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, “একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে ৩৭০ ধারা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা (স্পেশাল স্ট্যাটাস) দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও আলোচনা ছাড়াই যে ভাবে সরকার বিল পাশ করিয়ে সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারাকে মুছে দিল।, তা থেকে স্পষ্ট দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার।” তিনি আরও বলেন, “সংবিধান এবং ইতিহাসের মধ্যে একটা সেতুবন্ধন ছিল। আজ সেটাই ভেঙে দেওয়া হল।” পলিটব্যুরোর আর এক সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেন, “যে ভাবে রাতের অন্ধকারে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী, কার্যত একই কায়দায় কাউকে কিছু না জানিয়ে এমন কাণ্ড করলেন মোদী, অমিত শাহ।”