বিজেপি দল করাতে নাকি দুই যুবককে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যা‌য়! এমন অভিযোগ বারাসত থানার পুলিশ বিরুদ্ধে , যদিও, পুলিশের বক্তব্য নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওই যুবক ও তার সাথে আর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে

0
Advertisement

সংবাদদাতা, বারাসত :- বিজেপি করছিস! পার্টি করা ঘুচিয়ে দেব!রাতের অন্ধকারে এই বলে দুই যুবককে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যা‌ওয়ার অভিযোগ উঠল বারাসত থানার পুলিশের বিরুদ্ধে।যা ঘিরে রীতিমত সরগরম বারাসতের রাজনীতি। পুলিশের এই দাদাগিরির প্রতিবাদে আজ সকালে বারাসত থানায় বিক্ষোভ‌ দেখান ওই যুবকদের পরিবার ও প্রতিবেশীরা।সামিল হন বিজেপির লোকেরাও। প্রায় আট ঘন্টা হতে চলল, এখনও অবধি গ্রেপ্তারের কোন‌ও কাগজপত্র পুলিশ দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ। যদিও,জোর করে বাড়ি থেকে তুলে আনার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে বারাসত থানার পুলিশের তরফে। তাঁদের বক্তব্য, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তুফান নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তার সাথে সুমন নামে আরও এক যুবককে ধরা হয়েছে। তুফানের মা গৌরী হালদারের অভিযোগ,”গতকাল রাত দুটো-আড়াইটে নাগাদ বাড়ির দরজায় সজোরে ধাক্কার আওয়াজ পেয়ে ঘুম ভেঙে যায়!কে, কে বলে আওয়াজ দিয়ে দরজা খুলতেই ওরা(বারাসত থানার পি সি পার্টি) ভিতরে ঢুকে যায়।এরপর‌ই বলে,তুফান কোথায়!তখন আমি বলি,কেন কি হয়েছে!তারপর, বাইরে বের কথা বলে‌।তখন আমি আমার ছেলেকে ঘুমন্ত অবস্থায় বাইরে নিয়ে আসি।এরপর, আচমকাই কর্তব্যরত এক পুলিশ অফিসার আমার ছেলের কলার ধরে, বলতে শুরু করে, পার্টি করছিস! পার্টি করা ঘুচিয়ে দেব!বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিস!বিজেপি করা ঘুচিয়ে দেব!তখন আমি প্রতিবাদ করি”! তাঁর আরও অভিযোগ,”প্রতিবাদ করায় ওই পুলিশ অফিসার উল্টে আমায় হুমকি দিয়ে বলে,বেশি কথা বললেন না!আপনার ছেলেকে উল্টো পাল্টা কেসে ফাঁসিয়ে দেব!এরপর, একপ্রকার জোর করেই আমার ছেলের কলার ধরে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ”।গৌরী দেবী বলেন,আমার ছেলের পিছনে ওরা অনেকদিন ধরে লেগে রয়েছে। তৃনমূলের লোকজন ওকে মিটিং, মিছিলে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করত!আমি বারন করলেও তৃনমূলিরা শুনতে না। কয়েকদিন ওদের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর ছেলে আর যেতনা।এরপর,একদিন বয়েজ স্কুলের সামনে তুলে নিয়ে গিয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরুন ভৌমিক মারধর করে।বলে,তুই পাড়ার বিজেপির ছেলেদের সাথে আড্ডা মারছিস!বিজেপি করছিস!এরপর,তো গতকাল আমার ছেলেকে পুলিশ দিয়ে থানায় ঢুকিয়ে দেওয়া হল! এবিষয়ে আর‌এস‌এসের বারাসত নগরের কার্যকতা শান্তনু সাহা বলেন,আমরা একটি গনতান্ত্রিক দেশে বাস করি। সুস্থ, সংস্কৃতির মধ্যে দাঁড়িয়ে যে কেউ,যে কোনও পার্টি করার অধিকার রয়েছে। সেখানে তো কারোর বাঁধা দেওয়ায় অধিকার নেই। পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বয়েজ স্কুল এলাকায় আমাদের একটি শাখা সংগঠন রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন সংস্কৃতি মুলক কাজকর্ম হয়ে থাকে।সুমন ঠাকুর বলে যে ছেলেটিকে পুলিশ তুলে নিয়ে এসেছে,সে আমাদের শাখার একনিষ্ঠ সদস্য। তাঁর কার্যক্রমে খারাপ কিছু আমরা এখনও দেখিনি।তা সত্বেও কিভাবে পুলিশ রাতের অন্ধকারে ১৯ বছর বয়সী এক যুবককে তাঁর পরিবারের সামনে জোর করে তুলে নিয়ে আসে?কেন দিনের আলো ফোটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারল না পুলিশ?১০ ঘন্টা কেটে গিয়েছে,কেন এখনও পুলিশ তার গ্রেপ্তারের কাগজপত্র দেখাতে পারল না?বারাসত থানার পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ আর‌এস‌এসের ওই কার্যকর্তা এসব নিয়েই আজ প্রশ্ন তোলেন। তাঁর কথায়,”দেশে তো একটা আইন কানুন আছে! অবিলম্বে ধৃত ওই যুবকদের ছাড়া না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। এদিকে,পুলিশের বিরুদ্ধে দাদাগিরির অভিযোগ তুলে আজ সকালে বারাসত থানায় সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে ওই যুবকদের পরিবার ও পাড়া প্রতিবেশীরা। পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা যায় বিজেপি নেতাদের।তবে, পুলিশের বিরুদ্ধে দাদাগিরির অভিযোগ মানতে চাননি বারাসত থানার আইসি দীপঙ্কর ভট্টাচার্য।তিনি “তুফান ও সুমন নামে যে দু-জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সুনির্দিষ্ট সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে ধরা হয়েছে ওই দু-জনকে।তাই, মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার কিংবা ফাঁসানোর অভিযোগ কোন‌ওটাই ঠিক নয়। কিন্তু,তাহলেও প্রশ্ন থেকে যায়।যদি তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থেকেই থাকে, তাহলে কেন তাদের আগে গ্রেপ্তার করা হলনা?তবে,এর উত্তর পাওয়া যায়নি আইসি দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের কাছ থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × three =