অভিজিৎ হাজরা, হাওড়াঃ- মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্ৰহের সচেতনতা শিবির ও প্রচারাভিযান উপলক্ষে হাওড়া জেলার জয়পুর থানার অন্তর্গত অমরাগড়ি যুব সংঘের ব্যবস্থাপনায় সংঘ প্রাঙ্গণ থেকে ১৬ তম পদযাত্রার ১৬ কি মি পথ জয়পুর, সেহাগড়ি, আমতা, পানপুর, মুন্সিরহাট হয়ে বিভিন্ন গ্ৰামগঞ্জ স্পর্শ করে বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজকর্মী কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রতিষ্ঠাতাও। শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের চিকিৎসক ডঃ মহেন্দ্রলাল সরকার এর হাওড়ার জন্মভূমি ও বাসস্থান পাইকপাড়া, মুন্সিরহাট এ শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানিয়ে সচেতনার কর্মসূচির শেষ হয়।

এই পদযাত্রায় ২৯৩ জন অংশগ্রহণ করেন। আমতা শহরের প্রাণকেন্দ্র আমতা বাসস্ট্যান্ডে আমতা বালক সংঘের পক্ষ থেকে পদযাত্রীদের সম্মানিত করা হয়। সংঘের তরফ থেকে সভাপতি হেমন্ত সাধুখাঁ ও সম্পাদক বরুন মালিক পদযাত্রীদলের হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দেন। আমতা বালক সংঘ-র পক্ষ থেকে পদযাত্রী দলকে বিশেষ ভাবে আপ্যায়িত করা হয়। এই পদযাত্রায় মহিলা পদযাত্রীর সংখ্যা ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। পদযাত্রী দলের পক্ষ থেকে হরিপদ রায় আজকের এই পদযাত্রা সম্পর্কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন ও আমতা বালক সংঘ-কে বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানান। আমতা বালক সংঘ-র পক্ষ থেকে অশোক ধাড়া পদযাত্রী দলটিকে বিশেষ ভাবে অভিনন্দিত করেন।

মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্ৰহের সচেতনতা শিবির ও প্রচারাভিযান উপলক্ষে পদযাত্রা সম্পর্কে অমরাগড়ি যুব সংঘ-র পক্ষে শংকর খাঁ বলেন, “অসুস্থকে অঙ্গদানে সুস্থ ও দুজন দৃষ্টিহীন মানুষকে দৃষ্টিদান এর জন্য পৃথিবীতে এই আন্দোলনের সূচনা ১৮২৩ সালের চিন্তা থেকে ১৮৩২ সালে মৃত্যুর পর বিজ্ঞানের কাজে মরণোত্তর দেহদানের সাথে মনিষী জেরেম বেনহাম এর নাম সার্থক হয়ে আছে। লন্ডনের সংগ্ৰহশালায় সযত্নে রাখা তার কঙ্কাল আজ ও আমাদের প্রেরণা যোগায়।
আমাদের দেশে ১৯৫৬ সালে এই আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গে ১৯৯০ সাল এই ব্যাপারে স্মরণীয়। কারণ সুকুমার হোম চৌধুরীর মৃতদেহ আমাদের রাজ্যে প্রথম সংগঠিত মরণোত্তর দেহদান “

তিনি আরো বলেন,” যখন মৃত্যু হবেই তখন যাতে সেই মৃতদেহ অসুস্থ মানুষের কাজে লাগে তার জন্য মৃতদেহ দান করাটাই হোক আমাদের লক্ষ্য। বর্তমানে মৃতদেহ থেকে নিয়ে ২১ টি কোষ-কলা-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের কাজে ব্যবহার করা হয়। যে গুলি হল-চোখের কর্ণিয়া, কানের পর্দা, কানের হাড়, বৃক্ক, চামড়া, হাড়, রক্ত, হৃদযন্ত্রের কপাটিকা, হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, যকৃৎ অগ্নাশয়, ডিম্বাশয় ও মজ্জা, কার্টিলেজ, লিগামেন্ট, টেন্ডন, শিরা, ধমনী, স্টেমসেল,অ্যমনিয়ম। রক্তের পরে হাড় সব থেকে বেশী প্রতিস্থাপন করা কলা”‌। এখনও পর্যন্ত রক্তের মতো কর্ণিয়া তৈরী ও কলকারখানায় সম্ভব হয় নি। আপনি এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ও আপনার প্রতিস্থাপিত অঙ্গ ও চোখ দুটি কিন্তু থেকেই যাবে এবং অসুস্থকে সুস্থ ও দৃষ্টিহীনকে পৃথিবীর আলো দেখাবে।
শংকর খাঁ সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন,”আসুন আমরা আর মৃতদেহ ধর্মীয় মতে পুড়িয়ে,কবর দিয়ে নষ্ট না করে বিজ্ঞান সম্মত ভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগী হই “।

অমরাগড়ি চক্ষু ও দেহদান সংগ্ৰহ কেন্দ্র-র আন্দোলনের সঙ্গে সামিল হয়ে আরো যে ১১ টি সংস্থা কাজ করছেন তাদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত ৩৫১ জন মরণোত্তর চক্ষুদান করে অমরত্ব লাভ করেছেন। ২৪ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত ৪৭ জন মরণোত্তর দেহদান করে অমরত্ব লাভ করেছেন। ২৬ অগাষ্ট ২০১৬ পর্যন্ত এই সংগঠন গুলির মাধ্যমে ৭ জনের কর্ণিয়া প্রতিস্থাপন করেছেন।