সনাতন গরাই, দুর্গাপুর :- সকল তন্ত্র সাধকদের আরাধনার দেবী মহা কালী।প্রত্যেক অমাবস্যায় সাধকরা যজ্ঞ কখনো ধ্যান এ বসেন সিদ্ধিলাভের আসায়।বৃহস্পতিবার ছিল কৌশিকি অমাবস্যা সেই দিন তান্ত্রিকদের সাধনার বিশেষ সময়।প্রত্যেক তান্ত্রিকদেরই ইচ্ছা সিদ্ধিলাভের।এই রীতিতে গভীর জঙ্গলে শ্যামরুপা মন্দিরে তন্ত্রসাধনার মাধ্যমে সিদ্ধিলাভের জন্য শ্যামরুপা দেবীকে আরাধনা।কৌশিকি অমাবস্যার দিন নবদ্বীপ থেকে তান্ত্রিকরা আসেন এবং সারারাত্রি ধরে হোম,যজ্ঞ করে মা শ্যামরুপা দেবীর প্রতি আরাধনা করা হয়।

কথিত আছে বহুকাল আগে কপালিকরা বসবাস করত এই গভীর জঙ্গলে,কপালিকরা সিদ্ধিলাভের আসায় মা শ্যামারুপার পূজা দিত নরবলি করে।ঠিক এক সময় এই নরবলির কথা ভক্তপ্রেমিক জয়দেব শুনতে পাই,এবং তিনি এসে কপালিককে নরবলি না দিয়ে শ্যামারুপা মাকে দর্শন করিয়ে দিলে নরবলি বন্ধ করার কথা দিতে বলেন কপালিককে।

ভক্তপ্রেমিক জয়দেবের আকুল মনোভক্তিতে শ্যামারুপা মা কে শ্যাম রূপে দর্শন পাই কপালিক। সেই দিন থেকে নরবলি বন্ধ হয়ে যায় এবং শ্যামারুপা মায়ের নাম শ্যামরুপা হয়ে যায়।বর্তমানে সাধকরা বলি না দিয়ে সিদ্ধিলাভের আসায় যজ্ঞ করেন।কথাতেই আছে জিবে প্রেম করে যে জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।সাধনার পর দিন প্রায় ১০০০খানেক লোকের জন্য অন্নকূটের ব্যবস্থাও করেন এই সাধকরা।