Advertisement

অগ্নিভ ভৌমিক, বিশেষ সংবাদদাতা :- অর্মত্য সেনের পর অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন আরও এক বাঙালি, অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। এনার সাথেই যুগ্মভাবে নোবেল পেয়েছেন এস্তার ডাফলো ও মাইকেল ক্রেমার। নোবেল কমিটি জানাচ্ছে, দারিদ্র দূরীকরণ নিয়ে গবেষণার জন্যেই পুরস্কার দেওয়া হল এই ত্রয়ীকে।

অভিজিৎ যেমন দ্বিতীয় বাঙালি অর্থনীতিবীদ হিসেবে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হলেন ঠিক তেমন তার স্ত্রী ডাফলো বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা অর্থনীতিবীদ হিসেবে নোবেল পেলেন এবছর। এমনকি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অর্থনীতির নোবেল প্রাপকও তিনি।

এদিন নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘ওঁদের গবেষণা গোটা বিশ্বকে দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়ার নতুন হাতিয়ারের সন্ধান দিয়েছে। মাত্র দুই দশকে ওঁদের গবেষণা পদ্ধতি উন্নয়ন অর্থনীতির রূপরেখা বদলে দিয়েছে। এখন অর্থনীতির গবেষণায় এটি অন্যতম পাথেয় মডেল।’’

এর আগে ১৯৯৮- এর ১৬ই ডিসেম্বর অর্মত্য সেনের হাত ধরে অর্থনীতিতে ভারত প্রথম নোবেল পায়। একজন বাঙালি অর্থনীতিবীদ হিসেবে সমগ্র ভারতেকে, বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছিলেন তিনি। সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিতে অর্মত্য সেন অর্থনীতির বিষয়গুলো বিশ্লেষন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “অর্থনীতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগসূত্র থাকবে। তা না হলে অর্থনীতি নেহাতই একটি তাত্বিক বিষয়ে পরিণত হবে।”

অমর্ত্য সেন চেয়েছিলেন অর্থনীতিকে সাধারণ মানুষের সাথে জুড়তে। আর অভিজিৎ ও তার স্ত্রী এস্থার ডাফল সেই সাধারণ দরিদ্র মানুষদের অর্থনীতি সমস্যা দূরীকরণের গবেষণায় বদ্ধপরিকর হয়েছিলেন। বিশ্বের দারিদ্র নিয়ে গবেষণার জন্যে ২০১৩ সালে এনারা যুগ্মভাবে ‘আব্দুল লতিফ জামিল প্রভার্টি অ্যাকশান ল্যাব’ গড়ে তুলেছিলেন। তাঁদের পরীক্ষামূলক গবেষণাকেই সম্মান জানিয়েছে নোবেল কমিটি।

অভিজিৎ একজন আমেরিকান ভারতীয়। ১৯৬১ সালে মুম্বইয়ে তাঁর জন্ম। তিনি প্রাথমিক পড়াশোনা সারেন সাউথ পয়েন্ট স্কুলে। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হন অভিজিৎ। সেই বছরই স্নাতকোত্তর পড়তে চলে যান জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘ইনফরমেশন ইকোনোমিক্স।’

এই মুহূর্তে ফোর্ড ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক অধ্যাপক হিসেবে এমআইটি-তে কর্মরত অভিজিৎ বিনায়ক। রাষ্ট্রপুঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ পদের ছিলেন অভিজিৎ। ২০১৫ পরবর্তী ডেভলপমেন্ট অ্যাজেন্ডা কর্মসূচিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের সচিবের বিশিষ্ট প্রতিনিধি প্যনেলে ছিলেন তিনি। অর্থনীতি বিষয়ে বিনায়কের লেখা চারটি বই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তার মধ্যে ‘পুওর ইকোনোমি’ বইটি গোল্ডম্যান সাচস বিজনেস বুক সম্মানে ভূষিত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

seventeen + eleven =