সনাতন গরাই, দুর্গাপুর :- দুর্গাপুর স্টেশনে ভিক্ষা করে দিন চালায় ছোট্ট সারতা। মা মারা যাওয়ার পর থেকেই পড়াশোনা ছেড়ে স্টেশনে ভিক্ষা করে। স্থানীয় শিমুলতলা বস্তিতে তার মামার কাছে থাকে এই বছর ৯এর বাচ্চাটি। চুরি না করেও চুরির দায়ে রাস্তায় ফেলে মার দিলো আরপিএফ এক জওয়ান।

ঘটনার সূত্র ধরে জানা গেছে সোমবার ডাউন দুন এক্সপ্রেসে এক যাত্রীর টাকার ব্যাগ হারিয়ে যায়।এর পর হারিয়ে যাওয়া টাকার ব্যাগের সন্ধান পাওয়ার জন্য তদন্তে নামে আরপিএফের জওয়ানরা। মঙ্গলবার দুর্গাপুর স্টেশনের চার নাম্বার প্লাটফর্মে আর পি এফ এক কর্মী অমানবিক ভাবে কোনো প্রমাণ ছাড়াই টানতে টানতে স্টেশন থেকে নিয়ে যায় ওই বছর ৯এর সারতাকে।স্টেশন থেকে টানতে টানতে নিয়ে বাসস্ট্যান্ডের দিকে নিয়ে গিয়ে সেখানে সারতার উপর শারীরিক অত্যাচার শুরু করে।তাকে মারতে মারতে বলা হয় কোথায় চুরি করা টাকা রেখেছিস?সারতা বলে আমি চুরি করিনি পুলিশ কাকু।কোনো কথা কান না দিয়ে রাস্তায় ফেলে সকলের চোখের সামনে মারতে থাকে….ছোট্ট বাচ্চাকে মারছে ছুটে আসে পথচারী থেকে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন স্থানীয় লোকজন।তারা ওই ছোট্ট সারতাকে আরপিএফকর্মীর মারের হাত থেকে উদ্ধার করে,জনতার ক্ষোভের মধ্যে পড়ে কোনোক্রমে পালাই ওই আরপিএফ কর্মী।তার মামার অভিযোগ এইভাবে একটা বাচ্চা ছেলেকে মারতে পারলো আর পি এফ এর একজন জওয়ান হয়েও,আমরা ওই জওয়ানের শাস্তি চাই।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন হয় আরপিএফ ইনচার্জ থেকে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।অবস্থা বেগতিক দেখে আরপিএফ কর্মীরা সারতাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য।বাস স্ট্যান্ডের দায়িত্বে থাকা কর্মরত তৃণমূল কর্মীরা ওই আরপিএফ আধিকারিকদের সাথে দেখা করে পরিষ্কার জানিয়ে দেন এইভাবে কারোর উপর অত্যাচার করা যাবে না চুরি করলে আইন আছে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।স্ট্যান্ড সংলগ্ন তৃনমূল নেতা ওই আরপিএফ কর্মীদের জানিয়েছেন কারোর উপর জোর জুলুম চলবে না,এর পর থেকে যদি আর কোনোদিন এইরকম ঘটনা ঘটে তাহলে আমরা তুমুল বিক্ষোভে নামবো।এই আরপিএফ কর্মীর এইরকম অমানবিক আচরনে শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।