সৌদি আরবে তেল পরিকাঠামোয় জঙ্গি হানা, ভারতের অশনি সংকেত নয়তো!

0

অগ্নিভ ভৌমিক, বিশেষ সংবাদদাতা :- গত বছর ইরানের থেকে তেল কেনার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি করলে, সৌদিকে বিকেল্প হিসেবে দেখেছিল ভারত। ব্রন্ট ক্রুড ও দুবাই ওয়েলের মধ্যে সামান্য পার্থক্য থাকায় ভারতের জন্য আরও বেশি বিকল্প তৈরী হয়েছিল সেসময়। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশানের (আইঅএস) চেয়ারম্যান সঞ্জীব সিং এমনও বলেছিলেন যে ইরানি তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও, সৌদি আরব একাই বিশ্বের ঘাটতি পূরণ করতে পারে।”
কিন্তু গত শনিবার সৌদি আরবের সরকারি তেল সংস্থা ‘অ্যারামকো’তে জঙ্গি হানা হয়। প্রচন্ড ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন হয় দেশের তেল পরিকাঠামো ব্যাবস্থা। স্বাভাবিক ভাবেই তার প্রভাব পরে বিশ্ববাজারে। আক্রমণের তিন দিনের মধ্যেই কাঁচা তেলের উৎপাদন কমে যায় পাঁচ শতাংশ। তেমনি বাড়তে শুরু করে জ্বালানির দাম। এখানেই শেষ নয়। আরও হামলার হুমকি দিয়েছে জঙ্গিরা। তাই এক ধাক্কায় কাঁচা তেলের উৎপাদন অর্ধেক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আর এমন কিছু হলে, বিশাল বড়ো মশুল গুনতে হবে বিশ্ববাজারকে, এমটাই মনে করছে অর্থনীতিবিদরা। কারণ বিশ্ববাজার অনেকটাই নির্ভর করে পেট্রোপণ্যের দামের উপর। তাই নিয়ম মতোই উৎপাদন কমলে কাঁচা তেল কেনার খরচ বাড়বে আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে জ্বালানি ও পেট্রোপণ্যের দাম। ফলস্বরূপ ঘটতে পারে মুদ্রাস্ফীতি। কার্যত ভেঙে পড়তে পারে বিশ্ব-অর্থিনীতির মেরুদন্ড।
যার বহুমুখী প্রভাব পড়তে পারে ভারতের উপরও। কারণ ভারতের চাহিদার ৮০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয়। তাই সৌদি আরবের কাঁচা তেল উৎপাদন কমে গেলে, এই সংখ্যাও আর ধ্রুবক থাকবে না। ব্যাপক হারে কমে যাবে অপরিশোধিত তেলের আমদানি। কারণ উৎপাদনের পরিমাণ ও আমদানি খরচার সম্পর্ক পরস্পর ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ উৎপাদন পরিমাণ কমলে আমদামির খরচা বাড়বে। আর ভারতকে কাঁচা তেল আমদানির টাকা মেটাতে হয় ডলারে। তাই ক্রমশ ডলারের তুলনায় কমে যাওয়া টাকার দাম, সরাসরি প্রভাব ফেলবে কাঁচা তেলের আমদানিতে। ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং টাকার মূল্য হ্রাসের জোড়া ধাক্কা সামলাতে হবে ভারতকে। তার জেরে কমতে থাকবে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার।
অর্থনৈতিক মন্দার সময় ভারতের কাছে, এ যে এক অশনী সংকেত, তা বলাই বাহুল্য। জ্বালানীর মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা, টাকার দাম পড়ার সম্ভাবনা, তার জেরে মুদ্রাস্ফীতি, তেমনি অন্যদিকে ‘শিল্প মন্দা’ সবমিলিয়ে এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখিন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে ভারতের সামনে, যা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ বার করা কার্যত কঠিন হয়ে উঠতে পারে সরকারের কাছে।
এই চাপে আমদানি খরচ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা। অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারও এই জায়গাতে সবচেয়ে বেশি শঙ্কার কারণ দেখছেন। তিনি বলেন, ‘‘কাঁচা তেলের দাম বাড়লে অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়ে সামগ্রিক ভাবে। ফলে সেই প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারবে না ভারতের অর্থনীতি। সবথেকে সমস্যা হতে পারে আমদানি খাতে খরচ বৃদ্ধি। তার জেরে চলতি খাতে ঘাটতি বাড়বে। সেটা হলে টাকার দাম আরও পড়বে।’’
তেমনি সময়টাও ভালো যাচ্ছে না ভারতের। একধারে যেমন ভারতের অর্থনীতি দুর্বল ভিতের উপর দাঁড়িয়ে তেমনি অন্যদিকে দেশে জিডিপি বৃদ্ধির হার গত ছ’বছরে সর্বনিম্ন, পাঁচ শতাংশে নেমে গিয়েছে। গাড়ি বিক্রির হারও তলানিতে। নেই কোনো নতুন বিনয়োগ। সব মিলিয়ে মন্দার পরিস্থিতি ভারতে। এমতাবস্থায় সৌদি আরবে তেল পরিকাঠামোয় জঙ্গি হানা, চিন্তায় ফেলে দিয়েছে ভারতকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × three =