Advertisement

চঞ্চল মিস্তিরী, বাংলাদেশ প্রতিনিধি :- দেড় বছরের এক শিশুকে গলাটিপে হত্যার পর মাটি চাপা দিয়ে মৃতদেহ গুম করার চেষ্টা করেন শিশুটির আপন চাচা-চাচি সাতকানিয়া । হত্যাকাণ্ডের সাত ঘণ্টা পর মাটি খুঁড়ে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে আপন চাচি শিশুটিকে খুন করে মাটিচাপা দেয়। অভিযুক্ত চাচি ও তার স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চরতি ইউনিয়নের শুঁইপুরা গ্রামে। বুধবার রাত ১১ টার দিকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত শিশু ছামীম শুঁইপুরা গ্রামের প্রবাসী মো. মামুনের ছেলে।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল কবীর জানান, বছর খানিক আগে দুবাই থেকে মামুন লাখ খানিক টাকা তার ভাই নুরুল আবছারের কাছে পাঠান। ওই টাকা মামুনের স্ত্রী রীনাকে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই টাকা না দিয়ে আবছার চার মাস ধরে রীনা কে হয়রানি করতে থাকেন। রীনা বিষয়টি মামুনকে জানাই তখন তিনি দুবাই থেকে দেশে আসেন। মামুন ও সেই টাকা উদ্ধার করতে পারেননি।
এ নিয়ে দুইভাইয়ের পরিবারের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং তারা আলাদা হয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছয় মাস আগে মামুন আবারও দুবাই চলে যান। কিন্তু দুই ভাইয়ের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হচ্ছিল। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে রীনা তার ছেলেকে শ্বাশুড়ির হেফাজতে রেখে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। এর ফাঁকে শ্বাশুড়ির অগোচরে ছামীমকে নিজের ঘরে গিয়ে আবছারের স্ত্রী মারুফা তাকে গলাটিপে খুন করে। পরে শিশুটির মৃতদেহ বাড়ির নলকূপ সংলগ্ন নরম মাটিতে চাপা দেন।’
সাতকানিয়া থানার ওসি জানান, রীনা ঘাস নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর ছেলেকে না পেয়ে অনেক খোঁজা খুঁজি করেন। প্রতিবেশি রা ও অনেক খোঁজা খুঁজি করেন। এক পর্যায়ে তার মা নলকূপের পাশে নরম মাটি দেখে সন্দেহ করেন। সেই মাটি অল্প খুঁড়ে প্রথমে তার ছেলের ছামীমের হাত দেখা যায়। পরে মৃতদেহ উদ্ধার করেন
খবর পেয়ে সাতকানিয়ার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মারুফা ও তার স্বামী নুরুল আবছার কে আটক করে সাতকানিয়া থানাতে নিয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে রীনা আক্তার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে ওসি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

six + nine =