নিজস্ব সংবাদদাতা :- বুলবুলের তাণ্ডবের পর বিশেষ করে উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণার সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের নদীর বাঁধ গুলোর অবস্থা খুবই বিপদজনক। বিশেষ করে হাসনাবাদের একাধিক জায়গায় ও হিঙ্গলগঞ্জের রায়মঙ্গল, কালিন্দী নদী, ইচ্ছামতী, ছোট কলাগাছি, বেথুনী, গৌড়েশ্বর, সাহেব খালি, নদী বাধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যাতে বড়োসড়ো বিপর্যয় না হয়। তার জন্য সুন্দরবন লাগোয়া নদীর ধারে বসবাসকারী বেশ কয়েকটি অঞ্চলের মানুষ আজ মঙ্গলবার দুপুরবেলায় হাসনাবাদ বিডিও অফিসে বাধ সারাইয়ের দাবীতে বিক্ষোভ ও দেখান এবং স্মারকলিপি জমা দেন। এ বিষয়ে হিঙ্গলগঞ্জ স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক শচীন্দ্র নাথ মন্ডল বলেন, সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলির নদী বাঁধের অবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আশঙ্কাজনক । বিশেষত হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের রায়মঙ্গল নদী সংলগ্ন রমাপুর, সরদারপাড়া ঘাট ,গৌড়েশ্বর নদীর ধারে ভান্ডার খালি সুইচ গেট ও দক্ষিণ রুপামারি সুইচগেট এর পাশে, ডাসা নদীর হলদা বাশতলা, বাইনাড়া খেয়া ঘাটের পাশে, এছাড়া সন্দেশখালি, তুষখালী, হাসনাবাদের মোহনপুর প্রভৃতি জায়গায় নদী বাঁধের অবস্থা বেশ খারাপ। ২০০৯ সালে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ আয়লা পরবর্তী সময়ে কংক্রিট ভাবে নদী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ সরকারিভাবে গ্রহণ করা হলেও আজও সেই কাজ বহুলাংশে হয়নি। বাঁধ ভাঙ্গলে সাধারণ মানুষের যে কি অবস্থা হয় তা তারাই জানে। আর সেই কারণে বিভিন্ন ব্লকে ব্লকে মানুষ প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছে ।নদী বাঁধ নির্মাণ যাতে কংক্রিট ভাবে হয় সে বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছে। পূর্বে ইরিগেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে এই নদী বাঁধ গুলি দেখাশোনা করার ব্যবস্থা ছিল।কোথাও নদী বাঁধ ভাঙ্গলে বা ভাঙ্গার উপক্রম হলে প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে উপর মহলে জানোতো নদী বাঁধ দেখভালকারি বেলদাররা।এর ফলে সেসময় সরাসরি তারা নদী বাঁধ রিপেয়ারিংয়ের ব্যবস্থা নিতেন।কিন্তু বর্তমানে তা আর নেই, বর্তমানে নদীবাঁধ দেখভাল করার প্রাথমিক দায়িত্ব স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপর।সমস্ত পঞ্চায়েত গুলি এ বিষয়ে যদি ঠিকঠাক দেখাশোনা না করেন তাহলে প্রতিবছর এরকমভাবে নদীবাঁধ ভাঙতেই থাকবে ।আর সাধারন মানুষের দুর্দশার অন্ত থাকবে না।আশাকরি স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রশাসন ও বিডিও সাহেব সাধারণ মানুষের এই আবেদনে সাড়া দেবেন এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ গুলি সারাইয়ের এবং যে সমস্ত জায়গায় কংক্রিট ভাবে নদী বাঁধ নির্মাণ হয়নি সেই সমস্ত জায়গা গুলিতে কংক্রিট ভাবে নদী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
বর্তমানে হাসনাবাদ ব্লকের বিডিও অরিন্দম মুখার্জী বেশ কয়েকজন মানুষের সঙ্গে এ বিষয়ে এক জায়গায় বসে বৈঠক করেন ও তাদেরকে আশ্বাস দেন । তিনি বলেন,দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো মেরামতের কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যে জেলার আধিকারিক ও প্রশাসনিক কর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত বাধ গুলি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছেন। জেলা প্রতিনিধি দল আজ সুন্দরবন লাগোয়া ব্লকগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করছেন ।জেলা কার্যকরী সভাপতি নারায়ন গোস্বামী বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো পরিদর্শন করেছি যাতে দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু হয়। আতঙ্ক,ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। আমরা সকল সময় মানুষের পাশে আছি। অকারনে ভয় পাবেন না। মানুষের যা যা সমস্যা আছে আমরা দেখছি। যে বাঁধ গুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সমস্ত বাঁধ গুলি মেরামত করার জন্য পূর্ত দপ্তরকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এবং তারা যত দ্রুত পারে মেরামত করবে এমনটাই জানা গেছে।