পাঁচ বন্ধুর তৎপরতায় প্রাণ ফিরে পেল ট্রেন থেকে পরে যাওয়া এক যুবক

0

নিজস্ব সংবাদদাতা :- পাঁচ বন্ধুর তৎপরতায় প্রাণ ফিরে পেল ট্রেন থেকে পরে যাওয়া যুবক। শনিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই বছর আঠেরো-বাইশের পাঁচ যুবক। জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার শিয়ালদহ বনগাঁ রেল শাখায মছলন্দপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ছেড়ে শিয়ালদহের দিকে যাচ্ছিল বনগাঁ লোকাল। মছলন্দপুর সাদপুর এক নম্বর রেল গেটের কাছে ট্রেন থেকে পরে যায় এক যুবক। রক্তাক্ত ওই যুবক তখন রেললাইনের পাশে যন্ত্রনায় ছটফট করছে আর তাঁকে ঘিরে চলছে জটলা কিন্তু উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাবার কেউ নেই। মাঝে মাঝেই গোঙ্গানীর আওয়াজে ভেসে আসে একটু জল খাবার প্রত্যশা , কিন্তু আইনি জটিলতা এবং প্রশাসনের ভয়ে কেউ ধরতে চাইছে না আহত যুবককে। খবর পেয়ে স্থানীয় সাতপুরের বাসিন্দা বারো ক্লাসের ছাত্র নিলয় বিশ্বাস ঘটনাস্থলে এসে দেখে জীবিত আছেন যুবক। সাথে সাথে সাতপাঁচ না ভেবেই আরো চার বন্ধু রাহুল বিশ্বাস,স্বজল ব্যপারী, তুষার মন্ডল এবং নান্টু চৌধুরীকে ডেকে পাঁচ বন্ধু মিলে স্থানীয় ভ্যান ডেকে দুইশো টাকা ভ্যান ভাড়া নিজেদের খরচায় মছলন্দপুর বাউগাছি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে অবস্থা খারাপ থাকার দরুন নিজেদের পকেটের চারশো টাকা খরচ করে একটি এম্বুলেন্সে করে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাবড়াতে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে সাথে সাথে কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
পাঁচ বন্ধু জানান আহতের পকেটে মোবাইল থেকে তার বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। আহত যুবকের নাম ইসলাম বিশ্বাস (৩৪)।বাড়ি বাদুরিয়া থানার চাতরা চন্ডিপুর এলাকায়।
পরবর্তীতে ঘটনার কথা শুনে হাসপাতালে উপস্থিত হয় হাবড়া জিআরপি এবং আহত যুবকের বাবা।
আহত যুবককে পাঁচ উদ্ধারকারি জানান কোন ভাবে চলন্ত ট্রেন থেকে লাইনের পাশে পড়ে গিয়েছিল সে। আইনের জটিলতার কথা ভুলে গিয়ে মানুষ হিসাবে মানুষের পাশে দাড়ানোটাই কর্তব্য তাদের।তাই একজন দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম মানুষকে বাঁচাতে তাঁদের এই উদ্যোগ।
আহতের বাবা মালেক বিশ্বাস আমাদের ক্যামেরার সামনে পাঁচ উদ্ধার কারীকে জানিয়েছেন ধন্যবাদ। পাঁচ বন্ধু যদি উদ্যোগ নিয়ে উদ্ধার না করতো তাহলে হয়তো যুবককে প্রানে বাঁচানো সম্বভ হতো না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × 3 =