অলোক আচার্য, নিউ বারাকপুরঃ- বুধবার গভীর রাতে খড়দহ বিধানসভার নিউ বারাকপুর থানার বিলকান্দা ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে তালবান্দায় গেঞ্জি কারখানা ও ওষুধের গুদামে বিধ্বংসী আগুন লাগে।

জানা গিয়েছে, বুধবার রাত ১-৪৫ মিনিটে তিনতলা বাড়ির একাংশের গেঞ্জি কারখানায় আগুন লাগে। তা যত বেলা বাড়ছে আগুনের গ্রাস ততই বেড়ে চলেছে। আগুনকে কোন ও ভাবে বাগে আনা যাচ্ছে না। কারখানার একাংশ ভষ্মীভূত। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের ওষুধের গুদামে ও সেখানে স্যানিটাইজার ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেগ পেতে হচ্ছে দমকল কর্মীদের। কারখানার ভিতরে কয়েকটি বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়।

সম্ভবত গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে এই শব্দ। ঠান্ডা রাখার জন্য বিল্ডিংয়ের গায়ে দমকল কর্মীরা হোর্স পাইপ দিয়ে জল দেওয়া হয়। আট ঘন্টা পরে আগুন নেভাতে আনা হয় অত্যাধুনিক রোবট।খবর পেয়েই সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। দমকলের কর্মীদের কাজের তদারকি করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কার্যত লকডাউন পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশ কে উপেক্ষা করে গেঞ্জি কারখানায় কাজ চলছিল। প্রশ্ন উঠেছে এলাকাবাসীর। দমকলের এক আধিকারিক জানান যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজ চলছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এলেও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানান হয় দমকল সূত্রে। ঘটনাস্থলে কাজ করছে দমকলের ১৫ টি ইঞ্জিন। কারখানার ৪ জন শ্রমিকের খোঁজ মিলছে না। সহকর্মীরা জানান নিখোঁজদের মোবাইলে পাওয়া যাচ্ছে না।

গেঞ্জি কারখানা বুধবার গভীর রাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বিলকান্দা ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান চিত্তরঞ্জন মন্ডল, উপ প্রধান মলিনা রানী মল্লিক, ব্যারাকপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুপ্রিয়া ঘোষ, পঞ্চায়েত সদস্য শ্যামল মজুমদার প্রমুখ। প্রধান খবর দেন স্হানীয় নিউ বারাকপুর থানা ও অগ্নিনির্বাপণ দপ্তরের। আগুন নেভানোর কাজ ভোর থেকে শুরু হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীদের প্রচুর বেগ পেতে হয়। দুপুরের পরে কারখানার একতলায় দমকল কর্মীরা উঠে নিখোঁজদের উদ্ধার কাজ শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে স্হানীয় ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য গত দু বছর আগে ও একই বোদাই ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া একটি চেয়ারের গুদামে ও দুটি সুতির কাপড় থেকে গেঞ্জি রং এর কারখানা ভয়াবহ আগুন লেগেছিল। এই নিয়ে তৃতীয় গেঞ্জি কারখানায় বুধবার গভীর রাতে বিধ্বংসী আগুন লাগে পাশে ওষুধের গুদামে ও স্যানিটাইজার ও দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন লাগে। ঠিক কি কারণে আগুন লাগল এখন ই পরিষ্কার করে বলা সম্ভব হচ্ছে না দমকল সূত্রে খবর।

ঘন জনবসতি পূর্ন তালবান্দা যুগবেড়িয়া বিলকান্দা পঞ্চায়েত এলাকায় বছর বছর বিধ্বংসী আগুন কারখানা গুলি তে রীতিমতো আতঙ্কিত প্রশ্ন উঠেছে। কার্যত লকডাউন পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশ কে উপেক্ষা করে গেঞ্জি কারখানা কি করে কাজ চলছিল? স্হানীয় দের অভিযোগ প্রশাসন নির্বিকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

8 + eighteen =