সংবাদদাতা, বসিরহাটঃ- চায়ের দোকানে বিবাদকে কেন্দ্র করে এক ভারসাম্যহীন বাচ্চাকে খুঁজে পেল পরিবার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চা খাবার পর এক বাচ্চা পকেট থেকে ৫০০ টাকা বের করে দোকানদার কে দেয়। তখনই দোকানদার বলেন তার কাছে খুচরো পয়সা নেই। সে যেন খুচরো পয়সা দেয়। তখনই সে আরেকটি পকেট থেকে ৫০০ টাকার নোট বের করে ওই দোকানদারকে দেয়। চায়ের দোকানদার তখন ক্ষিপ্ত হয়ে বাচ্চাটিকে বকাবকি করতে থাকে। চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে ওই বাচ্চা। স্থানীয় চায়ের দোকানে বসা মানুষজন ঘিরে ধরে ওই বাচ্চাটিকে জিজ্ঞাসা করে নাম এবং বাড়ি কোথায়। কিন্তু কিছু না বলে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে সে। তখনই স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। এরপর বাচ্চা ঠিক উপরে ধমকাতে থাকে ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে কেঁদে ফেলে বাচ্চাটি। তখনই কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দারা বাচ্চাটির কাছে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞাসা করে বাড়ি কোথায় সে হাত নাড়িয়ে নানান রকম আকার-ইঙ্গিত করতে থাকে।

এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা বুঝতে পারেন বোবা কথা বলতে পারে না বাচ্চাটি। এরপর তার ব্যাগ এবং প্রকট ঠিকানার খোঁজ করতে গিয়ে দেখা যায় পকেটে ৫০০ টাকার নোট ২৩ হাজার টাকা আছে। এবং হাতে হিন্দি অক্ষরে নাম লেখা আছে। এই দেখেই বুঝতে পারেন যে বাইরের রাজ্য থেকে ভুলবশত চলে এসেছে এই বাচ্চাটি। অবশেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে হ্যাম রেডিওর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। বিহারের পার্টনার পাথর হাটা গ্রামে খোঁজ পান বাচ্চাটির বাবা মাকে। সেইখান থেকে জানা যায় নাম ধীরাজ কুমার বয়স ১১ বছর বাচ্ছাটির। এরপর ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সাথে বাচ্চার কথা বলান স্থানীয় বাসিন্দারা ।

এই বিষয়ে হিঙ্গলগঞ্জের বাজার কমিটির সম্পাদক সুশান্ত বিশ্বাস জানান, দুলদুলি বাজারে এই বাচ্চাটিকে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা এরপর হিঙ্গলগঞ্জ পুলিশের কাছে তাকে তুলে দেয়। হিঙ্গলগঞ্জ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুশান্ত বাবুর সাথে যোগাযোগ করেন। কারণ এর আগেও সুশান্ত বাবু অনেক ভবঘুরেকে হ্যাম রেডিও ও নিজের উদ্যোগে বহু ভবঘুরেকে ঘরে ফিরেছেন। এরপর সুশান্তবাবু ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চেষ্টায় ঘরে ফিরতে পারলো ভবঘুরে বাচ্চাটি।

এই বিষয়ে হ্যাম রেডিও রাজ্য সম্পাদক অম্বরিশ নাক বিশ্বাস জানান, দীর্ঘ সময় ধরে মূক ও বধির বাচ্চাটিকে গ্রামের ঠিকানা খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম আমরা। অবশেষে তার পরিবারের খোঁজ পেয়ে আজ বিকালে পরিবারের হাতে তুলে দিতে পারলাম বাচ্চাটিকে।