সংবাদদাতা, বসিরহাটঃ- ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বসিরহাট মহকুমায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আট সদস্যের প্রতিনিধি দল ঘুরে যাওয়ার একদিন পর বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপারের কাছে লাগাম ছাড়া সন্ত্রাস বন্ধে আর্জি জানিয়ে স্মারকলিপি দিল বিজেপি।

এ দিন দুপুরে পুলিশ সুপারের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর পর বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তারক ঘোষ বলেন, হিঙ্গলগঞ্জ, হাড়োয়া, সন্দেশখালি এবং মিনাখাঁর প্রায় প্রত্যেকটা গ্রামে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের অত্যাচারে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। দুষ্কৃতীরা কেবল মারধর, লুঠপাট করাই নয়, বাড়ি বাড়ি ঢুকে জমি লিখিয়ে নিচ্ছে। মহিলাদের শ্লীলতাহানি করছে। জরিমানা করছে। পুলিশ নিষ্ক্রিয়, দলদাসে পরিনত হয়েছে। মানুষের ভোটে জিতে এসেও বিরোধীদের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। উল্টে বিজেপি কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। ঘন্টা দুই বসিরহাট সংগ্রামপুরে এস পি অফিসে সামনে ধর্ণা বিক্ষোভ চলার পর স্মারকলিপি জমা দেন বিজেপি নেতারা।

প্রসঙ্গত, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আট সদস্যের প্রতিনিধি দল ‘আক্রান্ত’ বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন। থানা থেকে তথ্য-পরিসংখ্যান নেন। হাড়োয়া ও ন্যাজাট থানায় গিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রতিনিধি দলের সদস্যেরা। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চান। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সে সম্পর্কে খোঁজ-খবর করেন।

এ বিষয়ে তৃণমূল নেতা তথা হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক দেবেশ মণ্ডল বলেন, বিজেপি পরাজয় মেনে নিতে না পারায় মিথ্যা কথা বলে মানুষ খেপিয়ে গন্ডগোল বাধানোর চেষ্টা করছে। তেমনটা হলে মানুষ ওদের ক্ষমা করবে না।

 অন্যদিকে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল জগদ্দল ছাড়াও আমডাঙার বেশ কয়েকটি এলাকা ঘোরেন তাঁরা। দেখা করেন ভোটের সময় মৃত বিজেপি কর্মীর মা শোভারানী মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে।