সিংহভাগ শিক্ষিত ডিগ্রিধারী বেকার যুবক – যুবতীরা হতাশ!!

0

লেখকঃ- নিজামুদ্দিন মণ্ডল (বীরভূম)


বিষপান! হ্যাঁ। শব্দটা খারাপ লাগলেও এটাই বাস্তব। বেকারে ছেয়ে গেছে দেশ। কোথাও সেভাবে কাজ করার সুযোগ থাকছে না। রাজ্যে তো সেরকম শিল্পই নেই , কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই । কিছু কিছু শিল্প থাকলেও সেখানেও কাজ জোটাতে দালাল ধরতে হয়, এই ব্যবস্থাপনা সরকারও ভালভাবে জানে। এক কথায় সর্বত্রই শোষণ। চেনা মুখের কদর, টাকার চেয়ার! বড় কষ্ট হয় যখন টাকার কাছে ডিগ্রি হেরে যায়! চেনা মুখের কাছে আলোমুখটি লজ্জায় লাল হয়ে ওঠে।বড় দুঃসময়! সাধারণ বিভাগে পড়াশুনার পর নেহাতই ফলাফল গুমটি, চা-চপের দোকান, মোবাইল রিচার্জ, কোনো মোটর গ্যারেজে কাজ কিংবা কারোর মুদিখানায় কিংবা কাপড়ের দোকানে ১০০-১৫০ টাকায় টাকার দৈনিক বেতনে ১২ ঘন্টা খেঁটে মরছি আমাদের মত যুবক যুবতীরা।

শিক্ষাগত যোগ্যতা সবারই আছে, কেউ উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ,স্নাতকোত্তর কিংবা আরো উচ্চশিক্ষিত বেকার বি.এড(B.Ed) কিংবা ডি.এল.ইএল.ইডি (D. EL. ED) পাশ ছেলে মেয়েরা এমনকি বর্তমানে হবু প্রফেসররাও পেটের টানে ভিন রাজ্যে ছুটতে বাধ্য হচ্ছে, যা সরকারের লজ্জার!! পাশ -ফেলহীন শিক্ষা ব্যবস্থার মূল কারণ! এর বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় থালা -বাটি তো বাজছেই। অগণিত ছেলে মেয়ে পাশ করে শিক্ষিত বেকার তকমা পাবার পর তাঁরা তাঁদের এলাকায় আর দিনমজুরের কাজ করতে পারছে না ,কারণ শিক্ষিত অনার্স পাশ ছেলেটি কি করে মুখ দেখবে এই কলুষিত সমাজকে!! লজ্জা ! বড় লজ্জা হে! এই বিস্ময়ে , অবসাদে অনেকে মুক্তির আশায় বিষপান করছে , গলায় দড়ি নিচ্ছে। এ খবরও আমরা প্রাত্যহিক শুনতে পাই। ঠেলে গুঁজে পাশ করানোর জন্য এই ভিড়, শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদন্ড অনেকটা ভেঙে গেছে। স্কুল কলেজের ভিতরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত কিছু শিক্ষক -শিক্ষিকা সহ পড়ুয়ারা! গালাগাল ধমকেও আর কাজ হচ্ছে না!ওই ছড়িটি যেদিন থেকে উঠে গেল, তারপরেই শুরু হল অবক্ষয়! বেকাররা কোনো কোম্পানির কাজ করতে গেলেও সেখানেও আছে নীরব অত্যাচার! Boss এর রাঙাচোখ! ৮ ঘন্টা কাজের দাবী খাতা কলমেই, বাস্তবে কিছু টাকার লোভ, আর তর্জনী দেখিয়ে ১২ ঘন্টা কাজ করতে বাধ্য করা হয়! কেন হবে এমন অত্যাচার??

তাছাড়া B. ed ,D. ed শিক্ষকতার কোর্স থেকেও অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। আমিই যেমন অভিমানে করিনি, অর্থের জন্য তো বটেই! সেখানেও বেকারদের শোষণ ,কলেজগুলোর কোনো নির্দিষ্ট ফি নেই কেউ ৮০০০০ হাজার, কেউ ১০০০০০ লাখ , চেনা মুখ থাকলে ৩০ হাজার টাকাতেও এই কোর্স সম্পন্ন হয়। সরকারের সম্মুখে এর সঠিক বিবৃতি থাকলেও কাজের বেলায় কাঁচকলা। এভাবে বসে বসে কোন বাবা -মা আমাদের মত মধ্যবিত্ত কিংবা গরিব সংসারে খেতে দেবে? আর খেতে দিলেও উঠতে বসতে বেকারের গন্ধটা গায়ে লেগে থাকলে খাবারও হজম হয় না! হাসতেও ইচ্ছে হয় না! ইচ্ছে হয় শুধু মরে যেতে।

এই হালচাল একটু পাড়া -প্রতিবেশী কিংবা শিক্ষিত আত্মীয় স্বজনদের দিকে দৃষ্টিপাত করলেই নিমেষে চোখ খুলে যায়। আর টিউশন? এটাই তো শেষ ভরসা! নিরুপায় হয়ে টিউশনি করলেও বেতনও মেলে না ঠিকঠাক, আমি নিজেও এর স্বীকার। সিংহভাগ শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতী তাঁরা আর উপদেশ শুনতে চাইছে না, Motivation এ কোনও কাজ নেই! একটাই বার্তা ভাত দাও। আমাদের ভাত জুটবে সেই সংস্থান ব্যবস্থা করে দাও। আর এই অবসাদে এক শ্রেণির শিক্ষিত ইঞ্জিনিয়ার, কিংবা স্কুল পড়ুয়া কিংবা কলেজ পড়ুয়া PUBG, কিংবা ফ্রী ফায়ারের মত গেম চালিয়ে কিংবা Tik Tok ,Vigo ভিডিও দেখে দিন গুজরান করছে  যা লজ্জার! খেয়ে না খেয়ে  2GB নেট শেষ করে ভুলে রয়েছে ভবিষ্যৎ! এও এক লজ্জা! কর্মস্থান না থাকার জন্যই অনেকটা এই হাল। ফলস্বরূপ নতুন প্রজন্ম নেশার দিকে ঢলে পড়ছে, অসামাজিক কাজকর্মে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ দেখতে পাচ্ছি ঠেকে দীর্ঘক্ষণ আড্ডা! বিড়ি, সিগারেট ,মদ ,গাঁজা, ড্রাগসে জমছে আড্ডা। চুরি করতেও বাধ্য হচ্ছে! আসলে সমাজ দূষিত হয়ে গেছে! চাকরির জন্য ৮ লাখ,১০ লাখ এই কথাও এখন বাণী হয়ে গেছে,যা নতুন প্রজন্মের কাছে ভয়ানক! এই হীন্যমন্যতায় স্বীকার হচ্ছে শিক্ষিত বেকার সমাজ। আইটিআই, পলিটেকনিক কলেজেও একই হাল। ওখানেও ক্যানসার ধরেছে। সার্টিফিকেট দিয়ে খালাস!সঠিক জায়গা খুঁজে দেওয়া তাঁদের পক্ষেও সম্ভব হচ্ছে না, আসলে সব জায়গায় দূষিত। কবি নজরুলের ভাষায় বলি” বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ -জ্বালা এই বুকে! দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।”

এই কঠিন পরিস্থিতির থেকে থেকে বেরিয়ে আসতে অবিলম্বেই সরকারের ভাবা উচিত। এখনই ভাবা উচিত। হ্যাঁ আমরা এই করুণ পরিস্থিতিরই বিচার চাই! স্বচ্ছতার বিচার চাই! আসল সমাজ ব্যবস্থা যাতে গড়ে ওঠে তার সুব্যবস্থা চাই! ঘুষমুক্ত সমাজ চাই! দালাল মুক্ত সমাজ চাই! ডাকাত মুক্ত সমাজ চাই! বড় বেদনা!আবার কবির ভাষায় বলি” যেন লেখা হয় আমার রক্ত – লেখায় তাঁদের সর্বনাশ!” বড় যুব বিপ্লবের দরকার । এই কু-ব্যবস্থার যাতে দ্রুত সমাধান হয় তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

*প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seventeen − fifteen =