বিশেষ সংবাদদাতা :- দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে নাট্যচর্চায় নিয়োজিত আছে বর্ধমানের ‘অরিত্র’ নাট্যসংস্থা। এর আগে এই সংস্থা বর্ধমান সহ রাজ্যবাসীকে উপহার দিয়েছে কালাজ, বনসাই, মল্লিক ব্রাদার্স, জীবনমৃত্যু, পাখি, মেরুদণ্ড, শত্রু, ঘটমান দুর্ঘটনা, ব্রুটাস তুমিও, ইত্যাদি বিখ্যাত নাটক। বিগত কয়েক বছর ধরে সংস্থার নাটক ‘গায়েন’ বর্ধমান জেলার সীমানা ছাড়িয়ে রাজ্যের নাট্যমোদী দর্শককে আপ্লুত করেছে। ২০১৬ সালে অরিত্র তাদের নতুন প্রযোজনা ‘মোটেরামের সত্যাগ্রহ’ শুরু করে। সংস্থার ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি সংস্কৃতি লোকমঞ্চ এক নাট্যসন্ধ্যার আয়োজন করে অরিত্র৷ তাদের অন্যতম সেরা প্রযোজনা, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাহিনী অবলম্বনে শেখর সমাদ্দার রচিত নাটক ‘গায়েন’ এবং সাম্প্রতিকতম প্রযোজনা মুন্সি প্রেমচাঁদের কাহিনী অবলম্বনে বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায় রচিত নাটক ‘মোটেরামের সত্যাগ্রহ’ এই সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয়। পরিচালক নীলেন্দু সেনগুপ্তের নির্দেশনায় দুটি নাটকই বর্ধমান শহরের দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। শিবতোষ বোস, মৌসুমী মুখার্জি, সাধন চন্দ্র সুমন্ত রায়, বিশু পাল, অসীম দে, সুভাষ চক্রবর্তীদের সহ সকলের অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে৷ এই নাটকের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল লাইভ মিউজিক। অর্থাৎ এই নাটকে কোন রকম সাউণ্ড ট্র্যাক ব্যবহার করা হয়নি৷ মঞ্চের মধ্যেই বসে সংগীত পরিচালক পার্থ বসু হারমোনিয়াম নিয়ে নাটকের সুর প্রক্ষেপণ করেন। নাটকগদুটিতে থাকা গানগুলিও তাঁরই সুর দেওয়া। নাটকে ব্যবহার হওয়া গানগুলি এবং তার সঠিক প্রয়োগ দুটি নাটকেই অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয়। আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য, দুটি নাটকের জন্যই বর্ধমান সংস্কৃতি প্রেক্ষাগৃহ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ৷ এই দর্শক সংখ্যা বর্তমান সময় নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের আলাদা শক্তি ও উৎসাহ যোগাবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন সকলে৷
এদিনের এই নাট্যসন্ধ্যায় অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত নাট্যব্যাক্তিত্ব তথা বহুরুপী নাট্যসংস্থার বর্তমান পরিচালক গৌরিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়। তিনি এই তাঁর
বক্তব্যে ব্যাপক দর্শক সমাগমের প্রশংসা করেন।