অলোক আচার্য, নিউ বারাকপুরঃ- ১৮৯৩ সালে ১১ সেপ্টেম্বর এদিন স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতায় বাণীতে বলেছেন মহিলারা নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার কথা। তাঁর বাণীর মধ্যে দিয়ে বারবার বলেছেন মহিলাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়াবার কথা তাদের জাগ্রত করার কথা। স্বামী বিবেকানন্দের সেই কথা স্মরণ করে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য শনিবার সন্ধ্যায় নিউ বারাকপুর পুরসভার স্বয়ংসিদ্ধা রাজ্য নগর জীবিকা মিশনের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের দ্বারা প্রস্তুত পণ্যসামগ্রীর বিক্রয়কেন্দ্রের উদ্বোধন করে মহিলা স্বয়ংসিদ্ধা করে আরো এগিয়ে যাবার কথা বলেন মন্ত্রী।স্বয়ংসিদ্ধারা নতুনভাবে আরো এগিয়ে যাবার পথকে প্রশস্ত করে অনুপ্রাণিত করল এদিন।

স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মেয়েরা স্বাবলম্বী হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজেরাই নিজেদের দক্ষতা অর্জন করে বিপনন কেন্দ্র স্বয়ংসিদ্ধা গড়ে তুলেছেন। এর থেকে ভালো আর কিছু হতে পারে না। আরো বেশি করে সেলফ হেল্প গ্রুপ তৈরি করে বিভিন্ন প্রডাক্ট নিয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা এগিয়ে যাক। রাজ্য ৭১ হাজার গোষ্ঠী ৯ লক্ষ মহিলারা কাজ করছে।প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মহিলারা হাতের তৈরি সুস্বাদু খাবার হস্তশিল্প বিক্রি করে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে ।এটা একটা বড় কাজ। সবাই মিলে উৎসাহিত করব অনুপ্রাণিত করব। আগামী দিনে আরো ভালো ভাবে কাজ করার পথ প্রশস্ত করে এগিয়ে যেতে পারে।

সুডার অতিরিক্ত অধিকর্তা ও অতিরিক্ত প্রকল্প আধিকারিক শাওন সেন বক্তৃতায় বলেন, বর্তমানে স্বয়ংসিদ্ধা রাজ্য নগর জীবিকা মিশনের আওতায় প্রায় ৭১ হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। প্রতিটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী এককালীন ১০ হাজার স্থানীয় সংঘ এককালীন ৫০ হাজার টাকা আর্বতনীয় তহবিলের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ওয়ার্ড স্তরে ৩৬১৫ টি স্থানীয় সংঘ ও ১৬ টি নগর মহাসংঘ গঠিত হয়েছে। প্রায় ৬২৩৯২ জন প্রশিক্ষণের আওতাভুক্ত হয়েছেন। দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রায় ১২৬৮৬৫ জনকে প্রশিক্ষণের আওতাভুক্ত করা সক্ষম হয়েছে। প্রায় ৩২ হাজার যুবক যুবতী বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত হয়েছেন বলে জানান সুডার অতিরিক্ত অধিকর্তা।

রাজ্যের সমস্ত গরীব মানুষ যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পায় তার জন্য স্বনিযুক্তি প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৬২৬ জনকে ৪৮.৫১ কোটি ঋন প্রদান করা হয়েছে। ২৫০ জনদলগত ঋনের আওতাভুক্ত হয়েছেন এবং ২৯৫৮৭ স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও এর মাধ্যমে তাদের ব্যবসাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করছেন। প্রতিটি পুরসভার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দ্বারা উৎপাদিত দ্রব্য বিপননের জন্য বিপনন কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। সর্ব প্রথম নিউ বারাকপুর পুরসভার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের দ্বারা প্রস্তুত পণ্যসামগ্রীর বিক্রয়কেন্দ্রের বিপনন কেন্দ্র স্বয়ংসিদ্ধা শুভ সূচনা করলেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সারা রাজ্যে এই অতিমারির সময় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা কোভিড ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এবং কোভিড টিকাকরণ এর সুব্যবস্থা ও করা হয়েছে। আগামী দিনে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র মহিলাদের নিয়ে অনেক পরিকল্পনা আছে রাজ্যস্তরে।মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উদ্যোগে ও নেতৃত্বে।

প্রতিটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা যাতে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে তারজন্য বিভিন্ন স্থানে পুজোর মরসুমে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উৎপাদিত দ্রব্যের প্রদর্শনী ও বিপণনের সুব্যবস্হা করা হয়েছে। সাংসদ সৌগত রায় বলেন স্বয়ংসিদ্ধার মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছে। তার ফলে সমাজ পাল্টে যাচ্ছে ।পুরো কৃতিত্ব রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের।এলাকার বিধায়ক ও রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী। নিউ বারাকপুরের মহিলাদের মুখে হাসি ফুটছে। রোজগার বিক্রি করে দুটো পয়সা আসছে পরিবার গুলির হাতে। মায়েরা বোনেরা স্বয়ং সিদ্ধ হয়ে। পাশাপাশি লক্ষীর ভান্ডার থেকে ও আসছে পয়সা।

এদিন নিউ বারাকপুরে কৃষ্টি প্রেক্ষাগৃহে স্বয়ংসিদ্ধা – রাজ্য নগর জীবিকা মিশনের কৃষ্টি প্রেক্ষাগৃহে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ সৌগত রায়, সুডা ও মিশন অধিকর্তা সুপ্রিয় ঘোষাল, অতিরিক্ত অধিকর্তা শাওন সেন, ওএসডি শান্তনু নাহা, নিউ বারাকপুর পুরসভার মুখ্য প্রশাসক প্রবীর সাহা, প্রাক্তন পুরপিতা সুখেন মজুমদার, উপ মুখ্য প্রশাসক মিহির দে, পুরসভার সিটি মিশন ম্যানেজার ড:তপন কুমার জানা, উত্তর দমদম পুরসভার মুখ্য প্রশাসক বিধান বিশ্বাস, প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য জয়গোপাল ভট্টাচার্য, সুমন দে, নির্মিকা বাগচী, প্রাক্তন পুরপ্রধান তৃপ্তি মজুমদার সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কোঅর্ডিনেটরা ও পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিক, পুরসভার স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অলোক পাল সহ রাজ্যের নগর জীবিকা মিশনের আধিকারিক রা।