অভিজিৎ হাজরা, হাওড়াঃ- নারায়ণের অনন্ত শয্যা পূজা প্রসঙ্গে জানা যায়, বাংলায় লক্ষ্মীদেবী ‘ভূমিলক্ষ্মী’ নামে পূজিতা হন। পুরাণে বর্ণিত এই লক্ষ্মী স্বর্গলোকে সম্পদ লক্ষ্মী এবং সৌভাগ্য লক্ষ্মী হয়ে বিরাজ করতেন ও পূজিতা হতেন। দেবরাজ ইন্দ্র মহালক্ষ্মীর অত্যন্ত ভক্ত ছিলেন। তাই তাঁর উপাসনা গৃহে লক্ষ্মীদেবী বিরাজ করতেন। একবার হল কী অত্যন্ত তপস্বী ও ক্রোধী মুনি দুর্বসা পর্যটনে বেরিয়েছেন। নানান দেশ ঘুরে এক রাজ্যে পৌঁছালেন তিনি। সেখানে এক মালা বিক্রেতা ফুলের মালা নিয়ে ঘুরছিল। এই ফুল এতই সুন্দর ও গন্ধযুক্ত যে সারা দিন বহুদূর পর্যন্ত মিষ্টি গন্ধ বিতরণ করে। সেই সুন্দর ও গন্ধযুক্ত ফুলের মালা দেখে দুর্বাসা মুনির লোভ হল এবং তিনি তা চেয়ে বসলেন। মালা বিক্রেতা দুর্বাসা মুনির পরিচয় পেয়ে সত্বর মালাটি দিয়ে দিলেন।মালাটি হাতে পেয়ে আনন্দে মুনিবর নিজের মাথার জটায় জড়িয়ে রাখলেন। তারপর নানা দেশ ঘুরতে ঘুরতে স্বর্গে এসে পৌঁছালেন। এখানে নন্দনকাননের পাশ দিয়ে যেতে যেতে দেখলেন দেবরাজ ইন্দ্র নিজের ঐরাবত নিয়ে বেড়াতে বেরিয়েছেন। দেবরাজ বলে কথা! তাই শ্রদ্ধাভরে দুর্বাসা মুনি নিজের মস্তক থেকে মালাটি খুলে ইন্দ্রের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে প্রণাম করলেন। ইন্দ্র প্রথমে হকচকিয়ে গেলেন। তারপর অবজ্ঞা ভরে মালাটি ধরে ঐরাবতের মাথায় পরিয়ে দিলেন। ফুলের গন্ধ ঐরাবতের ভালো লাগলো না। সে তৎক্ষণাৎ মালাটি শুঁড় দিয়ে টেনে মাটিতে ফেলে পা দিয়ে মাড়িয়ে দিল।যত্নের মালার এমন নিদারুণ অবস্থা দেখে মুনিবর আর সহ্য করতে পারলেন না। সর্বাঙ্গ ক্রোধে জ্বলে উঠল এবং তীব্র রোষদৃষ্টিতে তাকিয়ে দেবরাজ ইন্দ্রকে বলে উঠলেন “দেবরাজ! দেবতাদের রাজা বলে তোমার মনের এত অহংকার? তুমি লক্ষ্মীবিরাজিত আমার মালা অবহেলা করে হাতিকে পরালে? এত উদ্ধত তুমি? যাও –তোমাকে আমি অভিশাপ দিচ্ছি তোমার সৌভাগ্য ও সম্পদ লক্ষ্মী তোমাকে পরিত্যাগ করে চলে যাবে। আর তোমার সঙ্গে দেবতারাও লক্ষ্মীছাড়া হয়ে অশেষ দুর্ভোগে পড়বে “। এই অভিশাপ শুনে চৈতন্য হলো দেবরাজের। কিন্তু তখন আর কিছু করার নেই। কারণ অভিশাপ দিয়ে মুনিবর হনহন করে গন্তব্য স্থলে চলে গেলেন।

ঘটনার ক’মাসের মধ্যে সত্যিই দেবতারা হীনবল হয়ে পড়ল এবং এই সুযোগে ভয়ানক অসুরেরা দেবরাজ্য আক্রমণ করে বসল। বিপর্যস্ত দেবতারা তাঁদের উদ্ধারের জন্য ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর কাছে গেলেন। ব্রহ্মা ভগবান বিষ্ণুর পরামর্শ মতো কাজ করার আর্জি দেবতাদের নিবেদন করলে সকল দেবতারা তখন বিষ্ণুর কাছে গমণ করলেন। দেবতারা সমবেতভাবে স্বর্গ থেকে লক্ষ্মীদেবীর বিদায় হওয়ার ঘটনা ও জানালেন। ভগবান বিষ্ণু তা শুনে চমকে উঠলেন। তাঁর শক্তি স্বর্গছাড়া হয়েছে! আর এর ফলেই যে দেবতারা আজ হীনবল হয়ে পড়েছেন তা জগৎপতির জানতে আর বাকি রইলো না। সবকিছু বিশ্লেষণ করে জগৎপতি বিষ্ণু বললেন,” তোমরা দেব -দানব মিলে সমুদ্র মন্থন করো। এতে যেমন অমৃত পাওয়া যাবে, তেমনই লক্ষ্মীদেবীকে ও পেতে পারো।”

কিন্তু প্রশ্ন হতেই পারে, ভগবান বিষ্ণু কীভাবে জানলেন যে লক্ষ্মীদেবী স্বর্গ ছেড়ে সমুদ্রের গভীরে আশ্রয় নিয়েছেন? পুরাণ মতানুসারে বলা হয় যে, লক্ষ্মীদেবী মহর্ষী দুর্বাসা মুনির অভিশাপের ফলে শ্রীভ্রষ্ট স্বর্গে আর থাকতে পারছিলেন না। আবার দুর্দশাগ্ৰস্ত মর্তলোকে ও তাঁর পক্ষে অবস্থান করা সম্ভব ছিল না। এমতাবস্থায় তিনি বৈকুণ্ঠধামে নারায়ণের আলয়ে উপস্থিত হন এবং আপন মহালক্ষ্মী স্বরুপে লীন হন। এদিকে লক্ষ্মীদেবীর পিছনে পিছনে স্বর্গের দেবতারা হাজির হলে বিব্রত লক্ষ্মীদেবী নারায়ণের পরামর্শে নিজের স্বরূপের অংশ দ্বারা সিন্ধুর আদরের কন্যা (সমুদ্র কন্যা) রুপে পরিবর্তিত হলেন এবং সাগরের তলদেশে লুকিয়ে রইলেন। লক্ষ্মীর এ হেন অবস্থান লক্ষ্য করে স্বয়ং জগৎপতি নারায়ণ বিচলিত বোধ করলেন এবং তিনি ও মর্তলোকের কারণ সাগরের বক্ষে শুয়ে থাকতে মনস্থির করলেন। লক্ষ্মী এবং নারায়ণের সম্পর্ক হল যেহেতু অগ্নি ও দাহিকা শক্তির মতো তাই একে অপরের সঙ্গ ছেড়ে থাকা বেশি দিন সম্ভব হল না। ফলে অচিরেই অনন্ত সমুদ্র বক্ষে শেষনাগের সহস্রফণার নীচে জগৎপতি নারায়ণ আরামে থাকতে লাগলেন এবং লক্ষ্মী মাঝে মধ্যে জল থেকে উত্থিত হয়ে নারায়ণের পদসেবা করে মনের সুখে তথায় বসবাস করতে লাগলেন।

যা হোক, ইতিমধ্যে ভগবান বিষ্ণুর কথা শুনে দেবাসুররা সমুদ্র মন্থন করতে লাগলেন। মন্থনের ফলে একে একে উঠে এল কামধেনু, সুরার দেবী বারুণী, পারিজাত ফুল, চন্দ্র দেবতা, উচ্চৈঃশ্রবা ঘোড়া, কৌস্তভ মণি, কালকূট বিষ, ধন্বন্তরীর হাতে অমৃত এবং এরপর উঠে এলেন লক্ষ্মীদেবী। তবে তিনি সরাসরি উঠে আসেন নি। উঠে এসেছিল এক সুন্দর সুরভী পদ্মফুল। সেই অপূর্ব পদ্ম প্রস্ফুটিত হতেই দেখা গেল তার ভিতরে বসে রয়েছেন এক অনিন্দ্যসুন্দরী দেবী। তাঁর হাতে ও একটি পদ্ম। রুপে তিনি অসামান্যা। তাঁর সৌন্দর্যের দীপ্তিতে ত্রিভূবন সহসা দীপ্তিময় হয়ে উঠল। প্রাণস্পন্দনে ভরে উঠলো দিক সকল। দেবতাদের মধ্যে দেখা গেল আনন্দের জোয়ার, বাহুতে শক্তি এবং মনে অদম্য বল।লক্ষ্মীদেবীকে পেয়েই হতোদ্যম দেবতারা আবার মহাশক্তিশালী হয়ে উঠলেন। এদিকে লক্ষ্মীকে দেখে নমস্কার করে ক্ষীরসমুদ্র তাঁকে একটি সুন্দর অবিনশ্বর পদ্মফুলের মালা পরিয়ে দিলেন। বিশ্বকর্মা দিলেন নানান অলংকার।

এছাড়া ও অন্যান্য দেবতারা তাঁকে সভক্তি প্রণাম শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন।লক্ষ্মীদেবী সহসা সবকিছু দেখে জগৎপতি বিষ্ণুর কাছে যাওয়াই স্থির করলেন এবং চলে ও গেলেন। লক্ষ্মী -নারায়ণকে একসঙ্গে পেয়ে দেবরাজ ইন্দ্র ও হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন। সময় বহে যায়।মন্থন চলতে লাগল। তবে মন্থনের ফলে উদ্ভুত জিনিসপত্র নিয়ে দেবাসুরের লড়াই আর থামে না। দেখে শুনে বিষ্ণু বিচলিত বোধ করলেন। তিনি মলিন অন্তঃকরণ যুক্ত অসুরদের মধ্যে দ্বন্দ-কোন্দল লাগানোর মানসে নিজেই সমুদ্রে প্রবেশ করলেন এবং এক মোহিনী নারীরুপে উঠে এলেন।আর তাঁকে ঘিরে অসুরদের লোভ লালসার মধ্যেই দেবতারা অমৃত পান করে অমর হয়ে গেলেন। অনেক পুরাণে আছে, মন্থনের আগে লক্ষ্মীর কোন ও নিজস্ব অবয়ব ছিল না। তিনি দুর্গারই এক অভিন্ন রুপ ধরে দেবলোকে পূজিতা হতেন। তাঁর আবির্ভাব নাকি সমুদ্র গর্ভ থেকেই। মন্থনের পরই সমুদ্র গর্ভ থেকে উঠে এসে লক্ষ্মী বিষ্ণুর পাশে বসলেন।তারপর ভগবান লক্ষ্মীদেবীর প্রণয়ে মগ্ন হলেন এবং পরে তাঁকেই স্ত্রী রুপে গ্ৰহণ করলেন। দোল উৎসব কে কেন্দ্র করে হাওড়া জেলার আমতা থানার সোমেশ্বর গ্ৰামের মানুষজন মেতে উঠেছেন ছয়দিন ব্যাপী সর্বজনীন শ্রী শ্রী নারায়ণের অনন্ত শয্যা পূজায়।
কীভাবে, কাদের উদ্যোগে এই পূজা গ্ৰামে প্রচলন হল সেই প্রসঙ্গে এলাকার প্রবীণ মানুষদের কাছ থেকে জানা যায়,১৩৩৯ বঙ্গাব্দে এলাকার যুবক-যুবতীদের নিয়ে সোমেশ্বর গ্ৰামের স্বাধীনতা সংগ্ৰামী প্রয়াত ভোলানাথ মাল শিক্ষার উন্নতি ও বিপ্লবী মনোভাব গড়ে তোলার জন্য ‘সোমেশ্বর সাধারণ পাঠাগার ‘গঠন করেন।
সোমেশ্বর, সন্তোষনগর, কুমারিয়া প্রভৃতি গ্ৰামের কিশোর -কিশোরী, যুবক-যুবতী এই পাঠাগারের সঙ্গে যুক্ত হন। সেই সঙ্গে সোমেশ্বর ব্রহ্মাতলায় ৬ থেকে ৭ টি গ্ৰামের যুবকরা আসত যাত্রা শিক্ষার জন্য।

১৩৫৪ বঙ্গাব্দে এই গ্ৰামের প্রয়াত হরিশ্চন্দ্র বর পুরীতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তিনি জগন্নাথ ঘাটে শ্রী শ্রী নারায়ণের অনন্ত শয্যা -র মূর্তি দেখে মোহীত হন। তৎক্ষণাৎ তিনি মনে মনে সংকল্প করেন এই ধরণের মূর্তি তিনি নিজ গ্ৰামে তৈরী করে পূজা করবেন।
পুরী থেকে তিনি ফিরে এসে তাঁর সংকল্পের কথা গ্ৰামের ব্রহ্মা তলায় এক সভা ডেকে গোবিন্দ পাত্র, মণীন্দ পাত্র, পতাই কোলে, বৈদ্যনাথ কোলে, রতীকান্ত পন্ডীত, পানু মাঝি, অষ্টম মাজী, যতন কোলে, পরেশ মাজী, সুধাসিন্ধু কোলে, নিরাপদ কোলে, গৌরমোহন ময়রা, মুরারী দে, স্বাধীনতা সংগ্ৰামী প্রয়াত ভবতারণ হাজরা, তারাপদ মন্ডল, নারায়ণ পারাল, বাসুদেব পাত্র, যুগল মাজী ও অন্যান্যদের উপস্থিতিতে পুরীতে দেখে আসা শ্রী শ্রী নারায়ণের অনন্ত শয্যা মুর্তির পূজা গ্ৰামে করতে চান বলে জানান। সকলে চিন্তা -ভাবনা করে শ্রী নারায়ণের অনন্ত শয্যার সেই মূর্তির ছবি দেখতে চান।

প্রয়াত হরিশ্চন্দ্র বর পরে সেই ছবি এনে দিলে ১৩৫৫ বঙ্গাব্দে থলিয়া গ্ৰামের মৃৎশিল্পী প্রয়াত জয়ন্ত দাস ছবির মতো মূর্তি মাটি দিয়ে তৈরি করেন। ১৩৫৫ বঙ্গাব্দে প্রয়াত নিরাপদ কোলে -র বাগানে দোল পূর্ণিমার দিন এই পূজা শুরু হয়। তখন ৭ দিনের এই পূজার খরচ হয়েছিল ৪,০০০ (চার হাজার) টাকা।ডে-লাইট, হ্যাজাক, মাইক, প্যান্ডেল ও ৭ দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ।
দ্বিতীয় বৎসর ১৩৫৬ বঙ্গাব্দে সোমেশ্বর বাঁধ সংলগ্ন উত্তর দিকে অর্থাৎ বর্তমানে যেখানে গোপাল কোলে (বাপন ডেকরেটার্স) -র বাড়ি সেই স্থানে পূজা হয়। ১৩৬২ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ৮ বছর এই পূজা একটানা হয়।
১৩৬৩ বঙ্গাব্দ থেকে ১৩৮০ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত আর্থিক অবস্থা ও অন্যান্য সহযোগিতার অভাবের জন্য এই পূজা করা সম্ভবপর হয় নি।

ইতিমধ্যে দামোদর নদ দিয়ে বয়ে গেছে অনেক জল, কালের চাকা গতি পরিবর্তন করেছে।ঁ ভোলানাথ মাল প্রতিষ্ঠিত “সোমেশ্বর সাধারণ পাঠাগার”ক্রমশঃ নাম পরিবর্তন করতে করতে শেষে “আধুনিক সংঘ”নাম হয়।
১৩৮১ বঙ্গাব্দে”আধুনিক সংঘ”-র সভ্য-সভ্যাবৃন্দ শ্রী নারায়ণের অনন্ত শয্যা পূজা পুনরায় চালু করার মনস্থির করেন প্রয়াত গোবিন্দ পাত্র, প্রয়াত বরিষণ দাস ও অন্যান্য মানুষজনদের সঙ্গে আলোচনা করে। পূজা ও শুরু হয়। ১৩৮১ বঙ্গাব্দ থেকে সোমেশ্বর ও অন্যান্য গ্ৰামের গ্ৰামবাসীদের সহযোগিতায়”সোমেশ্বর আধুনিক সংঘ”একটানা ৪৭ বছর পূজা করে এই বৎসর ৪৮ তম বর্ষে পদার্পন করে শ্রী নারায়ণের অনন্ত শয্যা পূজায় ব্রতী হয়েছেন। এখানে মূল মন্ডপে দেখা যায়, ৭ টি শেষনাগের ফণার নীচে জগৎপতি নারায়ণ পা মিলে বসে আছেন,যার এক হাতে সুদর্শন চক্র, একহাতে পদ্ম ফুল,এক হাতে শঙ্খ, অন্যহাতে গদা। নারায়ণের নাভী কুন্ডল থেকে ব্রহ্মার সৃষ্টি। নারায়ণের পদতলে লক্ষ্মী একহাতে নারায়ণের পদ সেবা করছেন, অন্য হাতে পদ্ম ফুল। লক্ষ্মীর মাথায় ছায়া দিয়েছেন একটি শেষনাগের ফণা। মূল মন্ডপ ঘিরে রয়েছে নারায়ণের দশাবতার। যথাক্রমে মৎস, কুর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন, পরুশুরাম, রাধা-কৃষ্ণ, রাম, বলরাম, বুদ্ধ, কল্কি। রয়েছেন প্যাঁচা, গড়ুর। মূল মন্ডপের সামনে জয়া-বিজয়া। সমস্ত মূর্তি গুলি মাটি দিয়ে নির্মিত।

এই দোল উৎসব ও পূজা উপলক্ষে ৭ থেকে ১০ দিন ব্যাপী হত নাটক, মাত্রা, যোগব্যায়াম প্রর্দশনী, তরজা সহ বিভিন্ন সুস্থ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠান গুলিতে গ্ৰামের যুবক-যুবতীরা অংশ গ্রহণ করেন। আস্তে আস্তে সুস্থ সংস্কৃতির অবলুপ্তি ঘটেছে। এখন গ্ৰামের যুবকরা নাটক-যাত্রা-য় অভিনয় করতে এগিয়ে আসছেন না।তারা এখন বোকাবাক্স আর মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। এখন যুবসমাজ বিচিত্রানুষ্ঠানের প্রতি উদ্বুদ্ধ। বাইরে থেকে শিল্পী নিয়ে এসে নাচ-গান ইত্যাদি-ইত্যাদিতে অপ সংস্কৃতিতে মেতে উঠছে সারারাত ব্যাপী। গ্ৰামের মানুষের মনোরঞ্জনের জন্য সংঘ বাইরের গ্ৰাম থেকে নাটক,যাত্রা দল নিয়ে এসে অনুষ্ঠান করে থাকে।

এই পূজা হাওড়া জেলার আর অন্য কোথাও হয় না।
এই বৎসর ৪৮ তম বর্ষের অনুষ্ঠান ডালিতে থাকছে নারায়ণের আরাধনা ও বসন্ত উৎসব, আতস বাজীর বাহার, অংকন প্রতিযোগিতা, নাটক “হেমলক”, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়ানুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠান, বিচিত্রানুষ্ঠান, নর নারায়ণ সেবা। প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে সন্ধ্যারতি ও প্রসাদ বিতরণ। নরনারায়ণ সেবায় সোমেশ্বর, কলিকাতা, রংপুর, তালসহরা, ভোজান, বাগুয়া, বালিকা, কুমারিয়া, দঁকি, পুঁটখালি, চাকপোতা, বলাইমাজী, সন্তোষনগর, মান্দারিয়া, মিল্কিচক, আমতা, খড়িয়প, মৈনান, ধাঁইপুর, সহ অন্যান্য গ্ৰামের মানুষ এমনকি সূদূর কলকাতা থেকে মানুষজন (প্রায় দশহাজার) অংশগ্রহণ করেন। শেষ দিন বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহ প্রতিমা বিভিন্ন গ্ৰাম প্রদক্ষিণ করে আধুনিক সংঘ -র পাশে দামোদর নদে বিসর্জিত হয়।