অলোক আচার্য, মধ্যমগ্রামঃ- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা অবন ঠাকুর প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের প্রপৌত্র। একজন খ্যাতিমান ভারতীয় বাঙালি চিত্রশিল্পী, নন্দনতাত্ত্বিক এবং লেখক। ছবিই তার মূল উপজীব্য। লেখালেখি তেও তিনি অনন্য। শকুন্তলা, ক্ষীরের পুতুল ভোলা যায় না। পিত্রব্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনুপ্রেরণায় লেখালেখির সূত্র পাত। তিনি ছবি লেখেন। এর পাশাপাশি বলা চলে তিনি লেখা আঁকেন। শিল্পগুরু অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মের সার্ধ শতবর্ষে কথায় গানে কবিতায় আলোচনায় স্মরণে শ্রদ্ধায় অবন ঠাকুর শীর্ষক স্মরণ সন্ধ্যা অনুষ্ঠান হল ১৩ সেপ্টেম্বর সোমবার মধ্যমগ্রাম বীরেশপল্লী বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনে মঞ্চে ।আয়োজক পশ্চিমবঙ্গ গণসংস্কৃতি পরিষদ মধ্যমগ্রাম শাখা।

শুরুতে (বাবুনি) অনুপ মজুমদার এর সুরেলা কন্ঠে উদ্বোধনী সংগীত জন্মভূমি মা তোমাকে সাজাই মা শিল্পী মোরা শিল্পী… সাবলীল পরিবেশন। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে স্বরচিত কিছু লেখা পাঠ করেন কবি সুমাল্য মৈত্র। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প, জীবন ও শিল্পকলা সম্পর্কে আলোচনা করেন অধ্যাপক আশিষ খাস্তগীর। অনেক কথার মধ্যে অবনীন্দ্রনাথের ছবি আঁকার বিস্তর সময়কার বর্ননা উপলব্ধির কথা তুলে ধরেন। বলেন তিনি রং এর যাদুকর ছিলেন। শব্দ দিয়ে রং কে লেখা তার নিমগ্ন স্মৃতিকথা উঠে আসে এদিন। বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী শ্রাবণী মৈত্র তার সুরেলা কন্ঠে দুটি রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করে দর্শকদের মোহিত করেন।

অবন ঠাকুরের গল্প কবিতায় কোলাজ অংশগ্রহণ করেন জয়া রায় পাল, রিয়া বসু, গৌরী দাস, ঝিমলী গোস্বামী এবং মুকুলদেব ঠাকুর। বিশেষ আকর্ষণ আলেখ্য গদ্যে পদ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবন ঠাকুর। অংশগ্রহণে অজয় সাহা, তনুশ্রী ঠাকুর, সুমাল্য মৈত্র, শোভনা নাথ, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, মৌসুমী সাহা এবং মুকুলদেব ঠাকুর। ভাষ্যরচনা ও পাঠে শোভনা নাথ। ভাষ্যপাঠে মুকুলদেব ঠাকুর ।প্রযোজনা পশ্চিমবঙ্গ গণসংস্কৃতি পরিষদ মধ্যমগ্রাম শাখা। সুন্দর উপস্থাপনা। সমাপ্তি সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী অনুপ মজুমদার। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন গণসংস্কৃতি পরিষদের সদস্যা শোভনা নাথ। কোভিড বিধি মেনে শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে সকলেই মাস্ক পরে স্যানিটাইজ করে স্মরণ সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এদিন।