বিহারের পটনায় ফতুয়া গ্রামে কাজ করতে গিয়ে পুরুলিয়া বলরামপুরের পারকিডি গ্রামের পরিযায়ী শ্রমিকদের বজ্রপাতে ৪ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। ২ জন জখম ও হয়েছেন। এই খবর পেয়ে মৃত ও জখম পরিবারদেরকে আট লাখ টাকা আর্থিক সাহায্য করল তৃণমূল কংগ্রেস।

সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে সোমবার এই আর্থিক সাহায্য ওই পরিবারগুলির হাতে তুলে দেন রাজ্যের মহিলা ও শিশু কল্যাণ এবং সমাজ কল্যাণ বিভাগের মন্ত্রী শশী পাঁজা ও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংস্কৃতিক শাখার প্রধান তথা বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের স্বাধীন দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী সন্ধ্যা রাণী টুডু পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি গুরুপদ টুডু, পুরুলিয়া জেলা পরিষদ সভাধিপতি সুজয় ব্যানার্জী ও পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ।

মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ” বিহারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু সেখানকার সরকারের তরফে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি । খবর পাওয়া মাত্র আমাদের দল, সরকার মানবিকতার পরিচয় দিয়ে আমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছে । আজ আমরা দলের তরফে আর্থিক সাহায্য তুলে দিলাম । রাজ চক্রবর্তী বলেন, এই পরিবারগুলির পাশে আমাদের দল ও সরকার রয়েছে । তাদের যাতে কোনো সমস্যা না হয় তা দেখা হচ্ছে।

বিহারের পাটনায় ফুলবিক্রি করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে পুরুলিয়া জেলার বলরামপুর থানার বানজারা সম্প্রদায়ের ৪ পরিযায়ী শ্রমিক। ঘটনায় আহত হয়েছেন দু জন ।ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বিহারের পাটনা জেলার ফতুয়া নামক রেল স্টেশন এলাকায়। স্থানীয় নালন্দা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে ময়না তদন্তের পর রবিবার দিন চারটি দেহ বলরামপুর পাঁড়কিডি এলাকায় এসে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে বানজারা অধিবাসীদের বসতিতে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে তিন কন্যা সন্তানের মা সহ এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, এক শিশুকন্যা ও দুই যুবক । মৃতদের নাম হোল যমুনা সিং(৪৫), কানাইয়া সিং (১৮), কৌশল দেবী( ৩৫), সরস্বতী দেবী (১০)।

ঘটনা প্রসঙ্গে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে এই চারজন বলরামপুর থেকে ট্রেনে করে পাটনার ফতুয়া এলাকায় যান। সেখানে স্টেশনের অদুরে একটি গাছতলায় আশ্রয় নেন বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার জন্য। শুক্রবার দুপুর বেলা বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ঘটনাস্থলেই মারা যান চারজন এবং আহত হয়েছে দু জন। পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে দেহ আনতে পাড়ি দেন বিহারে। রবিবার সেখান থেকে চারটি দেহ দুটি এম্বুল্যান্স করে নিয়ে এসে সৎকার্য সম্পন্ন করেন বানজারা সম্প্রদায়ের মানুষজন। ঘটনার জেরে শোকের ছায়া নেমে আসে পাঁড়কিডি এলাকায়।