সুন্দরবন অঞ্চলের অন্তর্গত হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের প্রত‍্যন্ত গ্রামগুলিতে গ্রীষ্মের প্রখর দাবাদহে তীব্র জলসঙ্কটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ

0
Advertisement

সুজয় মন্ডল, বসিরহাট :- সুন্দরবন অঞ্চলের অন্তর্গত হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের প্রত‍্যন্ত গ্রামগুলিতে গ্রীষ্মের প্রখর দাবাদহে তীব্র জলসঙ্কটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। একদিকে ভৌমজলস্তর কমে যাওয়ায় চকপাটলী, ধরমবেড়ীয়া, মহিষপুকুর, দূর্গাপুর, বিশপূর, বাইনাড়া, ধানিখালি, রূপামারী, বাকড়া, সাণ্ডেলেরবিল, কনকনগর প্রভৃতি গ্রামের খানা-খন্দ শুকিয়ে মানুষের স্নান সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জলের অভাব দেখা যাচ্ছে।অন‍্যদিকে এই সমস্ত গ্রাম সহ দুলদুলি,সাহেবখালি, গোবিন্দ কাটি কানাইকাটি,রমাপুর,খেজুর বেড়িয়া,টিনপাড়া, উত্তর রূপামারী,বাশতলী প্রভৃতি গ্রাম গুলিতে যথেষ্ট পরিমাণে টিউবওয়েল নাই।আবার কোথাও দু-একটি টিউবওয়েল থাকলেও তা ব‍্যবহারের অনুপযোগী। আবার বায়লানী, বাইনাড়া, ভাণ্ডার খালির মতো কয়েকটি জায়গায় পাইপ লাইনের সাহায‍্যে জল সরবরাহের ব‍্যবস্হা থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য শাসকদলের এক পঞ্চায়েত সদস্য মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের সাথে কথা বললে জানান, আমাদের ব্লকের অন্তর্গত বিভিন্ন গ্রামে যে জল কষ্ট দেখা যাচ্ছে তা অস্বীকার করার জায়গা নেই । তবে আমরা চেষ্টা করছি পাইপ লাইনের মাধ্যমে মানুষের কাছে জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য কিছু কিছু জায়গায় জল সাপ্লাই এর কাজ শুরু হয়ে গেছে। যে সমস্ত জায়গায় আমরা এখনো পৌঁছাতে পারেনি নির্বাচনের পরে আমরা চেষ্টা করব সেই সমস্ত জায়গায় জল পৌঁছে দেয়ার জন্য। অন্যদিকে হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের বিরোধীদলের সভাপতি সুধাংশু শেখর মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে উনি বলেন, সুন্দরবন অঞ্চলের জল কষ্ট শুধুমাত্র বর্তমানের সমস্যা নয়, এই জল কষ্ট দীর্ঘদিনের। পশ্চিমবাংলার সরকার বিভিন্ন দেখে উন্নয়নের জন্য নানান শিলান্যাস নানান প্রকল্প চালু করার কথা বলেন ঠিকই, কিন্তু সুন্দরবনের মানুষ বরাবরই অবহেলার পাত্র ।তাই বোধ হয় এইদিকে নজর রাখেন না। এক একটা গ্রামে প্রচুর মানুষের বসবাস সে তুলনায় জলের কলের সংখ্যা কম।তাছাড়া মাটির অনেক গভীরে গিয়ে তবেই খাওয়ার যোগ্য পানীয় জলমেলে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে ভৌম জলস্তর অনেক গভীরে চলে যাওয়ায় গ্রামের মায়েদের হ্যান্ড পাম্প করে জলের কল থেকে এক কলসি জল ভরতে কাল ঘাম ছুটে যায়। আবার কোন এক গ্রামের একটি মাত্র কল খারাপ হয়ে গেলে প্রাণ বাঁচাতে সময়ের তোয়াক্কা না করে জল আনতে তাদের ছুটে যেতে হয় পাশের গ্রামে। তাই আমাদের এখানে প্রয়োজন পাইপ লাইনের জল সাপ্লাইয়ের । কিন্তু আমাদের ব্লকের বেশিরভাগ জায়গায় এই জল সাপ্লাইয়ের যথেষ্ট অভাব রয়েছে মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম জিনিস জল। সেই জল যদি মানুষ না পায় তাহলে বাঁচবে কীভাবে। সরকার টাকা পয়সা নানান দিকে তছনছ করছে। কিন্তু মানুষের ন্যূনতম এই চাহিদা মেটানোর দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। উন্নয়নের এই প্রগতির যুগে সাধারণ মানুষের জীবন নিত‍্যপ্রয়োজনীয় ও পানিয় জলের তীব্র জলসঙ্কটে ওষ্ঠাগত প্রাণ হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে সুন্দরবন অঞ্চলের একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত পঞ্চায়েত গুলির জলের সমস্যা সম্পর্কে হিঙ্গলগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কৃষি কর্মদক্ষ মোহন চৌধুরী বলেন গ্রীষ্মের সময় জল সমস্যা একটু হয় বৈকি ।কিন্তু আমরা এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করার জন্য চেষ্টায় আছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 − eleven =