অলোক আচার্য, ব্যারাকপুরঃ- মঙ্গলবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আচমকা ভয়াবহ আগুন জ্বলে ওঠে দক্ষিণেশ্বর নিবেদিতা সেতুর নিচে গাড়ির রঙের গ্যারেজে। পাশে বাসস্ট্যান্ডে যেখানে ৪৩ নম্বর এবং ৪৩/১ নম্বর বাস ডি এন 2 ডি এন 2 বাই ওয়ান এছাড়াও এই জায়গা থেকে বিভিন্ন বাস ছাড়ে এই বাস টার্মিনাস এ দক্ষিণেশ্বরের পুরনো ব্রিজের দিকে পাঁচটি গাড়ি সারানোর গ্যারেজ রয়েছে এবং গাড়ি রং করার ও গাড়ির বডি তৈরি কাজ করার গ্যারেজ রয়েছে সেখানেই ভয়াবহ আগুন লেগে যায় আচমকাই।

আগুনের লেলিহান শিখা অপর গ্যারেজে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। সেই আগুনের এতটাই তীব্রতা ছিল একটি গ্যাস সিলিন্ডার বাস্ট করে তার ফলে আরো বড় আগুন লেগে যায় আগুনের পরিমাণ বেড়ে যায় পাঁচ খানা গাড়ির বডি তৈরির গ্যারেজ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ফায়ার ব্রিগেড খবর পাওয়ার সাথে সাথে প্রথমে বরানগর ফায়ার ব্রিগেডের একটি গাড়ি আছে যেহেতু বরাহনগর ফায়ার ব্রিগেড খবর পেয়ে তারা প্রথমে আসে তারপরে কামারহাটি ফায়ার ব্রিগেড থেকে আর ও দুটি ফায়ারের গাড়ি আসে দীর্ঘ তিন ঘন্টার উপরে সময় লাগে আগুন আয়ত্তে আনতে। বরাহনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে সি ই এস সি গাড়ি আসে। আগুন যখন আয়ত্তে আসে ওইখানকার গাড়ির চালকরা এবং আশেপাশের মানুষ চলে আসে তারাও ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীদের সাথে হাত লাগায়। পোড়া যন্ত্রাংশ পরিষ্কার করার কাজ শুরু করে সেই সময় একটি পোড়া দেহ পাওয়া যায় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় বেড়ানোর সুযোগ না পেয়ে জীবন্ত অবস্থায় পুড়ে মারা যায় রং গ্যারেজের এক কর্মী।

ফায়ার ব্রিগেড সূত্রে জানা যায় পুড়ে যাওয়া ব্যক্তির নাম তারক সাউ আনুমানিক বয়স ৫০ বছরের উর্ধ্বে। বাস সিন্ডিকেট মালিকদের পক্ষ রাতে খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে চলে আসে।

বাস সিন্ডিকেট সম্পাদকের কাছ থেকে জানা যায়, মৃত ব্যক্তি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা। তিনি সোমবার থেকে শনি এই গ্যারেজেই থাকেন এই মৃত ব্যক্তির সাথে আরো দুইজন কাজ করেন রংয়ের নেপাল এবং অমিও এরা দুজনে বরাহনগর এর বাসিন্দা। কাজ শেষে এই দুই সহকর্মী বাড়ি চলে যান এবং তারক সাউ। তিনি এই গ্যারেজেই রাত্রে থাকেন। বরাহনগর থানার পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয় তারপরে সেখান থেকে ময়না তদন্তের জন্য সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

কামারহাটি ফায়ার ব্রিগেডের ওসি মনোসা রাম ধীবর জানান, তারা খবর পাওয়ার সাথে সাথে চলে ঘটনাস্থলে আসেন। তিনটে ফায়ার ব্রিগেডের এর গাড়ি কাজ করে। একটি গাড়ি নিবেদিতা সেতুর উপর থেকে জল দেয় আর দুটি গাড়ি ব্রীজের নিচে থেকে জল দিয়ে আগুন নেভায়। ওসি কামারহাটি জানান একটি মৃতদেহ উদ্ধার হয় এবং তারা সমস্ত রিপোর্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবেন তারা যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনত ব্যবস্থা তারা নেবে বলে জানান।

মালিকদের সংগঠন বাস সিন্ডিকেটের সম্পাদক সোহেল খান জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এখানে গাড়ি সারানোর গ্যারেজ বডি তৈরি করা গ্যারেজ রয়েছে। অশোক নিয়োগীর পাঁচটি গাড়ির বডি কাজ করার গ্যারেজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একটি গ্যাস সিলিন্ডার সরানো গেছে এবং অপর একটি প্রচন্ড শব্দে ফেটে যায় এবং একজন ভিতরে ঘুমাচ্ছিলেন রংমিস্ত্রি তিনি জীবন্ত অবস্থায় পুড়ে মারা যান দুঃখজনক ঘটনা। আমরা শোক প্রকাশ করছি। যেভাবে আগুন লেগেছে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি এবং পুলিশ এলাকার মানুষ যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া আরও বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে, কারণ পাশেই পরপর বাস দাঁড়িয়েছিল।

এই আগুন আর একটু বাড়লেই আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। একজন কর্মচারী রংমিস্ত্রি মারা যাওয়ায় আমরা সকলেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছি এই ধরনের ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।