অভিজিৎ হাজরা, হাওড়াঃ- সবচেয়ে জনবহুল রেলস্টেশন বাগনান। এটি দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়গপুর শাখার অন্তর্গত। লক্ষাধিক মানুষের নিত্য যাতায়াত এই রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করে। বাগনান -আধুনিক বাগনান হিসাবে গড়ে উঠছে। এর জন্য স্থান সংকুলান না হওয়ায় ক্রমশঃই গড়ে উঠেছে ও উঠছে একের পর এক বহুতল।গত কয়েক বছরে বাগনানে বহুতল গড়ে উঠলেও, আধুনিক বহুতল নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম নীতি মানা হচ্ছে না বলে বাগনানবাসীদের অভিযোগ।

এই বাগনান শহরকে কেন্দ্র করে বাসস্ট্যান্ড, একাধিক স্কুল, কলেজ, পোস্ট অফিস ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, হাসপাতাল থাকার কারণে কাজের সুবাদে অনেকেই বাগনানে এসে থাকছেন। ফলে ক্রমশঃ জনসংখ্যার চাপে বাড়ছে বহুতলের চাহিদা। আর এই সুযোগে প্রমোটাররা ম্যানেজ সিস্টেমকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক বহুতল নির্মাণ করে চলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বহুতলের আবাসিকদের অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রমোটাররা কোনো রকমে ফ্লাটের চাবি তুলে দিয়েই খালাস। অসম্পূর্ণ কাজ আর করতে চান না। তাছাড়া আধুনিক বহুতল এর নিয়ম অনুযায়ী দমকলের গাড়ি যাতায়াতের পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে, ড্রেনেজ সিস্টেম যথাযথ রাখতে হবে, আবাসিকদের অনুষ্ঠান করার জন্য যথাযথ জায়গা রাখতে হবে। কিন্তু এর কোনটাই যথার্থ নয়।

এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাগনান শহরে এমন বহুতল গড়ে উঠেছে-যেখানে দমকলের গাড়ি যাতায়াতের জন্য সামান্য জায়গা টুকু ও নেই। আগুন ধরলে যে কি হবে তা ভেবেই আতঙ্কিত বাগনানের পুরাতন বাসিন্দা সহ ফ্লাটের বাসিন্দারা।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, এই বিষয়ে প্রোমাটার সহ প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে অভিযোগ করে ও কোন ফল হয়নি। অথচ একটু বৃষ্টি হলেই বাগনান শহরে জলে ভাসে। একটা গলিতে আগুন লাগলে তার যে কি ভয়ঙ্কর পরিণতি হবে তা ভাবলেই শিউরে উঠতে হয়।

বাগনান স্টেশন সংলগ্ন এক ফ্লাটবাসি জানালেন, ফ্লাটের অনেক নিয়ম না মেনেই প্রমোটার ফ্লাটবাসিদের হাতে ফ্লাটের চাবি তুলে দিয়েছেন। ফ্লাটের কাজ ও অসম্পূর্ণ রয়েছে। বহুবার প্রমোটারকে এই বিষয়ে জানালেও কোনো ফল হয়নি।