দীর্ঘদিন ধরে হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রাম তীব্র জল সংকটে ভুগছে

0
Advertisement

সুজয় মণ্ডল, বসিরহাটঃ- হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রাম তীব্র জল সংকটে ভুগছে। বর্তমানে যে সমস্ত গ্রামে ভ্যাট আছে, তা অধিকাংশ সময় সেই সমস্ত ভ্যাটে জল-সরবরাহ বন্ধ থাকে। ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় মানুষ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হন। স্থানীয় যে সমস্ত ভ্যাট আছে যেমন- বোলতলা ,কাটাখালি, কেওড়া খালি ,বিশ নম্বর এর মত ভ্যাট গুলিতে যে বিশাল লাইন পরে। তাতে শেষ প্রান্তের জল সংগ্রহকারীরা অনেক সময় জল নেওয়া থেকে বঞ্চিত হয় যেহেতু জল আর থাকেনা। বরুনহাট এর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ কলসি, প্লাস্টিকের ব্যারেল নিয়ে পানীয় জল সংগ্রহ করতে যায়।

ওই সমস্ত ভ্যাটে ফলে জল সংগ্রহ করতে ব্যাপক ভিড় পড়ে। লাইনের শেষে যারা থাকেন তারা অনেক সময় এক ব্যারেল জল থেকে বঞ্চিত হয়। সাইকেলে ব্যারেল বা কলসি বেঁধে তিন চার কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে যারা বরুনহাট রামেশ্বরপুর থেকে জল সংগ্রহ করতে যায় তারা অনেকেই জল না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসে।

ভ্যাট এর কাছাকাছি স্থানীয় বাসিন্দারা পানীয় জল নেওয়ার জন্য কলসি, বালতি, পট বেশি পরিমাণে লাইনে রেখে যায় ফলে দূর দূরান্ত থেকে আসা জল সংগ্রহকারীরা জল নিতে পারেন না। এই ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে ঘটে আসছে এই সমস্ত এলাকায়। এর ফলে যে সমস্ত দূর দুরন্ত থেকে আসা জল সংগ্রহকারী তাদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। তাই ঐ সমস্ত বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ এই জল সংকট থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায় তারবিহীত ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানাচ্ছেন।

এই বিষয় নিয়ে স্থানীয় কেওড়া খালির বাসিন্দার আশা ভূঁইয়া জানান, বাড়িতে রান্না খাওয়া কাজকর্ম বন্ধ করে দীর্ঘক্ষন আমরা এই জল নেওয়ার জন্য বসে থাকি, যার ফলে আমাদের বাড়ির কাজকর্ম ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এই বিষয়ে বরুনহাট এর বাসিন্দা শিক্ষক রাজেশ লস্কর জানান যে সমস্ত ভাইয়েরা এবং মায়েরা সাইকেলে এবং অন্য গাড়ি করে জল আনতে যান দীর্ঘক্ষন সময় নষ্ট হওয়ায় বাড়ির কাজ কর্ম তো হয় না তার সাথে যে সমস্ত ছেলেমেয়েরা ইস্কুলে পড়াশোনা করে তারা ঠিকঠাক সময় রান্না না হওয়ায় স্কুলে যেতে সমস্যা হয় এর ফলে পড়াশুনো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই সমস্ত এলাকার পড়ুয়াদের।

এই বিষয়ে হিঙ্গলগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধক্ষ্য পরিমল বিশ্বাস জানান, বিষয়টা দীর্ঘদিনের ওই সমস্ত এলাকায় মাটির তলায় জলস্তর না থাকায় এই সমস্যাগুলো ঘটছে তবুও আমরা জল সরবরাহ করার সময়টা বাড়াবার চেষ্টা করব এবং ভ্যাটের সংখ্যা যাতে বাড়ে সেই ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

three × 5 =