ভসরাঘাট ও জঙ্গলকন্যা সেতুর ইতিহাস, জেনে নিন তাহলে

0

বিশ্বনাথ শীট, জঙ্গলমহলঃ- ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সংযোগ স্থাপনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মধ্যে রয়েছে খড়িকামাথানী থেকে মেদিনীপুর পর্যন্ত রাস্তা। যেটির সংযোগকারী হচ্ছে ভসরাঘাট সেতুর সঙ্গে। যা বর্তমানে জঙ্গল কন্যা সেতু নামে পরিচিত।
ভসরা সেতু ও জঙ্গলকন্যা সেতুর ইতিহাস জানতে হলে আমাদেরকে বেশ কয়েকটা বছর পেছনে যেতে হবে।

এখনকার জঙ্গল কন্যা সেতু আগে কোন কংক্রিটের তৈরি সেতু ছিল না ছিল। এটি ফেয়ারওয়েদার সেতু। আর এই ফেয়ারওয়েদার সেতুর জন্য প্রত্যেক বছরই জেলা পরিষদের তরফ থেকে কয়েক লক্ষ করে টাকা খরচা করা হতো, কিন্তু তা ছিল ক্ষণস্থায়ী। প্রত্যেক বছরের বর্ষার মৌসুমে সেটি নষ্ট হয়ে যেত।

ফেয়ারওয়েদার সেতুর খরচের উদাহরণ দিতে গেলে, ২০০৯ ও ২০১০ সালের খরচের পরিমাণ কিছুটা এমনই ছিল,” ২০০৯ সালে সেতুর জন্য খরচা করা হয়েছিল ১৫ লক্ষ টাকা। তার থেকে আয় হয়েছিল ১৫ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা । আর তাই ২০১০ সালে খরচ করা হয়েছিল ২৪ লক্ষ টাকা আর তার থেকে যা আয় হয়েছিল তা হলো ১৫ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা। জেলা পরিষদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সুবর্ণরেখার সেতু তৈরি করতে ২০০৯ থেকে ২০১২ আর্থিক বর্ষ পর্যন্ত মোট খরচের পরিমাণ ছিল ৮৬ লক্ষ ৯ হাজার ৭৯০ টাকা । আয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৫ লক্ষ টাকা। আর এই ভাবেই ব্যাপক অর্থ ক্ষতির পরিমাণ দেখা দিয়েছিল।

জঙ্গল কন্যা সেতু মূলত তৈরি করা হয়েছিল ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম বাসীদের সুবিধার জন্য। নয়াগ্রাম থেকে মেদিনীপুর এর দূরত্ব ছিল গোপীবল্লভপুর দিয়ে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার। আর যদি তাকে শাড়ির উপর দিয়ে হয় তাহলে সেটা দাঁড়ায় ৪৫ কিলোমিটার পুরোটাই অর্ধেক। এই কারণেই নয়াগ্রামের এই সেতু খুবই প্রয়োজন ছিল নয় গ্রামবাসীর কাছে।

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর আসে নয়াগ্রাম সুবর্ণরেখা নদীর উপরের জঙ্গলকন্যা সেতুর শিলান্যাস।
২০১১ সালের বিধানসভা ভোটের পর জনসাধারণের কথা রাখতে তৎপর ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। মুখ্যমন্ত্রীর সবথেকে প্রিয় শহর বলা চলে ঝাড়গ্রাম কে। ২০১১ সালে নয়াগ্রামে এসেছিলেন তিনি। নয়াগ্রামের এক অনুষ্ঠানে গ্রামবাসীর কাছে জানতে চান এই গ্রামে গ্রামবাসীর সবথেকে প্রয়োজন এই মুহূর্তে কোন জিনিস। প্রতুত্তরে সবাই জানিয়েছিলেন ভসরা ঘাট সেতু। তারপর বহু টানাপোড়েনের পর ২০১৬ সালে ১১ ফেব্রুয়ারি বহুপ্রতিক্ষিত ভসরা সেতুর শিলান্যাস হয় , নাম দেয়া হয় জঙ্গল কন্যা সেতু।

এই দিন আরো ১৩৬ টি নতুন প্রকল্পের সূচনা হয় ও ৩২ টি প্রকল্পের নতুন শিলান্যাস করা হয় ।
জঙ্গলকন্যা সেতুর গঠনশৈলী সেতুর দূরত্ব ১.৪৭ কিমি। রাস্তার দুই সাইডের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ১২ মিটার । খরচ হয়েছিল ১৭০ কোটি টাকা।

১১ ই ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে সেতুটির উদ্বোধন করা হয় । উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেতুর উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নতুন সেতু হলো এখন অনেকটাই দূরত্ব কমবে খরচা । জঙ্গলকন্যা সেতুর উপকারিতা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন , শুভেন্দু আমাকে বলেছিল দিদি দিঘা কন্টাই এখান থেকে চলে যাবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে । সিপিএম কে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, যারা কাজ করে তারা শুধু মুখে কথা বলে। তারা তো ৩৪ বছর ক্ষমতায় থেকে কিছু করতে পারেনি এখন আমি দেখছি আপনাদের।

কপালেশ্বর প্রকল্প কিছুদিনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জমা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী , ২০১১ সভামঞ্চের শেষ বক্তব্য মানুষের মন জেনে নিয়েছিলেন নেত্রী মমতা ব্যানার্জী। তিনি বলেছিলেন তৃণমূলের মা মাটি মানুষ এর সরকার আপনাদের শিরদাঁড়াটা উঁচু করে বাঁচতে শিখিয়েছে, মা-বোনেরা খুশি তো । মুখ্যমন্ত্রী এদিন মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারী দুজনের সঙ্গে সবাই জঙ্গলমহলের উন্নয়নের বই তুলে দেন নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করতে দেখা গিয়েছিল ।

এই সেতুটি তৈরি হওয়ার পর নয়াগ্রামের একজন বাসিন্দা বলেছিলেন, দৈনন্দিন কাজে আমাদেরকে খরগপুর বেলদা যেতে হতো। নদী পাড়াপাড় করতেই মাসে কত টাকা খরচ হতো খুব অসুবিধার মধ্যে পরতাম – ‘ টাকার অভাবে অনেক সময় যাতায়াত করতে পারতাম না। এবার সমস্যা কমবে খরচের পরিমাণ সঙ্গে রাস্তায়। পশ্চিমমেদিনীপুর এর বাসিন্দারা বলেছিলেন আমাদের নয়াগ্রামে তেমন একটা প্রয়োজন থাকে না কিন্তু নয়াগ্রামবাসীকে আসতেই হয় ফলে আমাদের কিছু উপকারিতার সঙ্গে সঙ্গে ওনাদের উপকারিতা বেশি হবে । বৃষ্টির মরসুমে তাদেরকে আর আটকে থাকতে হবে না বাড়িতে।

১১ তারিখে উদ্বোধনের ১৫ দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছিল (২০১৬) সেতুর পিলারে (রেলিং) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে একটি যাত্রীবাহী বাস ৷ পঞ্চাশ জন যাত্রী নিয়ে মেদিনীপুর থেকে নয়াগ্রাম যাচ্ছিল বেসরকারি বাসটি৷ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল বাসটি৷ জঙ্গলকন্যা সেতুতে ওঠার সময়ে পিলারে ধাক্কা মারে বাসটি৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

9 − 6 =