সানওয়ার হোসেন, দ: ২৪ পরগনাঃ- আবারো এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বার ধর্মতলা রামগঙ্গা গামি ভুতল বাসে ওষুধ খাইয়ে বেহুঁশ করে এক যাত্রীর কাছ থেকে টাকা পয়সা সহ সর্বস্ব লুট করে নিয়ে পালালো দুষ্কৃতীরা। অচৈতন্য অবস্থায় গঞ্জের বাজার এলাকায় বাসের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে কন্টাকটার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবকের নামার কথা ছিল ধ্রুব বাজার, অচিন্ত্য নগর এলাকায় যাওয়ার কথা। কন্টাকটার বাসে পড়ে আছে দেখে সঙ্গে সঙ্গে গঞ্জের বাজারে দাঁড়িয়ে থাকা সিভিক ভলেন্টিয়ার কে সমস্ত ঘটনা জানান। ঘটনাটি জানতে পেরে সিভিকরা বাস থেকে নামিয়ে চোখেমুখে জল দেয়। জ্ঞান না ফিরলে সিভিক ভলেন্টিয়ার পাথরপ্রতিমা থানার ওসি সঞ্জয় দে কে জানান, ওসির নির্দেশে সিভিক ভলেন্টিয়ারা গদামথুরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসে। পকেটে থাকা মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। অসুস্থ যুবকের মা-বাবা হাসপাতালে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জানা যায়, বৃদ্ধ দম্পতির একমাত্র সন্তান বর্ধমান ধানের মিলে কাজ করত, বাড়িতে বারবার টাকা চাওয়া সত্ত্বেও গত তিনমাসে কোনো টাকা পাঠাই নি। একইসঙ্গে টাকা নিয়ে দেনা শোধ করার ইচ্ছায় আজ বাড়িতে আসছিল। সকালে মা বাবাকে ফোন করে জানায়, ধর্মতলা থেকে ভূতল বাসে উঠছে সঙ্গে ২৫ হাজার টাকা এবং ছেলের জন্য বিভিন্ন খাবার রয়েছে। কিন্তু ছেলের সর্বস্ব লুট হলেও মা-বাবা চায় তাদের সন্তান সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরুক।

এই নিয়ে এক মাসের মধ্যে ৭বার একই ঘটনা ঘটল ধর্মতলা রামগঙ্গা ভুতল বাসে। গতকাল ঘটনাটি ঘটেছে দুপুর বারোটা দশ নাগাদ। যেটুকু জানা গিয়েছে সহযাত্রীদের ধর্মতলা থেকে সম্ভবত ওই সমস্ত দুষ্কৃতীরা উঠে যাত্রীদের পাশে বসে খাতির জমায়, আলাপ এর মাধ্যমে কিছু খেতে দেয়। তারপরেই অজ্ঞান করে সমস্ত লুট করে। বর্তমানে বাস যাত্রীটি গদামথুরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি আছে।