বাইজিদ মন্ডল, ডায়মন্ড হারবারঃ- রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আবারও আস্থা রাখলো ডায়মন্ড হারবার পুরসভার মানুষ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা মতোই প্রায় বিরোধী শূন্য করে আবারও ডায়মন্ড হারবার পুরসভার দখল নিল তৃণমূল। ডায়মন্ড হারবার পুরসভার মোট আসন ১৬টি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের অন্যান্য ১০৮ টি পুরসভার সাথে ডায়মন্ড হারবার পুরসভার ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের প্রচারে তৃণমূল নেতারা বার বার বলেছিল এবার ডায়মন্ড হারবার বিরোধী শূন্য বোর্ড হবে। ভোটের ফলাফলে তারই প্রতিফলন ঘটলো।

বুধবার ছিল ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিন। এদিন সকাল ৭ টা থেকে ডিসিআরসি হিসাবে বেছে নেওয়া ডায়মন্ড হারবার ফকির চাঁদ কলেজ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও কাউন্টিং এজেন্টরা আসতে শুরু করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে ছিলেন ডায়মন্ড হারবার মহকুমা শাসক ও এসডিপিও মিতুন কুমার দে ও অন্যান্য আধিকারিক সহ পুলিশ কর্মীরা।

সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। আসনের ফলাফল ঘোষণা শেষ হতেই দেখা যায় ১২ নম্বর আসনে বিদায়ী বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রণব দাস ১০৫৬ ভোটে বিজেপির শুকদেব দাস কে হারিয়েছেন। এছাড়াও ১ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের দিবেন্দু হালদার ১০৪৮ ভোটে, ২নম্বর ওয়ার্ডে মঞ্জু মন্ডল ২৭৫ ভোটে, ৩নম্বর ওয়ার্ডে সুব্রত হালদার ৮২৪ ভোটে। ৪নং ওয়ার্ড তৃণমূলের রাজশ্রী দাস ১২৯১ ভোটে, ৫নং ওয়ার্ডে মৌমিতা দাস ২৩১২ ভোটে, ৬নং ওয়ার্ডে রূপালী ভট্টাচার্য ৮০২৮ ভোটে। ৭নং ওয়ার্ডে ডা: তমল হালদার ৮৮৮ ভোটে, ৮নং ওয়ার্ডে মৃদুল কুমার হালদার ৮৯৯ ভোটে , ৯নং ওয়ার্ডে স্বপন দাস ১৭১১ভোটে, ১০নং ওয়ার্ডে মীরা হালদার ১৫৯৩ ভোটে, ১১নং ওয়ার্ডে অলোক হালদার ৭১০ ভোটে, ১৩নং ওয়ার্ডে অমিত সাহা ১৩৯১ ভোটে, ১৪নং ওয়ার্ডে পূজা সহ ১০২৬ ভোটে, ১৫নং ওয়ার্ডে পীযূষ কান্তি বারিক ২২২২ ভোটে ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে দেবকী হালদার ১৫২৯ ভোটে জিতেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জয়লাভ করায় ডায়মন্ড হারবার শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা সবুজ আবির খেলছেন কোথাও আবার বক্স বাজিয়ে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা।

জেতার পর বিদায়ী বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রণব দাস বলেন, এই জয় মা মাটি মানুষের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়, উন্নয়নের জয়। আগামী দিনে আরও কাজ করতে হবে। এরপরকে পুরপ্রধান হবে সেটা দলের নেতৃত্ব ঠিক করবেন। বিজেপির পরাজিত প্রার্থীদের পক্ষ থেকে জনতার এই রায় আমরা মাথা পেতে নিয়েছি। কেন এই ফল হলো তার পর্যালোচনা হবে।