নিজস্ব সংবাদদাতা, বসিরহাট :- এক অনন্য নজির! বাংলার সংস্কৃতির ঐতিহ্য এখনও জীবিত। জাতপাত ধর্মীয় ভেদাভেদ ঊর্ধ্বে তুলে প্রায় দু কিলোমিটার রাস্তা পথে হেঁটে। গ্রামের উদ্যোগ নেন তৌফিক হোসেন বিশ্বাস। কবিরুল মিজানুর মানু ও রুস্তম কাঁধে চড়ে কাঠের দোলায় বসিরহাট শ্মশান ঘাটে যুবকের শবদেহ আনেন। । সঙ্গে কয়েকশো মুসলিম ভাইয়েরা। হিন্দু ধর্মের আচার উপাচার মেনে নিজেরাই খরচা দিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করল। গতকাল সোমবার বসিরহাট সংগ্রামপুর পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা পেশায় দিনমজুর বছর একুশের অমিত বিশ্বাস দুপুর বারোটা নাগাদ পেট্রোল পাম্প তেল আনতে যায় । একজনের মোটরসাইকেলে করে কামারডাঙ্গা মোড়ে তেল আনতে যাচ্ছিল। সেই সময় ম্যাজিক গাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়লে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে বসিরহাট জেলা হাসপাতালের পাঠালে, বিকেল বেলায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে পড়ে প্রায়। ১৩ বছর আগে বাবা- নব রঞ্জন বিশ্বাস এর মৃত্যু হয়। শেষ সম্বল মা রীতা বিশ্বাস দুই সন্তানকে কোনরকম ভাবে মানুষ করেছেন । পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে একমাত্র রুজি রুজি রোজগার করত অমিত। কোনে ভাবে তাদের সংসারটা চলতো। এই মৃত্যুতে শোকার্ত সংগ্রামপুর পশ্চিম পাড়া । গোটা গ্রামটায় সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত। মাত্র দু একটি হিন্দু পরিবার রয়েছে । তাই দাহ করার মত একদিকে অর্থ প্রয়োজন অন্যদিকে লোকজনের সমস্যা। তাই এগিয়ে আসলো গ্রামের কয়েকশো মুসলিম ভাইরা। শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে কাঠের দোলায় চাপিয়ে পথ হেটে শ্মশানে পৌঁছায়। সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থ দিয়ে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করল। এটাই তো সম্প্রীতির এক নিদর্শন। এটা বাংলা সংস্কৃতি আরো একবার প্রমাণ হলো । দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ । সব মিলিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দিল।