Advertisement

সুজয় মন্ডল, হিঙ্গলগঞ্জঃ- পৌষ সংক্রান্তির রোদ মাখা সেই দিনে পৌষ সংক্রান্তির দিনে রূপমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের পার্শ্ববর্তী মাঠে শুরু হয় সারাদিনের বিশাল বড় জায়গা জুড়ে মোরগ লড়াই। এই মোরগ লড়াইয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামের যেমন দুর্গাপুর বিশপুর, পূর্ব খেজুরবাড়িয়া, স্যান্ডেলের বিল, আমবাড়িয়া এমনকি সন্দেশখালির বেশকিছু গ্রাম ও শুধু হাসনাবাদ থেকে বহু মানুষ মোরগ লড়াই দেখতে ও খেলতে আসেন। এক কথায় ওই পৌষ সংক্রান্তির পূর্ণ দিনটি ঐতিহাসিক দিন বলে রূপমারি গ্রামের মানুষজন মনে করেন। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা তাদের টুসু উৎসব এর সঙ্গে মোরগ লড়াই কে সমানভাবে উদযাপন করেন । আর সেইসঙ্গে থাকে তাদের হাতে বানানো হাড়িয়া মদ যা বয়স্ক নারী পুরুষ এমনকি যুবক-যুবতীরা ওইদিন মদ পান করে তাদের টুসু দেবতার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

এই টুসু উৎসবে তারা তাদের বানানো জারি গান মধুর সুরে গাইতে থাকেন। কথা বলতে বলতে এক টুসু শিল্পী পরেশ সদ্দার এক কলি টুসু গান গেয়ে ওঠেন। হামদের টুসু , তোন্দের টুসু ব্যাল পারতে যায়, টুসু গিয়ে দেখে এল কচি ব্যাল ধইরাছে গাছে, ব্যাল গাছ টি পোতা আছে মামার বাড়ির কাছে। এই সমস্ত নিজেদের তৈরি বিভিন্ন জারিগানের মধ্য দিয়ে সারিবদ্ধ ভাবে নৃত্যগীত সহকারে সারারাত টুসু দেবতার সামনে নাচতে থাকে। এই দিনটি আদিবাসীদের কাছে বিশেষ পর্বে দিন। অনেক জায়গায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষরা টুসু দেবতাকে লক্ষ্মী দেবতা বলে মানে। ওইদিন মোরক লড়াই উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের দোকান যেমন সবজির দোকান, ছোটখাটো খাবারের দোকান, ভাজাভুজির দোকান, মাংসের দোকান, এমনকি রান্না করা মাংস, রুটি হোটেল ,মিষ্টির দোকান সমস্ত রকমের নিশার দোকান পাশাপাশি বসে। মোরগ লড়াইয়ের জন্য মেলার মাঝখানে অনেকটা জায়গা বাস খুঁটি দিয়ে এরিয়া নির্দিষ্ট করে রাখা হয় ।সেই জায়গায় জোড়া করা দুটো মোরগ পায়ে অস্ত্র বেঁধে লড়াই লাগিয়ে দেন কার দ্বারা।

যতক্ষণ না একটি মোরগ হেরে যায় ততক্ষণ এই লড়াই চলতে থাকে। কোন একটি মোরগ হেরে গেলে বা মারা গেলে যে মুরগীটি জীবিত থাকবে সেই মোরক এর মালিক কে জয়ী বলে ঘোষণা করা হবে। যার মোরগ হেরে যাওয়া মোরগটি জয়ী’ ব্যক্তির পাওনা হয়। হেরে যাওয়া মোরগ টিকে গ্রাম্য চলতি বলা হয় পাহুড়, জিতে যাওয়া মোরগ কে বলা হয় জিতকার। দূরদূরান্ত থেকে যারা মোরগখেলা উপভোগ করতে আসেন প্রায় সন্ধা পর্যন্ত হোলি উৎসবে মেতে থাকেন। তখন সম্প্রদায়গত বাধা পেরিয়ে সকলে একাকার হয়ে যান।

এই বিষয়ে সাহেবখালী থেকে মোরগ খেলতে আসা এক ব্যক্তি স্বপন খাটুয়া জানান, আমরা এই দিনটার অপেক্ষায় থাকি আনন্দ উপভোগ করার জন্য। প্রায় এক বছর ধরে একটি ছোট মোরগ কিনে তাকে বাড়িতে রেখে বড় করে তোলে। এবং দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই করার জন্য প্রস্তুত করি ওই মোড়কে। তারপরেই পৌষ সংক্রান্তির দিনে নিয়ে আসি লড়াইয়ের ময়দানে।

যদিও এই বিষয়ে পশুপ্রেমীদের একাংশ এইরকম নিশংস জনক প্রাণী লড়াই ও খেলা কে সমর্থন করেন না। এবং উনাদের পক্ষে থেকে চান প্রশাসনের তরফ থেকেই যেন এই মোরগ লড়াই খেলা টি বন্ধ করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

fourteen − ten =