বিকল্প কাজের ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়ে বলেছিল ঘর দেবে, টোটো গাড়ি দেবে! প্রায় তিন মাস হতে যাচ্ছে। ভোটের কথা বলে বাবুদের আর দেখা নেই

0

সুজয় মন্ডল, বসিরহাট :- কয়েক মাস আগে বনবিবি সেতুর উদ্বোধন হয়েছে। শুধুর সুন্দরবনের হেমনগর , কালিতলা, স্যামসাং নগর ও হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার সমস্ত গ্রাম গঞ্জের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তন হয়ে গেছে । এখন হাতের মুঠোয় বসিরহাট ,কলকাতা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অফিস আদালত নিমেষের মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায়।
কিন্তু কয়েক বছর আগেই এই অবস্থাটি ছিল না , ভাবাই যেত না বাড়ি থেকে সকালে বেরোলে আবার কখন বাড়িতে ফিরব। কিন্তু কয়েকটি বছর আগেই এটাই ছিল একটা দুঃস্বপ্ন হাসনাবাদের এই নদী পারাপার কারণেই। যেমন যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। কিন্তু রুটি রুজি কেড়ে নিয়েছে। বিকল্প কাজের ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছিল। বলেছিল ঘর দেবে, টোটো গাড়ি দেবে। প্রায় তিন মাস হতে যাচ্ছে। ভোটের কথা বলে বাবুদের আর দেখা নেই। যেটুকু জমা টাকা ঘরে ছিল তা শেষ হয়ে আসছে। নেতাদের কথা কেউ আর বিশ্বাস করছে না। অর্ধেকের বেশি নৌকা বেচে গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে।আমরাও চলে যাব। ভেবেছিলাম ঘাট বন্ধ হলে অন্তত মাছ ধরে সংসারটা সামলে নেবো। কিন্তু মাছ কোথায়? কল কারখানার দূষিত জল ঢুকে মাছ মরে যাচ্ছে নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় মাছ ও ঠিকঠাক পাওয়া যাচ্ছে না। ব্রীজ হোক আমরাও চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি ব্রীজ আমাদের জীবনে অভিশাপ ডেকে এনেছে। এক অনিশ্চিত জীবনের দোরগোরায় এসে এমন আক্ষেপ ঝরে পড়লো মন্টু বৈদ্য,খগেশ্বর মণ্ডল, লক্ষণ মণ্ডল, অশোক বিশ্বাসদের গলা থেকে।
উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের পশ্চিম ট্যাংরামারি,পূর্ব আঙনারা গ্রামের সহজ সরল গ্রামীণ জীবনে।
বনবিবি সেতু। হাসনাবাদের কাটাখালি নদীর উপর গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যার উদ্বোধন হয়ে গেল ঢাক ঢোল পিটিয়ে। বামফ্রন্ট সরকারের শেষ সময়কালে যার শুরু। শেষ করলো বর্তমান রাজ্য সরকার।এই সেতু হওয়ার ফলে ১৯৭১সালের আগে থেকে যারা নৌকায় নদী পারাপারের কাজ করতো আজ তারা প্রায় ৫০ বছরের জীবিকা হারিয়ে দিশেহারা। সেদিন যাদের বয়স ছিল ১৩,১৪ আজ তাদের বয়স ৬০,৬২,৬৩। নেই বার্ধক্য ভাতা। নেই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর।এই বয়সে কাজ হারিয়ে কোথায় যাব? সারাদিন বসেই কাটে । এর ভিতর একজনের মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসলো মরণটা হলে বাঁচি।স্মৃতি আঁকড়ে পাড়ে তুলে রাখা নৌকায় বসে আক্ষেপের সাথে শোনালেন নব্বই ছুঁইছুঁই চন্দ্রকান্ত হাজরা, ষাটোর্ধ্ব গোবিন্দ বিশ্বাস। বার্ধক্য ভাতা চেয়েছিলেন স্হানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের কাছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি এই অসহায় বোধ আমাদের নৌকা মাঝিদের কুরে কুরে খাচ্ছে কি করবো কিভাবে আমাদের দিনটা চলবে ভাবতেই পারছিনা এখনো পর্যন্ত কোন সরকারি সাহায্য পেলাম না। এই বিষয় নিয়ে হাসনাবাদ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি এসকেন্দার গাজী সাথে কথা বললে উনি জানান অনুভূতি সেতুর উদ্বোধন এর সাথে সাথে ভোট ঘোষণা হয়ে যায় যার ফলে ইলেকশন কমিশনার এর অধীনে থাকায় কিছু করতে পারিনি পরিকল্পনা আছে উনাদের কে নিয়ে ইন্দ্রিরাবাসন ঘর এবং টোটো গাড়ির ব্যবস্থা করে পরিবারগুলোর মুখে রুটি-রুজির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা চলছে হাসনাবাদ পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

9 + four =