সানওয়ার হোসেন, কলকাতা :- আজ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন। ৫৭ বছরে পা দিয়েও এখনও যুবকই রয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সুপারস্টার বুম্বাদা! আজকের দিনের বেশ কিছুটা সময় কাটালেন এইচ আই ভি আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে! প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সঙ্গে সেই বিশেষ মুহূর্তে ছিলেন জয় বিশ্বাস আপনাদের সামনে তুলে ধরলেন সেই বিশেষ মুহূর্তের কথা।কোথায় আছে প্রত্যেক বছর জন্মদিনে বুম্বাদার এক বছর করে কমে যায়! কারণ তিনি প্রতিবছরই যেন আরো যুবক হয়ে যান! এবারেও তার ব্যতিক্রম ঘটলো না। এবছর বুম্বাদা ৫৭ বছরে পা দিলেন। কিন্তু তার চেহারা ,তার গ্ল্যামার এবং তার হাঁটা-চলার ভঙ্গি বলে দিচ্ছে বছর তিরিশের এক যুবক তিনি! এই বয়সেও তার গ্ল্যামার বাংলা ইন্ড্রাস্ট্রি তো বটেই এমনকি নামকরা বলিউড অভিনেতাদেরও হার মানাবে।ঘড়ির সময় তখন বলছে প্রায় দুটো ছুঁইছুঁই বুম্বাদার জন্য সোনারপুরে আনন্দঘর নামক একটি এইচ আই ভি আক্রান্ত শিশুদের হোমে অপেক্ষা করে রয়েছি। দুটো পাঁচ নাগাদ বুম্বাদা তার সাদা রংয়ের প্রিয় গাড়িটি থেকে ঘিয়ে রংয়ের পাঞ্জাবি চোখে সানগ্লাস পড়ে যখন নামলেন মনে হল এক বছর তিরিশের তরুণ সামনের দিকে এগিয়ে আসছে । সত্যি এই বয়সে তার এত গ্ল্যামার নিজের চোখে না দেখলে কখনো বিশ্বাস করা যায় না। হবেই বা না কেন? বছরের প্রত্যেকটি দিনই যে মানুষটি শসা আর টক দই খেয়ে কাটিয়ে দিলো শুধুমাত্র আমাদের ভালো সিনেমা উপহার দেবে বলে। সেই মানুষটি এই বয়সেও এতো যৌবন ধরে রাখবে সেটাই বাস্তব।গাড়ি থেকে নামার পর বুম্বাদা প্রথমে কিছুক্ষণ এইচআইভি আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে আড্ডা মারলেন । এবং তার আসতে একটু দেরি হয়েছে সেটা নিজের মুখে স্বীকার করে নিলেন। দেরি হয়েছে বলে একটুও আক্ষেপ নেই ক্ষুদে শিশু এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে। আক্ষেপ হবেই বা কেন? কিছু সময় কেন? তাকে দেখার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে পারে মানুষ। কারণ তিনি আর কেউ নন তিনি বাংলার এবং বাঙালির মনেপ্রাণের অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। যিনি বিগত চল্লিশ বছর ধরে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে ধরে রেখেছেন এবং বিগত চল্লিশ বছর ধরে আমাদের একের পর এক ভালো সিনেমা উপহার দিয়ে গেছেন এবং বর্তমানে দিচ্ছেন। বাংলা চলচ্চিত্রশিল্পের দুর্দিনেও তিনি বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির জন্য কাজ করে গেছেন । আজও তিনি বাংলা সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন এই বয়সেও অভিনয় দেখতে সিনেমা হলের বাইরে লম্বা লাইন পরে। এমন একটি ব্যক্তিত্বের জন্য গোটা দিনটাই অপেক্ষা করা যায়।আড্ডার পর আজকের দিনে যেটা করতেই হয় সেটা হলো কেক কাটা তাই বুম্বাদার কেক কাটার জন্য আমরা অপেক্ষা করছিলাম অবশেষে বুম্বাদা কেক কাটলেন এবং সেই কেক শিশুদেরকে নিজে হাতে খাইয়ে দিলেন! কেক কাটার পর আনন্দ ঘরের পক্ষ থেকে শিশুদের পুজোর জামা কাপড় তুলে দিলেন তিনি । আগে থেকেই বুম্বাদার জন্য জন্মদিন উপলক্ষে পায়েস করে রাখা ছিল একটি শিশুর হাতে এক চামচ পায়েস মুখে নিলেন তিনি।সবশেষে এইচআইভি শিশুদের নিজের হাতে দুপুরের খাবার পরিবেশন করলেন । এবং খাবার পরিবেশন করতে করতে শিশুদের উদ্দেশ্যে বললেন বুঝতে পেরেছি তোমাদের আজ খেতে দেরি হয়ে গেল তোমাদের খুব খিদে পেয়েছে! সত্যিই এ যেন এক অন্য রূপে ধরা দিলেন যাকে আমরা টিভির পর্দায় সিনেমার পর্দায় দেখে থাকি যিনি বাংলার সুপারস্টার সেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আজ যেন আমাদের মধ্যে মিশে রইলেন সারাদিন। এবং মিশে রইলেন হৃদয়ের চিলে কোঠায় আগামী দিনগুলির জন্য।