অলোক আচার্য, মধ্যমগ্রামঃ- দুর্গাপুজোর পরেই এগিয়ে আসছে শ্যামা পূজা। বারাসত এবং মধ্যমগ্রামের কালী পুজোর খ্যাতি রাজ্য জুড়ে। প্রতিবছর মধ্যমগ্রামের ও বারাসতের শ্যামা পূজো দেখতে দূর দূরান্ত থেকে আসেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। সারারাত ধরে চলে তাদের পুজো পরিক্রমা। দুর্গাপুজো মিটতেই কালী পুজোর তোড়জোড় শুরু বারাসত এবং মধ্যমগ্রামে। কিন্তু করোনার কারনে এই দুই এলাকার পুজো গত বছর থেকেই আড়ম্ভরহীন। এবছরও উৎসবের মরসুমে কোভিডের গ্রাফ সামান্য উর্ধ্বমুখী হওয়ায় সাধারণ মানুষ কিছুটা সতর্ক থাকার চেষ্টা করছেন। সবাই কোভিড বিধি মেনেই করবেন এবারের পুজো। বিভিন্ন পুজো কমিটিও সরকারী বিধিনিষেধের কথা মাথায় রেখেছেন। মাস্ক, স্যানিটাইজার ব্যবহার অথবা ভিড় জমতে না দেওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলির কথা চিন্তা করেই পুজো কমিটিগুলি এবার কালিপুজো আয়োজন করতে চলেছে। এবার বারাসত মধ্যমগ্রামের বেশিরভাগ কালীপুজোর উদ্বোধন হবে ৩ নভেম্বর। তবে ৭ নভেম্বর রাত বারোটার পর পুজামন্ডপগুলির আলোকসজ্জা বন্ধ করে দিতে হবে।

মধ্যমগ্রামের শৈলেশনগর (দোহাড়িয়া) যুবক সংঘের ৫৭ তম শ্যামা পূজোর এবারের থিম ” কালোর মাঝে”। মন্ডপে থাকছে আফ্রিকান কারুকার্যের চিত্র। এই পূজোর উদ্ধোধন করবেন বলিউডের এর অভিনেত্রী সঙ্গীতা বিজলানী। জানালেন পূজো কমিটির পৃষ্ঠপোষক সুকুমার মন্ডল। মধ্যমগ্রামের দোলতলার নন্দনকানন সংলগ্ন নবজাগরণ সংঘের এবারের ৫৫ তম বর্ষের পুজো। সংগঠনের যুগ্ম সহ সম্পাদক প্রিতম গাঙ্গুলী জানালেন তাদের এবারের থিম ” যাত্রারম্ভ” ।যারা রাস্তা তৈরি বা মেরামতির কাজ করেন তাদের কথা মাথায় রেখে পিচের গলানো ড্রাম দিয়ে গড়ে উঠবে প্যান্ডেল। তাঁর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি হবে মাতৃ প্রতিমা। মন্ডপে থাকছে মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা। পূজোর বাজেট ৮-৯ লাখ টাকা। ৬ নভেম্বর দুই শতাধিক দুঃস্থ বাচ্চাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে নতুন বস্ত্র।

মধ্যমগ্রামের চন্ডীগড় ইউনাইটেড অ্যাথলেটিক ক্লাবের এবার ৫৩ তম শ্যামা পুজোর থিম অমলের খোঁজে। অমল ও দইওয়ালা গল্পে অমল যেমন গৃহবন্দী অবস্থায় ছিল ঠিক সেভাবেই লকডাউনে স্কুলের পড়ুয়ারা গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এবারের থিম জানালেন পূজো কমিটির সম্পাদক আশিষ গাঙ্গুলী। তাদের এবারের বাজেট আনুমানিক ২-৩ লাখ টাকা। পুজো মন্ডপে কোন রকম যানজট বা ভিড় যাতে না হয় সেদিকে কমিটির সদস্যদের সতর্ক দৃষ্টি থাকবে। পুজো উপলক্ষে বাচ্চাদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে বলে জানা গেল। পুজো মন্ডপে মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা থাকবে।

মধ্যমগ্রাম রবীন্দ্র পল্লী অ্যাথলেটিক ক্লাবের পুজোয় ময়মনসিংহের রাজবাড়ির আদলে মন্ডপ তৈরি করা হয়েছে। বিষ্ণুপ্রিয়ার আদলে তৈরি হয়েছে মাতৃ প্রতিমা। ৮.৫-৯ লক্ষ টাকা বাজেটের এই পুজো হবে খোলা জায়গায়। যাতে কোন ভাবে দর্শকদের ভিড় না হয়। এবং মানুষ রাস্তা দিয়ে যেতে যেতেই প্রতিমা দর্শন করতে পারেন। পুজো কমিটির অন্যতম সংগঠক বাপি বিশ্বাস জানালেন।এই মাসেই স্কুল কলেজ খোলার কথা। ভিড়ের কারনে যাতে বাচ্চারা কোভিড আক্রান্ত না হয়ে পড়ে এবং তাদের যেন কোনো রকম সমস্যা না হয় সে কথা তাঁরা মাথায় রাখছেন। পুজো মণ্ডপে থাকছে মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবস্থা। দুঃস্থ বাচ্চাদের জন্য থাকছে বস্ত্রদান শিবির। ৬ নভেম্বর হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের প্রান্তিক শিশুদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ভাইফোঁটা। এই ভ্রাতৃদ্বিতীয়া অনুষ্ঠানে শামিল হবে মধ্যমগ্রাম সৃষ্টির পথে সংগঠনের শিশুরা। এই পুজো এবার ৪৭ তম বর্ষে পদার্পণ করল।

বাচ্চাদের কথা মাথায় রেখে এবার ” পাখিদের কলরব” থিমে মন্ডপ তৈরি করছেন মধ্যমগ্রামের ঋষি অরবিন্দ রোডে সার্বজনীন শ্রী শ্রী শ্যামা পুজো কমিটি। এই পুজো এবার ৫৭ তম বর্ষ। পুজো কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহা জানালেন গত প্রায় দুই বছর ধরে গৃহবন্দী বাচ্চাদের এই মন্ডপে এলেই মন ভালো হয়ে যাবে। কারন সেখানে নিপুন হাতের কাজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের রং বেরঙের পাখি। এই পুজোর বাজেট ৩ লাখের কাছাকাছি। মন্ডপে থাকছে মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা। এবং পুজোর পরের দিন অর্থাৎ ৫ নভেম্বর থাকছে বয়স্কদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির তৎসহ ওষধ বিতরণ করা হবে ঐদিন। মধ্যমগ্রাম দেবীগড় মিলন চক্র ক্লাবের এবার ৪৯ তম বর্ষের থিম বই পড়ুন, বই উপহার দিন। শারদ পত্রিকার প্রচ্ছদে সেজে উঠেছে কালিপুজো মন্ডপ। ১৪২৮ এর প্রায় ৪২ টি পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যার প্রচ্ছদ দিয়ে পুজো মন্ডপ সাজানো হয়েছে। ৩ নভেম্বর কালিপুজো উদ্বোধনে উপস্থিত থাকবেন বর্তমান সময়ের বিভিন্ন কবি লেখক সাহিত্যিকরা তাদের বইয়ের প্রচ্ছদ নিয়ে। শিল্পী শম্ভু ভট্টাচার্য ।বিদ্যাসাগরের দ্বিশত বর্ষ, অবনীন্দ্র ঠাকুরের সার্ধ শতবর্ষ ভারত রত্ন সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষ এবং কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার শতবর্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান হবে। জানালেন পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য প্রভাস গোপ। সন্দেশ আনন্দমেলা কিশোর ভারতী শুকতারা র প্রচ্ছদ সহ সম্পাদক রা থাকছেন মন্ডপে।

মধ্যমগ্রাম আব্দালপুর কলোনী পাড়া সার্বজনীন কালিপুজোর এবারের থিম আটলা বীরভূমের বামাক্ষ্যাপা জন্মস্থান। পুরো মন্ডপে পটচিত্র সাজসজ্জা এলাকার শিল্পীরা ফুটিয়ে তুলেছেন। মূল ভাবনা ও পরিকল্পনায় রয়েছেন পুজো কমিটির সভাপতি তথা মৃৎ শিল্পী সন্দীপ রুদ্র পাল।পুজো কমিটির সম্পাদক সৌমিত মন্ডল জানান প্যান্ডেল বিচুলি বাশ দিয়ে ভিতরে বিভিন্ন পটচিত্র কারুকার্য তুলে ধরা হবে। কোভিড বিধি মেনে থাকবে মাস্ক ও স্যানিটাইজ এর ব্যবস্থা। বিধানপল্লী নবারুণ সংঘের ৫৮ তম বর্ষের থিম বিভ্রম। অনেকে চোঁখে ভুল দেখে আবার অনেকে কম শোনেন। পরে সত্য দেখা যায় সেগুলো ভুল নয়। চোঁখে ধাধা লেগেছে। সেই রকম ই ভাবনা থেকেই এই থিম। এছাড়া ও নজরকাড়া মধ্যে রয়েছে কিরন পার্ক চৈতালি উদ্যান অধিবাসীবৃন্দ, মধ্যমগ্রাম চৌমাথা ইয়ং রিক্রিয়েশন ক্লাব, রেল ময়দানে সুভাষ পল্লী ইয়ং মেন্স অ্যাসোসিয়েশন অধিবাসীবৃন্দ, দেবীগড় ইয়ং সেন্টার, বসুনগর যুবক বৃন্দ, শহীদবন্ধু নগর অগ্রগামী সংঘ প্রমুখ পুজো কমিটি গুলি।