বিশ্বমাতার মন্দিরে আশীর্বাদ প্রার্থী সৌগত সহ দমদমের তিন প্রার্থী

0

অলোক আচার্য, নিউব্যারাকপুর :- লোকসভা ভোটে দমদম একটি উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র। এবার দমদমে দুইবারের বিজয়ী প্রার্থী বিজয়ী সাংসদ সৌগত রায়ের সঙ্গে লড়াই হতে চলেছে বিজেপি প্রার্থী শমীক ভট্টাচার্যের। লোকসভা ভোটের প্রচারে বেরিয়ে নিজের কেন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আশ্রম ও দেবমন্দিরে গিয়ে জনসংযোগ, ভোটভিক্ষা ও দেবদেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনা একটা প্রচলিত রীতি। কলকাতা বিমানবন্দরের পাশে নিউব্যারাকপুর বিশ্ব সেবাশ্রম সংঘের বিশ্বমাতার মন্দির এমনই এক উল্লেখযোগ্য পীঠস্থান। বিশ্ব সেবাশ্রম সংঘ প্রতিষ্ঠাতা শ্রী সমীরেশ্বর ব্রহ্মচারী ও তার আরাধ্য দেবী শ্রী শ্রী বিশ্বমাতার মন্দিরে পুজো দিতে উপস্থিত হন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে দমদম লোকসভার অধীন ‘ঠাকুর শ্রী শ্রী সমীর ব্রহ্মচারী বিশ্ব সেবাশ্রম সংঘ’ এর শ্রী শ্রী বিশ্বমাতা দক্ষিণা কালীর আশীর্বাদ নেওয়ার জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন দমদম লোকসভা কেন্দ্রের তিন প্রতিদ্বন্দ্বী — তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সৌগত রায়, বিজেপি প্রার্থী শমীক ভট্টাচার্য ও কংগ্রেস প্রার্থী সৌরভ সাহা। প্রথমে আশীর্বাদ প্রার্থী ছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি প্রথমবার বিশ্ব সেবাশ্রম সংঘে আসেন ও ঠাকুর শ্রী শ্রী সমীর ব্রহ্মচারীকে প্রণাম করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। শুধু তাই নয়, তিনি বিশ্বমাতার মন্দিরে মা কালীকে আরতি করে মায়েরও আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকলেও আশীর্বাদ গ্রহণে পিছিয়ে ছিলেন না কংগ্রেসের তরুণ প্রার্থী সৌরভ সাহা। তিনিও ঢাকঢোল পিটিয়ে সমর্থক সহ মিছিল করে মন্দিরে এসে শ্রী শ্রী বিশ্বমাতাকে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেন। সৌরভবাবু ও শমীকবাবু উভয়েই আশ্রমের জগন্নাথ মন্দির, শিব মন্দির, রুদ্রাক্ষ গাছ, সবতীর্থের জলে পূর্ণ ব্রহ্ম সরোবর দর্শন করেন। তুলনায় দুইবারের বিজয়ী প্রার্থী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সাংসদ অধ্যাপক সৌগত রায় বিশ্ব সেবাশ্রম সংঘের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায়ই আসেন। ব্যক্তিগত ভাবেও তিনি শ্রী শ্রী সমীর ব্রহ্মচারীর গুণমুগ্ধ।তাই ভোটের প্রচারে সৌগত বাবুর আসাটা অপ্রত্যাশিত নয়। তিনিও মন্দিরে এসে সমীরেশ্বরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিশ্বমাতাকে আরতি করে প্রণাম জানিয়ে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। আশ্রমের পাশ দিয়ে ঘুরে প্রচার করলেও মন্দিরে আসেননি বাম প্রার্থী নেপালদেব ভট্টাচার্য। উল্লেখ্য আশ্রম চত্বরেই শ্রী শ্রী বিশ্বমাতার সম্পূর্ণ পাথরের নতুন মন্দিরের নির্মাণ কাজ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের হাত দিয়ে গত ডিসেম্বরে শুরু হয়েছিলো। উক্ত মন্দিরটি স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে কলকাতার অন্যতম দ্রষ্টব্য ও আরাধনার স্থান হতে চলেছে বলেই বিশ্ব সেবাশ্রম সংঘের কর্তৃপক্ষের দাবি। ভোটের প্রাক্কালে বিজেপি, কংগ্রেস ও তৃণমূল – তিন প্রার্থীই নির্মীয়মাণ মন্দিরের কাজে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × three =