সানওয়ার হোসেন, ঢোলাহাটঃ- পুরানো প্রেম ফিরে পেতে নাবালিকা প্রেমিকাকে চাপ দিতে শুরু করে প্রেমিক। কিন্তু সম্পর্কে ফিরতে রাজি না হওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই নাবালিকা ছাত্রীর অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় প্রেমিক। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই অপমানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঢোলাহাট থানার রবীন্দ্র গ্রামপঞ্চায়েতের ১৪ নম্বর মৃনালনগরে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে মৃতের নাম প্রথমা জানা(১৬)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃনালনগর এলাকার সাহা পাড়ার বাসিন্দা প্রথমা স্থানীয় রাখাল বিদ্যামন্দিরে পড়ত। এ বছরই মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল সে। দুই ভাই মধ্যে প্রথমা বড়। স্কুলে মেধাবী ছাত্রী হিসেবেই পরিচিত ছিল সে। কিন্তু গত দু’বছর আগে প্রতিবেশী যুবক বাপ্পা বারিকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রী। বাড়িতে কিছু না বলে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল সে৷ পরে পরিবারের লোকজন থানায় খবর দিলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হোমে রেখেছিল। গত বছরই তাকে হোম থেকে বাড়িতে ফেরানো হয়েছিল। প্রেমের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে স্কুলেও ভর্তি হয় ওই ছাত্রী। কিন্তু নতুন করে প্রতিবেশী যুবক বাপ্পা ছাত্রীকে সম্পর্কে থাকার জন্য চাপ দিতে থাকে বলে অভিযোগ। কিন্তু রাজি হয় নি ছাত্রী। এরপর ছাত্রীর নামে ফেসবুকে একটি ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ছবি পোস্ট করে বাপ্পা। সেই ছবি ছড়িয়ে পড়তেই অপমানে আত্মঘাতী হয় ছাত্রী।

এরপর রবিবার রাতে বাড়ির পাশের একটি গাছে গলায় গামছার ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়ে সে। বিষয়টি নজরে আসতেই তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এদিন মৃতদেহটির ময়নাতদন্ত হয় কাকদ্বীপ হাসপাতাল মর্গে। মৃতের পরিবারের লোকজন থানায় প্রেমিল বাপ্পা বারিকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক বর্তমানে ভিন রাজ্যে কর্মরত। এই ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং আইটি-অ্যাক্টে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।