মোর্তজা আহমেদ, নদিয়া :- নদিয়া জেলার বামপন্থী নেতৃত্ব এবং সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের রাজ্য কমিটি সদস্য কমরেড বিমান বিশ্বাস আজ সকাল মৃত্যুবরণ করেন । গত ২৮ সেপ্টেম্বর কিডনীর গুরুতর রোগের চিকিৎসার জন্য তিনি কলকাতায় আসছিলেন। সে সময় আকস্মিক ভাবে পড়ে গিয়ে তার কোমরের নীচের হাড় ভেঙ্গে যায়। তারপর থেকে কলকাতা মেডিকেল কলেজে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ছাত্রজীবনেই তিনি নকশালবাড়ীর কৃষক অভ্যূত্থানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে, দরিদ্র ভূমিহীন কৃষক শ্রেণীকে জাগিয়ে তোলার কর্মকান্ডে সারাটা জীবন ধরে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। ‘৭০ দশক এবং তার পরবর্তী সময়কালে দীর্ঘ সময় ধরে গ্রাম গ্রামান্তরে- জেলখানায় তিনি জোতদার- দালাল শ্রেণী ও শাসকের খুনী বাহিনী এবং রাস্ট্রীয় সন্ত্রাসের মোকাবিলা করেছেন। বিরাট এলাকা জুড়ে তিনি এবং তাঁর পরিচালনায় এক গণপার্টি সংগঠন পরিনত হয়েছিলো জনগণের শত্রুদের কাছে “ত্রাস”- পাশাপাশি গরীব মানুষের কাছে নয়নের মনি। নদীয়া জেলার বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলে সিপিআই(এমএল) এর নেতৃত্বে বিপ্লবী ভূমিসংস্কারের আন্দোলন-শত শত একর পরিমান খাস-বেনামী জমি উদ্ধার করে ভূমিহীনদের বিলি করা,বাস্তু স্থাপন করা,সসস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তোলার দীর্ঘ কর্মকান্ডে তিনি ছিলেন প্রকৃতই যেন এক “জননায়ক”। সামন্ত আধিপত্য ধ্বংস করে গরীব-খেটেখাওয়া মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সর্বজন গ্রহণীয় এক জননেতা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নদীয়া জেলা পার্টির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
‘৭৮ সালে চাপড়া ব্লক সন্নিহিত এলাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চক্রান্তের বিরুদ্ধে সব ধর্মের – সব জাতির কৃষক জনগণের সংগ্রামী একতা গড়ে তুলেছিলেন। ৪০ বছর পর বর্তমান সময়ে আবারও নতুন করে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃস্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সেই চাপড়ার বুকেই বামপন্থীদের যুক্ত সম্প্রীতি মিছিলের সামনের সারিতে সোচ্চার থেকেছেন। অর্ধশতাব্দী সময়কালব্যাপী তাঁর কমিউনিস্ট বিপ্লবী জীবনের আজ অবসান হলো। কিন্তু অবিনশ্বর হয়ে থাকবে তাঁর একরোখা অথচ গণমুখী সংগ্রামী কর্মকান্ডের স্মৃতি,বিপ্লবী স্পিরিটের মর্মবাণী।