অলোক আচার্য, কলকাতাঃ- তৃণমূল ছাড়লেন প্রাক্তন মন্ত্রী ও সিবিআইয়ের প্রাক্তন কর্তা উপেন বিশ্বাস। বুধবার – ইমেল করে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন তিনি। অষ্টম দফা তথা শেষ দফার নির্বাচনের আগে আচমকা তৃণমূল থেকে উপেন বিশ্বাসের পদত্যাগ কে কেন্দ্র করে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও দলের প্রতি প্রকাশ্যে কোনো ক্ষোভ ব্যক্ত করেননি প্রাক্তন এই মন্ত্রী। বয়সের কারণেই আর সক্রিয় রাজনীতিতে থাকতে চাননা বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। ইস্তফাপত্রে তিনি লিখেছেন আমি তৃণমূলের সদস্য পদ, তৃণমূলের সিবিআইয়ের উপদেষ্টা ও কোর কমিটির সদস্য পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলাম। অন্যান্য কোন পদে তাঁকে রাখা হলেওসেখান থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রাক্তন সিবিআই কর্তা।

তৃণমূল ত্যাগ করা নিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, কোনও কারণ নেই। আমি অনেকদিন আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমি ইলেকশনের রেজাল্ট দেখে আমি পদত্যাগ দেবো এটা ঠিক হবে না, তারপর কেউ বলবে যে ও হেরে গেছে বলে রিজাইন করলো বা জিতে গেলো বলে রিজাইন করলো না। আমি এটা অনেক আগেই বলেছিলাম যে ১০ বছর হয়ে গেলো আমি আর সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবো না। আমাদের ডিস্ট্রিক্ট প্রেসিডেন্ট জতিপ্রিয় মল্লিক বলেছিল উপেন দা আপনাকে একটা সেফ সিটে লড়াই করবো। কিন্তু আমি বলেছিলাম সেটা আমার আর হবে না। কারোর উপর আমার ক্ষোভ নেই। কাজ করার সময় জেলায় একটু কথাকাটাকাটি হয়েছে।

তবে কোনও ক্ষোভ নেই। আমি এস এস বির ব্রিগেডিয়ার ছিলাম, আমার সাথে কাজ করতে গিয়ে উত্তাপ হয়েছে কিন্তু কোনও দিনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে গিয়ে বলিনি কেউ ভালো কেউ খারাপ। আমি ইলেকশন বিশেষজ্ঞ না, আমি নির্বাচনে কে জিতবে কে হারবে বলতে পারবো না। প্রতিপক্ষ বিজেপি। লড়াইটা তৃণমূল আর বিজেপির মধ্যে। কোনও দলের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব আছে। অন্য দলে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। রাজনীতি ছাড়লাম। আমি রাজনীতির মানুষ নই। আমি সোশ্যাল সার্ভিসের মানুষ। আমি জনসেবার কাজ করেছি। রাজনীতি ব্যাপারটা its not my cup of tea।

আমি ইমেল মারফত ইস্তফা পাঠিয়েছি আর হার্ড কপিও পাঠিয়েছি। এখনও তৃণমূলের পক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগ করেনি। হয়তো হাতে পায়নি। কেউ যাতে আঙ্গুল না তুলতে পারে যে নির্বাচনের ফল দেখে আমি ইস্তফা দিয়েছি তাই নির্বাচন চলাকালীন দিলাম। ইলেকশনে সব দলের ভূমিকা থাকে ও কমিশনেরও ভূমিকা থাকে। উন্নয়ন তো বন্ধ হয়ে থাকেনি। তবে ইলেকশন হলে একটা অন্যরকমের আবহ তৈরি হয়। সেই আবহাওয়ায় কে কোথায় যাবে সেটা সবসময় পরিবর্তনশীল।