নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়াঃ- পুরুলিয়ার সূচকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার ফাঁসির রায় দিল পুরুলিয়া জেলা আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক রমেশ কুমার প্রধান। এই হত্যাকাণ্ডকে বিরলতম ঘটনা বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী। গত শুক্রবার সূচকাণ্ডে ইতিমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল প্রধান দুই অভিযুক্ত পুরুলিয়া মফস্বল থানার নদিয়াড়া গ্রামের সনাতন ঠাকুর এবং শিশু কন্যাটির মা মঙ্গলাকে।

গত শুক্রবার পুরুলিয়া জেলা আদালতে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক রমেশ কুমার প্রধান তাদের ৩০২, ১২০ বি এবং ৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। সরকারি আইনজীবী আনোয়ার আলি আনসারী বিচারকের সামনে ঘটনাটি বিরলের মধ্যে বিরল আখ্যা দিয়ে চরম শাস্তি দাবী করেন। এরপরই সোমবার একদিনের জন্য রায় স্থগিত করে দেন বিচারক। আজ মঙ্গলবার জেলা আদালতে হাজির করানো হয়েছিল সনাতন এবং মঙ্গলাকে। আদালত কক্ষের কাছে আসতেই কান্নায় একেবারে ভেঙ্গে পড়ে মঙ্গলা। মেঝেতে পড়ে যায় সে। বার বার নিজেকে নির্দোষ দাবী করতে থাকে সে। বলে সে মুক্তি চায়। নিজের শিশুকন্যার ভয়ানক মৃত্যুর কথা জিজ্ঞাসা করা হলেও সে জানায় নিজের বাচ্চাকে কি কেও খুন করতে পারে। সনাতন গোস্বামী রায় শোনার পর নিশ্চুপ হয়ে যায়।

এদিন সে দাবী করে শিশুকন্যাটিকে সে খুন করেনি। উল্লেখ্য ২০১৭ সালের ১১ জুলাই পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি করা হয় মঙ্গলার তিন বছরের শিশুকন্যাকে। পরীক্ষা করে দেখা যায় তার নিম্নাংগে সাতটি সূঁচ ঢোকানো আছে। তাকে এখান থেকে প্রথমে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ এবং পরে এস এস কে এম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ২১ শে জুলাই মৃত্যু হয় শিশুটির। পরের দিন গ্রেফতার করা হয় শিশুর মা মঙ্গলাকে। আজ অভিযুক্ত দুজনেরই ফাঁসির সাজা হল।