সানওয়ার হোসেন, গার্ডেনরিচঃ- ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তারাতলাতে একটি গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম গুদামঘর থেকে আগুন বের হতে দেখে খবর দেয় দমকল বাহিনীকে। খবর দেওয়ার আধঘন্টা পরে দমকল বাহিনী এসে পৌঁছায়। ততক্ষণে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পরে পাশের ঘর গুলিতে। ইতিমধ্যে প্রায় ২০টি গুদাম ঘরে আগুন লেগে গিয়েছে।

ঘটনাস্থলে দমকলের ইঞ্জিন এলে হোস পাইপ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায় দমকল কর্মীরা। তবে ইতিমধ্যে ফায়ার বল আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে তার মধ্যে ঝড়ো হাওয়া দিচ্ছে। এর ফলে আগুন আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীকে অনেকটাই বেগ পেতে হয়। আগুন নেভানোর কাজে প্রথমে দমকলের দশটি ইঞ্জিনের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি ইঞ্জিনকে আনা হয়। এমনকি তারাতলার সমস্ত রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তারাতলার ময়লা ডিপোতে পর পর ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া -এর বেশ কিছু গোডাউন রয়েছে। শনিবার সেখানেই আগুন লাগে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সাত থেকে আটটি গোডাউনে আগুন লেগে যায়। দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে সেটি। গোডাউনগুলির মধ্যে কোথাও কোথাও বৈদ্যুতিন সামগ্রীও মজুত থাকার ফলে দাহ্য বস্তুগুলি জ্বলতে শুরু করে। আগুন নেভাতে গিয়ে নাকাল হতে হয় দমকলকর্মীদের। কারণ, আবহাওয়াও প্রতিকূল।

বৃষ্টি নামলেও সঙ্গে হাওয়ার দাপট থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে সহজেই। সিভিল ডিফেন্স ও দমকল কর্মীরা যৌথ ভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করছে। তারাতলায় এফসিআই -এর যে গোডাউনে আগুন লেগেছে, সেখানে বন্দরের বিভিন্ন সামগ্রী মজুত রয়েছে। কী ভাবে এই আগুন লাগল তা এখনই স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। এলাকায় ঢোকার বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এই গোডাউনে প্রচুর দাহ্য বস্তু মজুত, তাই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে দমকল কর্মীদের। যে এলাকায় এই আগুন লেগেছে, তার আশেপাশে কোনও বাড়ি নেই ঠিকই। তবে যেহেতু শতাধিক গোডাউন রয়েছে এই চত্বরে, স্বভাবতই বাড়ছে উদ্বেগ।