সানওয়ার হোসেন, ঢোলাহাট:- দক্ষিণ ২৪ পরগণার ঢোলাহাট হলো সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার। ঢোলাহাটেই অবস্থিত একটি উচ্চমাধ্যমিক স্কুল, ঢোলা হাই স্কুল। প্রায় সাড়ে তিন হাজার ছাত্রছাত্রী সমন্বয়ে এই স্কুল এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ শতাংশ ছাত্র ছাত্রী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। জনপ্রিয়তা পাচ্ছে স্কুলের রেজাল্টেও। পিছিয়ে নেই খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কাজকর্মেও।

এদিন ঢোলা হাই স্কুলে দুদিন ব্যাপি বাৎসরিক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটলো জমজমাট ভাবে। প্রথম দিনে শিক্ষক শিক্ষিকা সমন্বয়ে পথসভা দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। অঙ্কন প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, তাৎক্ষণিক বক্তৃতায় ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়দিনে ছিল পুরস্কার বিতরণী সভা। অ্যাকাডেমিক পুরস্কার, স্পোর্টসের পুরস্কার, ইন্টার স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার প্রদান হয়। ছাত্র ছাত্রীরা শিক্ষামূলক সঙ্গীত ও পরিবেশন করেন। যাঁদের শিক্ষামূলক ভাষণে অনুষ্ঠান সমৃদ্ধ ঘটে তাঁরা হলেন- কুল্পির বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদার, কুল্পি পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মধক্ষ নারায়ণ চন্দ্র ভৌমিক, শিশু-নারীশিক্ষা-স্বাস্থ্য(কুল্পি) কর্মধক্ষা রশিদা কয়াল, ঢোলা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সাহানা বিবি হালদার,উপপ্রধান ফয়জুল পিয়াদা,জেলা পরিষদের সদস্য অহিদুজ্জামান বৈদ্য, স্কুলের প্রাক্তন সম্পাদক বাকিবুল্লা হালদার, ঢোলা স্কুলের সভাপতি সইদুল কয়াল, সদস্য সমীর কুমার পুরকাইত প্রমুখ।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম লস্কর জানান “আমরা পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মনেরও বিকাশ ঘটানোর দিকেও খেয়াল রাখি। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক রেজাল্টের ক্ষেত্রেও আমার স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা বেশ আশাপদ ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে প্ৰতি বছর আমরা প্রাক্তন কৃতি ছাত্র ছাত্রীদের সংবর্ধনা দিয়ে বর্তমান দেরকে উৎসাহিত করি। “বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদার বলেন “ঢোলা হাই স্কুলের রেজাল্ট এখন বেশ ভালো,প্রায় ৩৬০০ ছাত্রছাত্রী-এটা বেশ প্রশংসনীয় ব্যাপার। কন্যাশ্রীর দৌলতে মেয়েরা আগের থেকে অনেক বেশি পড়াশুনা করছে। কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রান্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্কুলগুলোতে গ্রান্ট পেতে একটু অসুবিধা হচ্ছে। তবে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেষ্টা করছেন কি করে গ্রান্টগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। দুদিনের এই বাৎসরিক সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানে স্কুলের প্রায় সমস্ত শিক্ষক – শিক্ষিকা ও ছাত্র – ছাত্রীরা আনন্দ উপভোগ করেন।