প্রবীর মণ্ডল, পূর্ব বর্ধমান:- দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের উপর নিগ্রহ বন্ধ করার দায় সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির উপরেই চাপালো কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই রাজ্যসভায় একটি লিখিত প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আগে “অ্যাডভাইসরি” জারি করেছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে সাংবাদিক নিগ্রহ বন্ধে সচেষ্ট থাকতে বলা হয়েছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখে, জানানোর পরেও ‘আইন শৃঙ্খলা রক্ষা রাজ্যের বিষয়’ বলে বুধবার রাজ্যসভায় যুক্তি পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। গত তিন বছরে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মোট কতগুলি সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে, সে সম্পর্কে এদিন সংসদে কোনো পরিসংখ্যান পেশ করতে পারেনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
সংবাদমাধ্যমের কর্মী ও সাংবাদিকদের উপর বিভিন্ন রাজ্য আক্রমণ বন্ধ করার দায় কিভাবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের উপরে পড়ে, তার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। তিনি সাংসদ বিনয় বিস্ময়ের প্রশ্নের লিখিত জানান, দেশের যে আইন প্রচলিত রয়েছে তাতে সাংবাদিকসহ সবার সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি অ্যাডভাইসরি জারি করা হয়েছিল, যেখানে সাংবাদিকসহ সংবাদমাধ্যমের সব কর্মীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছিল।
এর পাশাপাশি ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স-২০১৯’ নিয়েও এদিন সরকারের মত জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়াকে উদ্ধৃত করে রিপোর্ট এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই রিপোর্টে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে সারা বিশ্বের মধ্যে ১৪০তম স্থানে রাখা হয়েছে ভারতকে।
বারবার দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় সংবাদমাধ্যমকে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পুলিশের হাতে মার খেতে হচ্ছে। তাই সংবাদ সংগ্রহ করতে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে শুধু তাই নয় তাদের ক্যামেরার ফুটেজ ডিলিট করে ও ক্যামেরা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। এই নিয়ে সংবাদ মাধ্যম পথেও নেমেছে। তাছাড়াও এখন দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন গাড়িতে প্রেসের লোগো লাগানো রয়েছে কিন্তু তাদেরকে যখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, আপনি কোন চ্যানেলের বা কোন সংবাদ মাধ্যমের তখন তারা উত্তর দিচ্ছে আমি সাংবাদিক নই আমি সংবাদ মাধ্যমও নই আমার বাড়ির একজন বা আমার উমুক একজন কাজ করে আমি তার গাড়ি এনেছি। বারবার দেখা যাচ্ছে এইভাবে প্রকৃত সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।