সংবাদদাতা, বসিরহাটঃ- অমাবস্যার ভরা কোটালে ভাঙল নদীর বাঁধ। এই ঘটনায় মাথায় হাত চাষিদের। জানা যায়, ইয়াসের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই অমাবস্যার ভরা কটালে নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হল বিস্তীর্ণ এলাকা। বৃহস্পতিবার মিনাখাঁয় এই ঘটনায় মাথায় হাত মৎস্য ও ধান চাষিদের।

ব্লক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস আগে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের দাপটে নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছিল বসিরহাট মহকুমার মিনাখাঁর আটপুকুর অঞ্চলের উচিলদহ, মাঝেরপাড়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম। ইয়াসের সেই ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এ দিন দুপুরে অমাবস্যার ভরা কটালে বিদ্যাধরী নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হল মিনাখাঁর আটপুকুর অঞ্চলের মাঝেরপাড়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম।

গত মঙ্গলবার এই আটপুকুর অঞ্চলের উচিলদহ ভাঙ্গা পাড়ায় বিদ্যাধরী নদী বাঁধে ধস নেমেছিল। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি করে সেই বাঁধ কোন ভাবে মেরামতি করে। এ দিন নদীর জলস্তর অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় ওই মেরামতি করা অংশ ধ্বসে প্রায় কুড়ি মিটার বাঁধ ভেঙে যায়। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হুহু করে বিদ্যাধরী নোনা নদীর জল ঢুকে পড়ে মাঝেরপাড়া ও গড় গ্রামে। মুহুর্তের মধ্যে প্রায় দশ হাজার বিঘার মেছোভেড়ির মাছ এবং আমন ধানের জমি প্লাবিত হয় নোনা জলে। কয়েক মাস আগে ইয়াসের সময় নদীর বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছিল এই সমস্ত ধান ও মাছ চাষের জমি। তার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এদিন আবার প্লাবিত হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে এলাকার মৎস্য ও ধান চাষিদের।

প্রহ্লাদ মণ্ডল, সুজয় দাস জানান,গত কয়েক মাস আগে নদীর জল ঢুকে আমাদের এখানে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। নদীর বাঁধ ভেঙে ফের নোনা জল ঢুকে পড়ল। এর ফলে প্রচুর টাকার মাছ নদীতে চলে গেছে। প্রদীপ দাস, সুকল্যাণ দাস নামে দুই ধানচাষির দাবি,ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ে বাঁধ ভেঙে ঢোকা নোনা জল বহু কষ্টে সরিয়ে ধান চাষ করেছিলাম। নদীর জলে ধানক্ষেত সব ডুবে গেছে। নোনা জলে ধানের বড় রকম ক্ষতি হবে। এ সময়ে সরকার আমাদের সাহায্য না করলে অনাহারে দিন কাটাতে হবে।

এ বিষয়ে মিনাখাঁ ব্লকের বিডিও শেখ কামরুল ইসলাম বলেন, সেচ দফতরকে বলেছি তড়িঘড়ি বাঁধ মেরামতি করতে। তারা কাজ শুরুও করে দিয়েছে।স্থানীয়দের কাছে বিশেষ অনুরোধ আপনারা অযথা আতঙ্কিত হবেন না। প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে।