কলমের দুনিয়া ডিজিটাল ডেস্কঃ- এবার রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া খড়দহ থানার সোদপুর উত্তরপল্লীতে। এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্বামীর পচাগলা দেহ এক সপ্তাহ আগলে রাখলেন স্ত্রী। মৃতের নাম অমিয় দাস ( ৮৫)। অমিয় বাবু বেসরকারি সংস্থার কর্মী ছিলেন। তাঁর স্ত্রী অঞ্জলী দাসের বয়স ৭০। উত্তরপল্লীতে দোতলা বাড়ির ওপরের তলায় থাকতেন বৃদ্ধ দম্পতি। তাদের ছেলে অভিজিৎ দাস থাকেন দমদমে।

পাড়াপ্রতিবেশী সূত্রে খবর, দম্পতিকে কয়েকদিন যাবৎ এলাকায় দেখা যাচ্ছিল না। সোমবার সকালে ওই বাড়ি থেকে প্রচন্ড দুর্গন্ধ বেরোতে থাকে। আসপাশের লোকজন খোঁজ খবর নিতে গেলে অঞ্জলী দেবী কান্না করছিলেন, আর বলছিলেন গায়ে পোকা ধরেছে কি করবো। কিন্তু অঞ্জলী দেবী দরজা কিছুতেই খুলছিলেন না।

জানা গিয়েছে, অঞ্জলী দেবী মানসিক বিকার গ্রস্ত। স্থানীয় বাসিন্দারা খড়দহ থানার নম্বরে একাধিক ফোন করলেও, কেউ ফোন ধরে নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অবশেষে প্রতিবেশীরা পানিহাটির পুর প্রশাসক মলয় রায়ের শরণাপন্ন হন। তিনি তড়িঘড়ি খড়দহ থানায় বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখেন মশারির মধ্যে মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন বৃদ্ধ। আর তাঁর স্ত্রী পাশে বসে রয়েছেন। সেই অবস্থায় বৃদ্ধের পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সাতদিন আগে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে বাড়িতে আসেন বৃদ্ধ দম্পত্তির একমাত্র ছেলে অভিজিৎ দাস। অভিজিতের কথায়, কয়েকদিন ধরে বাবা অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু বাবার মৃত্যুর খবর মা কাউকেই জানায়নি। মাস পাঁচেক আগে শেষবার ফোনে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল।