অলোক আচার্য, নববারাকপুরঃ- বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব। ঢাকের তালে কোমর দোলে খুশিতে নাচে মন। দুর্গাপুজোর বাকি আঠারো দিন।দেবি দুর্গার আগমনে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মন্ডপে ঢাকির বাদ্যে পড়ে গিয়েছে। খুশি খুশি মন সকলের। ঢাকিরাও ব্যস্ত। কাশর ঢাক সহ নানা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে দেশ বিদেশে পাড়ি দেবে। পুজোর কটা দিন মন্ডপে মন্ডপে থাকবে।

উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ঐতিহ্যবাহী নববারাকপুর পুরসভার ৯নং ওয়ার্ডের আগাপুর ঢাকি পাড়ায় ঢাকিরা ও ব্যস্ত। ঢাক ভিন্ন বাঁশি বাজিয়ে ব্যস্ত। জোরদার প্রস্তুতি চলছে। ঢাকিরা পাড়ি দেবে বিদেশে। কেউ যাবে ব্যাঙ্গালোর, মুম্বাই, হায়দ্রাবাদ আবার লক্ষ্মো। এমনটাই জানাল ঢাকি বাদ্যযন্ত্ররা।

নববারাকপুর পুরসভার ৯নং ওয়ার্ডের আগাপুর মিলন মন্দির মাঠের পাশেই সমধিক প্রচলিত ঢাকি পাড়া। প্রতিষ্ঠাতা রূপকার হরিপদ বিশ্বাসের সময়কাল থেকে সেই ঢাকি পাড়া এখন অনেক উন্নীত হয়েছে। পাড়ার সাইন বোর্ডে লেখা দাস ব্যান্ড পার্টি আবার বজরং ব্যান্ড পার্টি নামে। এলাকায় দশ থেকে বারোটি দাশ পরিবার এই ভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সাথে জড়িত। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাঁশি ঢাক নানাবিধ বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে জীবিকা অর্জনের ব্যস্ত।

ঢাকি বাদক হরিপদ দাস জানান, ছোটবেলা থেকে এই পেশায় নিযুক্ত রয়েছি। সাত আট বছর বয়স কাশর ঝুনঝুন বাজাতাম। বাবা প্রয়াত রমেশ চন্দ্র দাস ও এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাবা মারা গেছেন। বাড়িতে ঢাক তৈরি করা হয়।ভাড়া ঢাক পিছু চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা। চামড়া, বাশের চাক, সুতলি পেরেক গরুর ছোট দিয়ে ঢাক বানান হয়। ৪-৫ জন কারিগর রাও রয়েছেন ।প্রতি বছরের মতো এবছর ও ৪০-৪২ জন ভিন্ন জায়গায় থেকে ঢাকি কেউ যাবে ব্যাঙ্গালোর আবার কেউ বা পুনে মুম্বই, লক্ষ্মোতে। ৭৬ বছরের নরেশ দাস ও ব্যস্ত বাঁশি বাজাতে। পনেরো ষোলো বছর ধরে ভিন্ন অনুষ্ঠানে বাশি বাজিয়ে চলেছেন। তার পরিবারে দাশ ব্যন্ড পার্টির ছেলেরাও ঢাক বাঁশি নিয়ে পুজোয় পাড়ি দেবে বিদেশের দুর্গাপুজোয়।

আগাপুর ঢাকি পাড়ার শংকর দাস, দেবু দাস, সঞ্জীব দাস দিলীপ দাসরা ব্যস্ত ঢাক কাশর বাঁশি সহ নানা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর তৃতীয়াতে রওনা দেবেন ঢাক বাঁশি বাদ্যযন্ত্র নিয়ে।