সানওয়ার হোসেন, মথুরাপুরঃ- বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘উপলব্ধি’ নিয়ে গুহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করল সুভাষ হালদার। তার বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর থানার অন্তর্গত হালদার হাট গ্রামে। তিনি গ্রামের অর্থহীন গরীব ঘর থেকে মাধ্যমিক পাস করে, বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর স্তরে “তুলনামূলক ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্য,” নিয়ে পড়ার সময় থেকে তিনি প্রায়ই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই পড়তেন।

তখন থেকে মন স্থির করেছিলেন, আগামী দিন যদি তিনি গবেষণা করার সুযোগ পান তাহলে মমতা ব্যানার্জীর নারী জীবনের স্বতন্ত্রবোধ এবং সংগ্রামী চেতনা নিয়েই গবেষণা করবেন। তবে তিনি কখনই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখেনি, মমতাকে সর্বদাই সংগ্রামী এবং প্রতিবাদী চেতনা সম্পন্ন একজন সাহিত্যিক হিসেবে মনে প্রাণে সারাজীবন মেনেছেন। মমতা ব্যানার্জীর লেখালেখি নিয়ে পিএইচডি করার ‘পারমিশন’ ভারতবর্ষের তথা পশ্চিমবঙ্গ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গাইড’রা তাকে দেননি।

কিন্তু অধ্যাপক (ড.) দিলীপ বরা (অসমীয়া) মনে করেন “মমতা ব্যানার্জী যুদ্ধের ঘোড়া এবং সংগ্রামীশীল অগ্নিকন্যা। তিনিই পারেন ভারতবর্ষকে নতুন পথের দিশা দেখাতে।” তাই অধ্যাপক (ড.) দিলীপ বরা গবেষকে পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়ে তার ভাবনা এবং পরিকল্পনাকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রভূত সাহায্য করেন এবং এই বিষয়ে গবেষণা করার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অধ্যাপক (ড.) বিপ্লব চক্রবর্তীও তাকে উৎসাহ প্রদান করেন। বিষয় নির্বাচন থেকে শুরু করে গবেষণার প্রতিটি স্তরে অধ্যাপক (ড.) দিলীপ বরা তাকে নানান ভাবে সাহায্য করেছেন।

অধ্যাপক (ড.) দিলীপ বরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা নিয়ে পিএইচডি করার সম্মতি চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন এবং তার সঙ্গে গবেষকের নিজের একটি চিঠি আর সমস্ত ডকুমেন্টস দিয়ে গবেষক নিজেই পোস্ট করেছিলেন। হয়তো তার আধিকারিকরা তার কাছে পৌঁছাতেই দেননি।

তবে গবেষককে আমরা প্রশ্ন করতেই তিনি নিজেই বলেছেন- “পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতবর্ষের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গাইডরা তাকে এই বিষয় নিয়ে গবেষণা করার সুযোগ দেননি কিন্তু হেরে গিয়েও ‘এমফিল’এবং ‘পিএইচডি’ গবেষণার ‘ইন্টারভিউ’ দেওয়ার সংগ্রাম এবং প্রেরণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই পড়েই শিখেছে। যিনি নিজেই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দ্বারা নানাভাবে অত্যাচারিত, লাঞ্ছিত, অপমানিত, নিষ্পেষিত হয়েও নারীদের সমাজে প্রাপ্য সম্মান না দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মুখর হয়ে নারীর সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক পটভূমিতে সমাজের উপযুক্ত স্থান করে দিতে সক্ষম হয়েছেন। তাই পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা আজ নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে অকুতোভয় পরিবারতন্ত্র আর পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সংগ্রামের ফলে আর্থিক মুক্তির সন্ধান জোগাতে সক্ষম হয়েছেন, আর পরম্পরা এবং ধর্মের দোহাই দিয়ে প্রতিক্ষেত্রে নারীদের উপর নীতি-নিয়ম বাধা-নিষেধ আরোপ করা হয়েছিল সে সমস্ত কিছুকে লংঘন করে নারীদেরকে আত্মপ্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছেন। আর তাঁর বইয়ের মধ্যে বার-বার বাংলার মা-ভাই-বোনেদের কর্মসংস্থানের নানান যুক্তি পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর বই পড়লেই সহজেই যেকোনো কর্মসংস্থান নিজে থেকেই করে নেওয়া যায়, আমার মনে হয়। হয়তো আমি তারই এক উদাহরণ।”

তার গবেষণার মূল বিষয়টি হল – ”Women’s issues in literature A comparative study on select Assamese and Bengali novels.” পুরাণ, রামায়ণ, মহাভারত, উত্তর ঔপনিবেশিক, এবং তার পরবর্তীকালে , স্বাধীনতার পরবর্তীকালে এবং বর্তমান বিশ্বের নারী সমস্যা ও প্রতিবাদের আলোচনার সঙ্গে ভারতবর্ষ তথা পশ্চিমবঙ্গের নারীদের স্থান বিশেষ মাত্রায় উল্লেখ করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “উপলব্ধি” -র লেখনীর মধ্য দিয়ে।

তাছাড়া তার গবেষণার মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “উপলব্ধি” -র সঙ্গে অসমীয়া সৃষ্টিশীল সাহিত্যি-আকাশের খ্যাতনামা সাহিত্যিক রুদ্রাণী শর্মার “উত্তরকাল” উপন্যাসের তুলনামূলক আলোচনাও রয়েছে। দুটি উপন্যাস যেন – “টাকার এ-পিঠ আর ও-পিঠ”। গবেষকের মতে -“উপন্যাস দুটির মধ্য দিয়ে নারী জীবনের স্বাতন্ত্র্যবোধ এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে মূর্ত করে আভাসে দ্রোতিত করেছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × 3 =