সমীর দাস, কলকাতা :- ভারত যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসরে হিন্দী সাম্রাজ্যবাদের ফলস্বরূপ যে সকল অহিন্দী ভাষিক জাতিগোষ্ঠীর মানুষ তীব্র বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তার অন্যতম হলো বাঙালি।আজ এ বাংলায় ভূমিসন্তানের অধিকার অর্জনের লক্ষ্যে এক নতুন রাজনৈতিক সংগঠন স্থাপনের একান্ত প্রয়োজন। তাই বাংলার বুকে বাঙালিদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে ভাষা জোগাবে জাতীয় বাংলা সম্মেলন”আত্মপ্রকাশ করে আজ কলকাতা প্রেস ক্লাবে। উপস্থিতি ছিলেন অনির্বান বন্দ্যোপাধ্যায়, কার্যকারী সভাপতি, তন্বী দাস, কার্যকারী সহ সভাপতি সিদ্ধব্রত দাস, কার্যকারী সাধারণ সম্পাদক ও অতিথি অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র মুখোপাধ্যায়, মানভূম আন্দোলনের সৈনিক, ইতিহাসবিদ, প্রাক্তন বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের রিডার, ভারতের ১৮টা ও ১টা বিদেশি বিশ্যবিদ্যালের এক্সামিনার, ইউজিসির এক্সপার্ট মেম্বার, ইউপিএসসির আইটেম রাইটার, অসংখ্য বইয়ের লেখক যার মধ্যে “ব্রিটিশ রেসিডেন্টস এট দা দারবার অফ বেঙ্গল নবাবস অফ মুর্শিদাবাদ” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিচারে ৫ স্টার পেয়েছে।

মনোরঞ্জন ব্যাপারী, সাহিত্যিক ও সমাজ সেবি, ২০১৮ সালের দা হিন্দু লিটারারী প্রাইজ পুরস্কার প্রাপ্ত এবং সাহিত্যে দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ পুরস্কার “ডিএসসি প্রাইজ,২০১৯” জন্য মনোনীত হয়েছেন। বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে বিভিন্ন দাবী! তবে বাংলা পক্ষ নামক একটি ভূমিসন্তানের জাতীয়তার কথা বলার রাজনৈতিক সংগঠন স্থাপন করি। সময়ের সাথে উক্ত সংগঠন যে নীতি ও লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল তার থেকে ধীরে ধীরে বিচ্যুত হতে শুরু করে। নেতৃত্বের একাংশ ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে বাঙালির অধিকার অর্জনের সংগ্রামের তুলনায় জাতি বিদ্বেষী ও জাতিবাদী কর্মকান্ডে অধিক মনোনিবেশ করেন, বাঙালির জাতীয়তার থেকে হিন্দুত্ববাদী বাঙালির স্বপক্ষে প্রচার করাটাকে অধিক গুরুত্ব দেন।ক্রমে ক্রমে বাংলা পক্ষ তার গোড়ার কথা ভুলে একটি প্রতিক্রিয়াশীল বিদ্বেষধর্মী রাজনৈতিক বয়ান নির্মাণের পথে হাঁটতে থাকে যা ছিল তার স্থাপনের সার উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। এই আমূল ভোলবদল নিয়ে সংগঠনের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট বিভাজন সৃষ্টি হয়, যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। অবশেষে ২৭ অক্টোবর বাংলা পক্ষ সংগঠন দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × 3 =