নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগণাঃ- জিতেই উত্তর চব্বিশ পরগণার তৃণমূল জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছিলেন রবীন্দ্র সংগীতের পাশাপাশি ডিজে ও বাজবে। কিন্তু ভোটের গণনার পর থেকে জেলা জুড়ে ভোট-পরবর্তী হিংসা অব্যাহত। নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরেই মিনাখাঁ বিধানসভা জুড়ে বিভিন্ন এলাকায় ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার হন বিজেপি ও সংযুক্ত মোর্চার কর্মী-সমর্থকরা। এরমধ্যে রবিবার মিনাখাঁয় বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তৃণমূলের প্রার্থী ঊষা রানী মন্ডল। জেতার খবর পাওয়া মাত্রই মিনাখাঁ বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি ও সংযুক্ত মোর্চার কর্মীদের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা। ভোটের কয়েকদিনের পাশাপাশি ভোটের ফল ঘোষণা হওয়ার বিকেলের পরেই মিনাখাঁ বিধানসভার বালিগৌড়ী, ধুতুরদহ, কুমার জোল, ঝিকরা, ভটকা সহ একাধিক জায়গায় প্রায় ৯০ টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বেশিরভাগ জায়গাতে ভাঙচুরের থেকে বেশি লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির।

অন্যদিকে, বারাসাত জুড়ে বিজেপি সমর্থকদের মারধর ও বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ। বারাসাতের দ্বিজহরি দাস কলোনী বিজেপি সমর্থকদের বাড়ি ভাঙচুর অভিযান চালিয়ে অতি উৎসাহী তৃণমূল সমর্থক অতীন প্রামানিক ক্যামেরার সামনে বললেন -“উনিশ সালের ভোটের পরে বিজেপির ছেলেরা আমাদের ঘর ভেঙেছিল, মাথা ফাটিয়েছিল। আমাদের অনেককে এলাকাছাড়া করেছিল বিজেপির লোকজন। ক্ষোভ আর রাগ ছিল দু বছর ধরে – এবার দল জিততেই এলাকায় ফিরে রাগ মিটিয়ে নিলাম ওদের ঘরদোর ভাঙচুর করে। অতীন প্রামানিকের সুর দ্বিজহরি দাস কলোনির ঘরে ফেরা অনেক তৃণমূল সমর্থকদের গলায়। তাঁরা বড় গলায় বলছেন – আমরা টাকা লুঠ করি নি, বাড়ির মেয়েদের গায়ে হাত দিই নি। আমরা বিজেপির লোকেদের বাড়িতে ইঁট মেরেছি আর ওদের একটু আধটু ধাক্কা দিয়েছি “।

আবার জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কেউটিয়া গ্যাস গোডাউন এলাকায় এক পরিবহন ব্যবসায়ীর গাড়ি ভাঙচুর করলো একদল দুষ্কৃতী।রবিবার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরেই রবিবার গভীর রাতে মুখবাঁধা অবস্থায় জগদ্দলের কেউটিয়া গ্যাস গোডাউন এলাকার বিজেপি কর্মী সঞ্জয় বিশ্বাস এর বাড়ির সামনে থাকা তারই চারচাকা গাড়ি ভাঙচুর চালায় তারা। সঞ্জয় কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নয়। কিন্তু কয়েক দিন আগে কিছু বিজেপি কর্মীদের সাথে ঘোরাঘুরি করার জন্যই এই হামলা চালিয়েছে শাসক দলের কর্মীরা বলে অভিযোগ সঞ্জয় বিশ্বাস এর মা সবিতা বিশ্বাস এর। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পাশাপাশি, কেউটিয়া পালবাগান এলাকায় এক ব্যাক্তির বাড়ির মধ্যে থেকে উদ্ধার প্রচুর তাজা বোমা। ঘটনাস্থলে ভাটপাড়া থানার পুলিশ।ঘটনাস্থলে বোম্ব স্কোয়াড আসার কথা রয়েছে।

নির্বাচনী ফলাফল শেষ হতে না হতেই দত্তপুকুর দেবীপুর এলাকায় ১৬ নম্বর রেলগেটে রেল লাইনের উপর একটা বোমা উদ্ধার করল রেল পুলিশ (জিআরপি)। বিজেপি করার কারনে বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা মেরেছে বলে অভিযোগ বিজেপি কর্মীর। গতকাল গভীর রাতে একটি শব্দ শুনতে পায় এলাকার প্রতিবেশীরা তাদের অভিযোগ বিজেপি করার কারণে বোম মারা হয়েছে। অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূল কোনো মন্তব্য করতে চায় নি। ঘটনা ঘটনাস্থল থেকে একটি বোমা উদ্ধার করল। এই ঘটনার ফলে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থলে যায় দত্তপুকুর থানার পুলিশ ও বোমটি উদ্ধার করে।তবে ট্রেন চলাচলে কোন প্রভাব পরেনি বলে দাবি রেল পুলিশের ।

এদিকে, সোমবার বিকেলে ভাটপাড়ার জগদ্দল জুটমিলের সামনে বিজেপির একটি পার্টি অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালালো একদল দুষ্কৃতী। শুধু তাই নয়। এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি করল দুষ্কৃতীরা।এরপর ওই বিজেপি পার্টি অফিস এর পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি দোকানেও ভাঙচুর চালায় তারা। এই দুষ্কৃতীরা তৃণমূল আশ্রিত বলে অভিযোগ বিজেপির।