অলোক আচার্য, নিউ বারাকপুরঃ- ঊনবিংশ শতকের বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও গদ্যকার পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০১ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হল নিউ বারাকপুরে ও। রবিবার সকালে নিউ বারাকপুর বিদ্যাসাগর চর্চা কেন্দ্রের উদ্যোগে দক্ষিণ কোদালিয়া সংস্থার কার্যালয়ে বিদ্যাসাগরের প্রতিচ্ছবিতে মালা ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি কথায় গানে কবিতায় আলোচনায় বিদ্যাসাগরকে স্মরণ করা হয় এদিন।

শুরুতে মঙ্গলদ্বীপ প্রজ্বলন করেন জনপ্রিয় চিকিৎসক ডাঃ পংকজ কুমার অধিকারী, পুরসভার প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য জয়গোপাল ভট্টাচার্য, সংগীত শিল্পী দীপ্তি গুহ ও সংস্থার সম্পাদক রামেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্বোধনী ভক্তিগীতি ডুব ডুব ডুব রুপসাগরে আমার মন পরিবেশন করেন আন্তর্জাতিক বাউল শিল্পী গনেশ চন্দ্র রায় ।আবার লালনগীতি ধন্য ধন্য বলি তারে বেঁধেছে এমনি ঘর শ্রোতাদের মন জয় করে এদিন।

এরপর বিদ্যাসাগরের প্রতিচ্ছবিতে মালা ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিশিষ্ট জনেরা। সংগীত পরিবেশন করেন সংগীত শিল্পী দীপ্তি গুহ, গনেশ চন্দ্র রায়, সুমনা দত্ত সরকার, পূর্ণেন্দু বসু, পম্পি ভট্টাচার্য, হীরা সরকার প্রমুখ। সুমনা দত্ত সরকারের সুরেলা কন্ঠে রজনীকান্তের ‘ তব চরণ নিম্নে উৎসব ময়ী শ্যাম ধরনী সরসা’… এবং নজরুলগীতি খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে বিরাট শিশু আনমনে.. অসাধারণ পরিবেশন। দর্শকদের মোহিত করে এদিন। সংগীত শিল্পী দীপ্তি গুহের কন্ঠে শোনা গেল দাড়িয়ে আছো তুমি আমার প্রানের ওপারে.. কি গাব আমি কি শোনাব আজি আনন্দধামে.. রবীন্দ্রসঙ্গীত দুটি বেশ সাবলীল উপস্থাপনা।সুগায়ক পূর্ণেন্দু বসুর কন্ঠে কোন আলোতে প্রানের প্রদীপ জ্বালিয়ে তুমি ধারায় আসো সাধক ওগো.. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চমৎকার গান শ্রোতাদের মনে দাগ কাটে। বিদ্যাসাগর কে নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন আবৃত্তিকার নবনিতা শর্মা চৌধুরী, নাট্য ব্যক্তিত্ব মিতা দাস,বাচিক শিল্পী জয়া বসু, দৈত আলেখ্য দেবিকা ও শম্ভুনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, একক আবৃত্তিতে সুষ্মিতা সুকুল, বীনা হালদার, স্বপন কুমার চক্রবর্তী।বিদ্যাসাগর আজও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সময়োপযোগি মূল্যবান আলোচনা করেন শিক্ষাবিদ ও সুগায়ক পূর্ণেন্দু বসু ও শিশির মিস্ত্রি, জয়গোপাল ভট্টাচার্য, ডাঃ পংকজ কুমার অধিকারী প্রমুখ বিশিষ্ট জনেরা।

এদিন এলাকায় বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের শিক্ষণ সামগ্রী ও শুকনো খাবার তুলে দেওয়া হয় বিদ্যাসাগর চর্চা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে। সংগীতে শিল্পীদের সাথে তলায় সঙ্গত করেন তবলা বাদক দীপতারা দাস। নিবন্ধ পাঠ করেন স্বপ্না মজুমদার।বিদ্যাসাগরের ২০১ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে নববারাকপুর শহরে বিদ্যাসাগরের একটি পূর্নায়ব মর্মর মূর্তি স্হাপনের দাবি করেন বিদ্যাসাগর চর্চা কেন্দ্রের সম্পাদক রামেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় ।সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সংস্থার সম্পাদক রামেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়।আজ থেকে ২০০ বছর আগে এই বাংলায় নারীর ক্ষমতায়নের যঞ্জাগ্নি প্রজ্বলিত করেছিলেন যাঁরা তাঁদের অন্যতম পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। আধুনিক বাংলা ভাষার জনক বললে হয়তো ভুল বলা হবে না। তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করেছিলেন, নারী শিক্ষার সূত্রপাত ও বিস্তরে তাঁর অবদান ব্যপক। শুধু নারী বিস্তারই নয়, সমাজের সকল স্তরের মানুষকে বিদ্যাসাগর শিক্ষার আলো দেখাতে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন বাল্যবিবাহের অবসান ঘটাতে। বিধবা বিবাহ প্রচলন করে নারীর অধিকার কে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে। বহুবিবাহ রোহিত করে নারীকে অবিচার ও যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি দিতে।

বিদ্যাসাগর চর্চা কেন্দ্রের উদ্যোগে বিদ্যাসাগরের ২০১ তম জন্মদিবসে বিভিন্ন জনসচেতনতা মূলক কর্মসূচি পালন করা হবে বর্ষব্যাপি পুর এলাকায় জানান রামেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। কোভিড বিধি মেনে বিভিন্ন কবি লেখক সংগীত শিল্পী সাহিত্যিক নাট্য ব্যক্তিত্ব শিক্ষিকা চিকিৎসক পড়ুয়াদের সন্মিলিত উপস্থিতিতে বিদ্যাসাগরের জন্মদিন পালন করা হল কথায় গানে কবিতায় আলোচনায়।